ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করাকে ‘মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার’ মতো সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা অবাধ তথ্য প্রবাহের পরিপন্থী। এমন সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও অপরিণামদর্শী আখ্যায়িত করে সংস্থাটি বলেছে, এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন থাকলেও ভোটারদের যোগাযোগ ও জরুরি সহায়তার প্রয়োজন উপেক্ষা করে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অযৌক্তিক। এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা ও স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।‘
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের পেশাগত দায়িত্বে বড় বাধা তৈরি করবে। বর্তমানে সাংবাদিকরা রিয়েল-টাইমে সংবাদ ও ভিডিও পাঠাতে মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মোবাইল ফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই বিধিনিষেধের ফলে মিডিয়ার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সহিংসতা ও জালিয়াতির ঘটনা আড়াল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
টিআইবি মনে করে, এ ধরনের কড়াকড়ি ভোটারদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তাঁদের অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করতে পারে। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে বিকেলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের দিন সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে কোনো বাধা নেই।
এর আগে গত রোববার ইসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা কার্যকরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।