আজ ৬ ফেব্রুয়ারি বব মার্লের জন্মদিন। তিনি ছিলেন বঞ্চিতদের কণ্ঠস্বর, জ্যামাইকান আত্মপরিচয়ের প্রতীক ও রেগে সংগীতের জাগরণের দূত। 'নো ওম্যান, নো ক্রাই' তাঁর জনপ্রিয় গান। কিন্তু এই গানটি অনেক সময় শ্রোতারা ভুলভাবে বুঝেছেন। এই গান তৈরির ইতিহাস, গীতিকারের নাম নিয়ে বিতর্ক ও গানের বার্তা নিয়ে এই লেখা।
গৌতম কে শুভ

গানের দুনিয়ায় বব মার্লে সব প্রজন্মের কাছেই চর্চিত নাম। তিনি ছিলেন গায়ক, গীতিকার, সুরকার, গিটারবাদক ও সংগীত প্রযোজক। বিশ্বজুড়ে তাঁর গান ছড়িয়ে দিয়েছে প্রেম, প্রতিবাদ, আধ্যাত্মিকতা আর আশার বার্তা। পুরো জীবনজুড়ে বব মার্লে গানে গানে গরিব ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার, সামাজিক সমতা ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছেন। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ করে তিনি পরিণত হয়েছিলেন আক্রান্ত মজলুমের মসিহায়। যার সবই ছিল রাস্তাফারিয়ান আন্দোলনের প্রতি তাঁর সংহতি প্রকাশের মাধ্যম।
বলা হয়, বব মার্লে ছিলেন তৃতীয় বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক সুপারস্টার। অনেক তরুণ তাঁর গান শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছে, নিজের জীবনের কষ্ট ভুলে নেচেছে ‘রেগে’ মিউজিকের তালে। জ্যামাইকান এই শিল্পী বারবার প্রমাণ করে গেছেন, গানও হতে পারে শক্তিশালী প্রতিবাদের ভাষা।
তরুণ প্রজন্মও যদি তাঁর একটি গান থেকেও তাঁকে চিনে থাকে, তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে 'নো ওম্যান, নো ক্রাই'। এই গানটির শিরোনাম বিভিন্ন সময়ে ভুলভাবে ব্যাখাও হয়েছে। শ্রোতারা অনেক সময় ভেবেছেন, ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’ মানে ‘জীবনে নারী নেই, তো কান্নাও নেই’। যেন নারীরা জীবনে শুধুমাত্র কষ্টেরই উৎস!
অথচ গানটির মূল বার্তা ছিল একেবারে বিপরীত দিকে। বব মার্লে গানটি গেয়েছিলেন জ্যামাইকান ইংরেজি (প্যাটোয়া) ভাষায়। প্যাটোয়া ভাষায় এই বাক্যটি ‘নো ওম্যান, নুহ ক্রাই’ (No woman, nuh cry), যার অর্থ হলো- ‘না, নারী, কেঁদো না।’
যেখানে কষ্টের মধ্যেও কেউ কাউকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছে, অতীত হয়ত কঠিন ছিল, কিন্তু সামনে ভালো সময় আসছে। কেঁদো না, প্রিয়।
তখন বব মার্লের জীবনে চলছে তীব্র টানাপোড়েন। ১৯৬৬ সালে বিয়ে করেছিলেন ভালোবাসার মানুষ রিটা অ্যান্ডারসনকে (রিটা মার্লে)। স্বপ্ন ছিল গানের, কিন্তু পকেট ফাঁকা। বিয়ের মাত্র দু’দিন পরই মার্লে কিংস্টন ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন আমেরিকার ডেলাওয়্যারে, মায়ের কাছে।

সেখানে গাড়ি কারখানায় যুক্ত হন শ্রমিকের হিসেবে। উদ্দেশ্য টাকা জমিয়ে গানের স্বপ্ন পূরণ। এরপর আট মাস পর ফিরে যান জ্যামাইকায়। শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়, এক নতুন 'মার্লে'র যাত্রা। সেই যাত্রাতেই ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে সত্তরের দশকের শুরুর দিকে তৈরি হয়েছিল এই গান।
এই যাত্রায় মার্লের সঙ্গী ছিল ট্রেঞ্চটাউনের কাঁচা রাস্তা, গন্ধমাখা গলি আর দরিদ্র জীবনের কাঁটা-বিছানো দিন। এর সবটাই ওঠে এসেছে মার্লের এই ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’ গানে।
বব মার্লে অ্যান্ড দ্য ওয়েইলার্সের সপ্তম অ্যালবাম ‘ন্যাটি ড্রেড’ (১৯৭৪)-এ গানটি প্রথম শোনা যায়। তবে গানটি সত্যিকারের জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ১৯৭৫ সালে লন্ডনের লাইসিয়াম থিয়েটারের এক ঐতিহাসিক লাইভ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে, যা পরে ‘লাইভ!’ অ্যালবামে প্রকাশিত হয়। আজও সেটিই সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া, দাগ কাটা ভার্সন।
‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’ নিয়ে অন্যতম আলোচিত বিষয় সম্ভবত গীতিকারের নাম। গানটি শুনলে মনোযোগী শ্রোতাদের মাথায় গীতিকার হিসেবে বব মার্লের নামই আসে। কিন্তু অ্যালবাম কভারের দিকে তাকালে দেখা যায় গীতিকারের নাম ‘ভিনসেন্ট ফোর্ড’।
আসলে ব্যাপারটা একটু জটিল। এই অ্যালবাম প্রকাশের আগেই বব মার্লে চেয়েছিলেন তাঁর নিজের গানের স্বত্ব নিজের হাতে রাখতে। কিন্তু আগে থেকেই চুক্তি ছিল কেম্যান মিউজিকের সঙ্গে। এই চুক্তির বাঁধা এড়াতে তিনি তাঁর লেখা গানগুলোর গীতিকার হিসেবে বন্ধু ও পরিবারের নাম ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন।
তাই গানটির গীতিকার হিসেবে নাম দেন তাঁর শৈশবের বন্ধু টাটা ফোর্ডের, যিনি একসময় মার্লেকে খাওয়াতেন, আশ্রয় দিতেন। অনেকেই বলেন এটা ছিল বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা আর অর্থনৈতিক সহায়তার এক নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ।
তবে বিতর্ক তৈরি হয় এ নিয়েও! ফোর্ড কখনো কখনো বলতেন, গানটি তিনিই লিখেছেন। এদিকে অনেক গবেষক ও মার্লের ব্যান্ডের সদস্যদের মতে গানটি মূলত মার্লেই লিখেছিলেন। কেউ কেউ বলেন ফোর্ড হয়ত কিছু কথা লিখেছিলেন কিংবা গানের অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, কিন্তু পুরো গান তিনি লেখেননি।
মার্লের তৎকালীন ম্যানেজার ডন টেইলর জানিয়েছিলেন ফোর্ডকে শুধুই আর্থিক সুবিধার জন্য গীতিকার হিসেবে তাঁর নাম দেয়া হয়েছিল। আর বব মার্লের স্ত্রী রিটা মার্লের কথা অনুসারে গানটি মার্লেই লিখেছিলেন। তবে টানাপোড়েনের সময়ের বন্ধুকে সম্মান জানাতেই ফোর্ডকে গীতিকার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
বব মার্লের ব্যান্ডের বেস গিটারিস্ট অ্যাস্টন ব্যারেট মনে করেন ফোর্ড এই গানে কিছুটা অবদান রেখেছিলেন। আর কিবোর্ডিস্ট বার্নার্ড হার্ভে বলেছিলেন, ‘আমি গানটি লেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু জানি না। তবে মানুষকে এটা বুঝতে হবে, বব তাঁর জীবনের কথা গাইতেন’।
মার্লে-বিশেষজ্ঞ রজার স্টেফেন্সের কথায় জানা যায়, ১৯৭৫ সালে জ্যামাইকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের এক সাক্ষাৎকারে বব মার্লে বলেছিলেন, তিনি টাটার বাড়ির উঠোনে গিটার টিউন করতে করতে গানটি লিখেছিলেন। আরেক বব মার্লে গবেষক ভিভিয়েন গোল্ডম্যান মনে করেন, ‘এই গানটি হয়ত দুইজনের কথোপকথন থেকে এসেছে। এভাবেই বব মার্লের সৃজনশীলতা কাজ করত’।

২০১৪ সালে কেম্যান মিউজিক এটা নিয়ে মামলা করে। তারা দাবি করেছিল গানটিতে গীতিকারের নাম হিসেবে ফোর্ডের নাম দেওয়ায় কোম্পানী আর্থিকভাবে ঠকেছে। আদালত শেষ পর্যন্ত বব মার্লের উত্তরাধিকারীদের পক্ষেই রায় দেয়। তবু এই বিতর্ক আজও আলোচিত।
গানের শুরুর দিকটা প্রেমিকার সঙ্গে ট্রেঞ্চটাউনের জীবনের স্মৃতিচারণা। জীবনের কঠিন বাস্তবতায়ও না কাঁদার আহ্বান এসেছে এখানে। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। সব শান্ত হবে। এই ট্রেঞ্চটাউনের সময়টাকেই তিনি মনে করতেন জীবনের মূল্যবান অধ্যায়। কারণ সেখানে ছিল ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, মানুষের স্পর্শ আর মানুষ চেনার আসল রঙ।
অনেক বন্ধুকে হারাতে হয়েছে পথে চলতে চলতে। অনেক বিশ্বাস ভেঙেছে। কিন্তু তাই বলে কি অতীত ভুলে যাওয়া যায়? না, যায় না। কারণ বন্ধুত্বের শেকড় গাঁথা থাকে অতীতের অভিজ্ঞতায়।
এই গানে আরো ওঠে এসেছে মার্লের বন্ধু জর্জিয়ার নাম। যিনি রাতে কাঠের আগুন জ্বালিয়ে রাখতেন যাতে সকালের আলোয় তারা কর্নমিল পোরিজ (জ্যামাইকানদের সকালের প্রিয় খাবার) রান্না করতে পারেন। এই ছোট ছোট মুহূর্তই বুনে দেয় গানের গভীর আবেগ।
সবশেষে গানের অন্যতম প্রধান বার্তা ‘এভরিথিংস গ’না বি অলরাইট’
আসলে এই কথাটা শুধু প্রেমিকাকেই বলা নয়। যেন এটা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকেই বলা; যারা কষ্টে আছেন, সংগ্রামে আছেন, কিন্তু এখনো হাল ছাড়েননি। কষ্টে জর্জরিত জীবনেও কেউ যদি পাশে থাকে, কেউ যদি বলে, কাঁদো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। সেই কথার মধ্যেই তৈরি হয় শক্তি, সাহস, এবং নতুন করে বাঁচার ইচ্ছা।
এই গান যেন নিজের বাড়িতে ফিরে আসা। যেন পুরোনো অ্যালবামের ছবি দেখে চোখ ভাসানো স্মৃতিতে। কারণ আমরাও তো হারিয়েছি মানুষ, পুরোনো সময় আর ছোট ছোট সুখ।
সবমিলে ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’ অনন্ত আশাবাদের প্রতীক, যা সময় পেরিয়ে এখনও আমাদের জীবনে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। বব মার্লে যে কথাগুলো বহু বছর আগে বলেছিলেন, আজকের অস্থির পৃথিবীতেও তা আমাদের সান্ত্বনা দেয়, সাহস জোগায়। বিশেষ করে যে নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক লড়াইয়ের মুখোমুখি হন--তাঁদের প্রতি এই গান যেন এক আশ্বাস। তাই এই গান মূলত জীবনজয়ের এক আন্তরিক মন্ত্র।

গানের দুনিয়ায় বব মার্লে সব প্রজন্মের কাছেই চর্চিত নাম। তিনি ছিলেন গায়ক, গীতিকার, সুরকার, গিটারবাদক ও সংগীত প্রযোজক। বিশ্বজুড়ে তাঁর গান ছড়িয়ে দিয়েছে প্রেম, প্রতিবাদ, আধ্যাত্মিকতা আর আশার বার্তা। পুরো জীবনজুড়ে বব মার্লে গানে গানে গরিব ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার, সামাজিক সমতা ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছেন। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ করে তিনি পরিণত হয়েছিলেন আক্রান্ত মজলুমের মসিহায়। যার সবই ছিল রাস্তাফারিয়ান আন্দোলনের প্রতি তাঁর সংহতি প্রকাশের মাধ্যম।
বলা হয়, বব মার্লে ছিলেন তৃতীয় বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক সুপারস্টার। অনেক তরুণ তাঁর গান শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছে, নিজের জীবনের কষ্ট ভুলে নেচেছে ‘রেগে’ মিউজিকের তালে। জ্যামাইকান এই শিল্পী বারবার প্রমাণ করে গেছেন, গানও হতে পারে শক্তিশালী প্রতিবাদের ভাষা।
তরুণ প্রজন্মও যদি তাঁর একটি গান থেকেও তাঁকে চিনে থাকে, তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে 'নো ওম্যান, নো ক্রাই'। এই গানটির শিরোনাম বিভিন্ন সময়ে ভুলভাবে ব্যাখাও হয়েছে। শ্রোতারা অনেক সময় ভেবেছেন, ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’ মানে ‘জীবনে নারী নেই, তো কান্নাও নেই’। যেন নারীরা জীবনে শুধুমাত্র কষ্টেরই উৎস!
অথচ গানটির মূল বার্তা ছিল একেবারে বিপরীত দিকে। বব মার্লে গানটি গেয়েছিলেন জ্যামাইকান ইংরেজি (প্যাটোয়া) ভাষায়। প্যাটোয়া ভাষায় এই বাক্যটি ‘নো ওম্যান, নুহ ক্রাই’ (No woman, nuh cry), যার অর্থ হলো- ‘না, নারী, কেঁদো না।’
যেখানে কষ্টের মধ্যেও কেউ কাউকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছে, অতীত হয়ত কঠিন ছিল, কিন্তু সামনে ভালো সময় আসছে। কেঁদো না, প্রিয়।
তখন বব মার্লের জীবনে চলছে তীব্র টানাপোড়েন। ১৯৬৬ সালে বিয়ে করেছিলেন ভালোবাসার মানুষ রিটা অ্যান্ডারসনকে (রিটা মার্লে)। স্বপ্ন ছিল গানের, কিন্তু পকেট ফাঁকা। বিয়ের মাত্র দু’দিন পরই মার্লে কিংস্টন ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন আমেরিকার ডেলাওয়্যারে, মায়ের কাছে।

সেখানে গাড়ি কারখানায় যুক্ত হন শ্রমিকের হিসেবে। উদ্দেশ্য টাকা জমিয়ে গানের স্বপ্ন পূরণ। এরপর আট মাস পর ফিরে যান জ্যামাইকায়। শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়, এক নতুন 'মার্লে'র যাত্রা। সেই যাত্রাতেই ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে সত্তরের দশকের শুরুর দিকে তৈরি হয়েছিল এই গান।
এই যাত্রায় মার্লের সঙ্গী ছিল ট্রেঞ্চটাউনের কাঁচা রাস্তা, গন্ধমাখা গলি আর দরিদ্র জীবনের কাঁটা-বিছানো দিন। এর সবটাই ওঠে এসেছে মার্লের এই ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’ গানে।
বব মার্লে অ্যান্ড দ্য ওয়েইলার্সের সপ্তম অ্যালবাম ‘ন্যাটি ড্রেড’ (১৯৭৪)-এ গানটি প্রথম শোনা যায়। তবে গানটি সত্যিকারের জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ১৯৭৫ সালে লন্ডনের লাইসিয়াম থিয়েটারের এক ঐতিহাসিক লাইভ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে, যা পরে ‘লাইভ!’ অ্যালবামে প্রকাশিত হয়। আজও সেটিই সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া, দাগ কাটা ভার্সন।
‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’ নিয়ে অন্যতম আলোচিত বিষয় সম্ভবত গীতিকারের নাম। গানটি শুনলে মনোযোগী শ্রোতাদের মাথায় গীতিকার হিসেবে বব মার্লের নামই আসে। কিন্তু অ্যালবাম কভারের দিকে তাকালে দেখা যায় গীতিকারের নাম ‘ভিনসেন্ট ফোর্ড’।
আসলে ব্যাপারটা একটু জটিল। এই অ্যালবাম প্রকাশের আগেই বব মার্লে চেয়েছিলেন তাঁর নিজের গানের স্বত্ব নিজের হাতে রাখতে। কিন্তু আগে থেকেই চুক্তি ছিল কেম্যান মিউজিকের সঙ্গে। এই চুক্তির বাঁধা এড়াতে তিনি তাঁর লেখা গানগুলোর গীতিকার হিসেবে বন্ধু ও পরিবারের নাম ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন।
তাই গানটির গীতিকার হিসেবে নাম দেন তাঁর শৈশবের বন্ধু টাটা ফোর্ডের, যিনি একসময় মার্লেকে খাওয়াতেন, আশ্রয় দিতেন। অনেকেই বলেন এটা ছিল বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা আর অর্থনৈতিক সহায়তার এক নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ।
তবে বিতর্ক তৈরি হয় এ নিয়েও! ফোর্ড কখনো কখনো বলতেন, গানটি তিনিই লিখেছেন। এদিকে অনেক গবেষক ও মার্লের ব্যান্ডের সদস্যদের মতে গানটি মূলত মার্লেই লিখেছিলেন। কেউ কেউ বলেন ফোর্ড হয়ত কিছু কথা লিখেছিলেন কিংবা গানের অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, কিন্তু পুরো গান তিনি লেখেননি।
মার্লের তৎকালীন ম্যানেজার ডন টেইলর জানিয়েছিলেন ফোর্ডকে শুধুই আর্থিক সুবিধার জন্য গীতিকার হিসেবে তাঁর নাম দেয়া হয়েছিল। আর বব মার্লের স্ত্রী রিটা মার্লের কথা অনুসারে গানটি মার্লেই লিখেছিলেন। তবে টানাপোড়েনের সময়ের বন্ধুকে সম্মান জানাতেই ফোর্ডকে গীতিকার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
বব মার্লের ব্যান্ডের বেস গিটারিস্ট অ্যাস্টন ব্যারেট মনে করেন ফোর্ড এই গানে কিছুটা অবদান রেখেছিলেন। আর কিবোর্ডিস্ট বার্নার্ড হার্ভে বলেছিলেন, ‘আমি গানটি লেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু জানি না। তবে মানুষকে এটা বুঝতে হবে, বব তাঁর জীবনের কথা গাইতেন’।
মার্লে-বিশেষজ্ঞ রজার স্টেফেন্সের কথায় জানা যায়, ১৯৭৫ সালে জ্যামাইকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের এক সাক্ষাৎকারে বব মার্লে বলেছিলেন, তিনি টাটার বাড়ির উঠোনে গিটার টিউন করতে করতে গানটি লিখেছিলেন। আরেক বব মার্লে গবেষক ভিভিয়েন গোল্ডম্যান মনে করেন, ‘এই গানটি হয়ত দুইজনের কথোপকথন থেকে এসেছে। এভাবেই বব মার্লের সৃজনশীলতা কাজ করত’।

২০১৪ সালে কেম্যান মিউজিক এটা নিয়ে মামলা করে। তারা দাবি করেছিল গানটিতে গীতিকারের নাম হিসেবে ফোর্ডের নাম দেওয়ায় কোম্পানী আর্থিকভাবে ঠকেছে। আদালত শেষ পর্যন্ত বব মার্লের উত্তরাধিকারীদের পক্ষেই রায় দেয়। তবু এই বিতর্ক আজও আলোচিত।
গানের শুরুর দিকটা প্রেমিকার সঙ্গে ট্রেঞ্চটাউনের জীবনের স্মৃতিচারণা। জীবনের কঠিন বাস্তবতায়ও না কাঁদার আহ্বান এসেছে এখানে। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। সব শান্ত হবে। এই ট্রেঞ্চটাউনের সময়টাকেই তিনি মনে করতেন জীবনের মূল্যবান অধ্যায়। কারণ সেখানে ছিল ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, মানুষের স্পর্শ আর মানুষ চেনার আসল রঙ।
অনেক বন্ধুকে হারাতে হয়েছে পথে চলতে চলতে। অনেক বিশ্বাস ভেঙেছে। কিন্তু তাই বলে কি অতীত ভুলে যাওয়া যায়? না, যায় না। কারণ বন্ধুত্বের শেকড় গাঁথা থাকে অতীতের অভিজ্ঞতায়।
এই গানে আরো ওঠে এসেছে মার্লের বন্ধু জর্জিয়ার নাম। যিনি রাতে কাঠের আগুন জ্বালিয়ে রাখতেন যাতে সকালের আলোয় তারা কর্নমিল পোরিজ (জ্যামাইকানদের সকালের প্রিয় খাবার) রান্না করতে পারেন। এই ছোট ছোট মুহূর্তই বুনে দেয় গানের গভীর আবেগ।
সবশেষে গানের অন্যতম প্রধান বার্তা ‘এভরিথিংস গ’না বি অলরাইট’
আসলে এই কথাটা শুধু প্রেমিকাকেই বলা নয়। যেন এটা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকেই বলা; যারা কষ্টে আছেন, সংগ্রামে আছেন, কিন্তু এখনো হাল ছাড়েননি। কষ্টে জর্জরিত জীবনেও কেউ যদি পাশে থাকে, কেউ যদি বলে, কাঁদো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। সেই কথার মধ্যেই তৈরি হয় শক্তি, সাহস, এবং নতুন করে বাঁচার ইচ্ছা।
এই গান যেন নিজের বাড়িতে ফিরে আসা। যেন পুরোনো অ্যালবামের ছবি দেখে চোখ ভাসানো স্মৃতিতে। কারণ আমরাও তো হারিয়েছি মানুষ, পুরোনো সময় আর ছোট ছোট সুখ।
সবমিলে ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’ অনন্ত আশাবাদের প্রতীক, যা সময় পেরিয়ে এখনও আমাদের জীবনে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। বব মার্লে যে কথাগুলো বহু বছর আগে বলেছিলেন, আজকের অস্থির পৃথিবীতেও তা আমাদের সান্ত্বনা দেয়, সাহস জোগায়। বিশেষ করে যে নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক লড়াইয়ের মুখোমুখি হন--তাঁদের প্রতি এই গান যেন এক আশ্বাস। তাই এই গান মূলত জীবনজয়ের এক আন্তরিক মন্ত্র।

সময়টা পাগলামির, অচেনা রাস্তা কিন্তু লক্ষ্য ছিল ভাষার দরদ। কবিতার ভেতর অশ্রুকণার মতো জীবন্ত এক অনুভূতি খুঁজে পাবার নেশায় তখন দুনিয়া ভুলতে বসেছি। রাস্তায় সামান্য এক টুকরো মরা ডাল দেখলেও তার ভেতর খুঁজে পেতাম করুণাভার চোখ, বিদ্রূপের হাসি, জীবনের অর্থহীনতা।
১০ মিনিট আগে
শুক্রবার আলো ফোটার আগেই, ভোরে অলোকলোকে চলে গেলেন বিখ্যাত বাউল ও লোকসংগীত শিল্পী সুনীল কর্মকার। তিনি শুধু একজন ব্যক্তিই ছিলেন না, ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তার অসংখ্য ভক্ত সাধক রয়েছেন, যাঁরা তার মৃত্যুতে হয়ে পড়েছেন অসহায় ও নিঃসঙ্গ।
২ ঘণ্টা আগে
দেখার ভুল না হয়ে থাকলে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন শিল্পী সুনীল কর্মকার।
৩ ঘণ্টা আগে
সুনীল কর্মকারকে প্রথমবার দেখি সেই শৈশবে। নিজের গ্রামের এক আসরে। তখনও রাত জেগে গান শোনার অনুমতি ছিল না। রাত দশটার দিকে বাউলরা এসে পৌঁছলেন আসরে। খুব মনে পড়ছে। ধান ও আখ কাটা হয়ে যাওয়ার পর যে খেত বিরান পড়ে থাকে তাতে খেজুরের রস জ্বাল করার বিশাল আড়ার পাশে মঞ্চ বানানো হয়েছিল।
৫ ঘণ্টা আগে