জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সন্তানের টানে বাংলাদেশে এসে কারাগারে, ৮ মাস পর ভারতে ফিরলেন ফাল্গুনী রায়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৯: ৫৩
দর্শনা বন্দরের আইসিপি সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের বৈঠক। সংগৃহীত ছবি

সন্তানের টানে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন ফাল্গুনী রায়। তবে প্রাক্তন স্বামী তাঁকে মারধরের পর পাসপোর্ট ছিনি নেওয়ার পর দেশে ফিরতে গিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে আটক হন তিনি। এরপর আট মাসের বেশি সময় বাংলাদেশের কারাগারে থাকতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার (৮ মার্চ) সকালে দেশে ফিরে গেছেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বন্দরের আইসিপি সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফাল্গুনী রায় ভারতের গেদে সীমান্তে বিএসএফর কাছে হস্তান্তর করেছে চুয়াডাঙ্গা ৬-বিজিবি। এ সময় বিজিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা ক্যাম্পের সুবেদার এনামুল হক ও বিএসএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গেদে ক্যাম্পের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডার রাজেশ কুমার।

ফাল্গুনী রায় ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার শিংড়ি টেংরা কলোনি গ্রামের বিশ্বনাথ রায়ের মেয়ে। গত বছরের ২০২৫ সালের জুন মাসে বৈধ পথে বাংলাদেশে আসেন তিনি। তাঁর প্রাক্তন স্বামীর সংসারে থাকা ছেলের সঙ্গে দেখা করতে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি এলাকায় যান। সেখানেই দুর্ভাগ্যের মুখোমুখি হন তিনি।

পতাকা বৈঠকের পর ফাল্গুনী রায়ের বয়ান, আইনি প্রক্রিয়ার বরাত দিয়ে ৬-বিজিবি জানিয়েছে, ফাল্গুনী রায়ের প্রথম স্বামী তাঁকে মারধর করে পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এতে অসহায় অবস্থায় ফাল্গুনী রায় ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে কোনো উপায় না দেখে পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে ফেরার চেষ্টা করেন। এ সময় মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাঁকে আটক করেন।

এদিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মহেশপুর থানায় ফাল্গুনী রায়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। তাঁকে ৪ মাস ৫ দিনের কারাদণ্ড দেন আদালত। তবে দুই দেশের অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায় সাজা শেষ হলেও তাঁকে মোট ৮ মাস ১০ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে গত ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় দূতাবাস তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য ছাড়পত্র দেয়।

বিজিবি জানায়, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ফাল্গুনী রায়কে ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে আনা হয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হলেও আজ রোববার তাঁকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন জানান, রোববার সকালে দর্শনা আইসিপি সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ফাল্গুনী রায়কে ভারতের গেদে সীমান্তে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সম্পর্কিত