জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ওপর জোর কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকদের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ০৯
সংবাদ সম্মেলনে পর্যবেক্ষণ দলের সদস্যরা

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ব্যাপক রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নতুন সরকারের প্রতি নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশের গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছেন মিশনের সদস্যরা।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন মিশনের চেয়ারম্যান ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–এর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নতুন সরকারকে নীতি গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘কমনওয়েলথের অন্যতম প্রধান সুপারিশ হবে অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া, যাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সব গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে।’ তিনি মনে করেন, এমন অন্তর্ভুক্তি দেশে চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আকুফো-আডো বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিফলন এবং এটি এমন এক বাস্তবতা, যা উপেক্ষা করা যায় না।’

নির্বাচন মূল্যায়নে তিনি জানান, প্রার্থীদের বৈচিত্র্য, বিপুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুক্তিসঙ্গত ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করেছে। তাঁর মতে, ‘বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এসব উপাদান নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে মূল্যায়নে সহায়তা করেছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে আকুফো-আডো বলেন, গণভোটের ফলাফল জুলাই মাসের সংস্কার সনদ বাস্তবায়নে নতুন সরকারের বাধ্যবাধকতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ‘সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের দায় এখন সরাসরি জনগণের গণভোট থেকে এসেছে। ফলে যিনিই ক্ষমতায় আসুন না কেন, এটি বাস্তবায়ন তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক।’

তিনি আরও বলেন, ভোটারদের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো প্রস্তাবের পর্যায় অতিক্রম করেছে এবং এখন সংসদ ও সরকার উভয়ই এর মাধ্যমে আবদ্ধ। ফলে বাস্তবায়নের দায় আরও দৃঢ় হয়েছে।

বাংলাদেশে ইসলামী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির সমাপ্তি ঘটাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের দল গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারে এবং বিশ্বের বহু দেশেই এমন উদাহরণ রয়েছে।

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক মিশন আগামী মাসগুলোতে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সংস্কার বিষয়ে বিস্তারিত সুপারিশ উপস্থাপন করবে বলে জানানো হয়।

কমনওয়েলথের এই প্রতিনিধিরা জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট এবং শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন আয়োজনের জন্য ভোটার, নির্বাচনী কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনের প্রশংসা করে। একই সঙ্গে প্রবাসী নাগরিক ও কারাবন্দীদের জন্য ডাকযোগে ভোটের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশকেও ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত