পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ ও মামুন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ ও মামুনের বিষয়ে শুনানি শেষে কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। স্ট্রিম ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মামলায় সেনাবাহিনীর সাবেক দুই কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। আগামী ৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৯ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আওয়ামী লীগের সময়ে গুমের মামলায় এবং সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাবেক জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফেনীতে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন করা হয়েছিল। সকালে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ট্রাইব্যুনাল-২ এ আবেদনটি করেন।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মিরপুর মডেল থানায় দেলোয়ার হত্যা মামলায় মামুন খালেদকে এবং অপর একটি মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আয়নাঘর’ কেন্দ্রিক গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এক-এগারোর সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুতর অভিযোগও আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আয়নাঘরের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড করেছেন। এক-এগারোর সময় সেফ হাউজের মতো জায়গা সৃষ্টি করে সেখানে মানুষকে ধরে নির্যাতন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অসংখ্য অভিযোগ ইতোমধ্যে আমাদের কাছে এসেছে।’

এক-এগারোর সময় দেওয়া আইনি দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) তাদের বিচারে বাধা সৃষ্টি করবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে। মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধের অভিযোগ যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হয়, স্বাধীনভাবে বিচারকার্য চলবে। কোনো ইনডেমনিটি আমাদের কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’

৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর এই দুজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত