‘মর্যাদা’ বিবেচনায় কারাগারে ডিভিশন চাইলেন শাহরিয়ার কবির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ৪৮
কারাগারে ডিভিশন চাইলেন শাহরিয়ার কবির। ছবি: সংগৃহীত

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারান্তরীণ, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলির সভাপতি শাহরিয়ার কবির মর্যাদা বিবেচনায় কারাগারে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল এদিন কোনো নির্দেশ দেননি।

আদালতে শাহরিয়ার কবিরের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পিএম মেহদী হাসান। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘আমার মক্কেল এক বছর সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং সমাজের একজন মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি। কারাবিধি অনুযায়ী বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে তিনি কারাগারে ডিভিশন পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।’

এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে এর বিরোধিতা করে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ মামলায় দুই মাস আগে শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরা পরোয়ানা) জারি হয়েছে। তিনি ডিভিশন পেলে অন্যরা কেন পাবেন না? এ ছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উচিত, আগে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়া। সেখানে না পেলে তারা আদালতে আসতে পারেন।’

শুনানি শেষে আইনজীবী মেহদী হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘কবি-সাহিত্যিক শাহরিয়ার কবিরের ডিভিশন চেয়ে আমরা আজ একটি আবেদন করেছি। ট্রাইব্যুনাল আমাদের কথা শুনেছেন এবং বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন। আমরা আশাবাদী আদালত পরে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।’

শাপলা চত্বরের এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ৭ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার কবিরসহ ৬ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাজির করা অপর পাঁচ আসামি হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

নারী উন্নয়ন নীতি ও শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে গড়ে উঠেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ আন্দোলনের বিপরীতে রাজপথে নেমে সংগঠনটি বেশি পরিচিতি পায়। শাহবাগের আন্দোলনে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে তারা।

সেই সমাবেশ ঘিরে পুরো মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা চলে। পরে রাতে যৌথ অভিযানে মতিঝিল থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। শাপলা চত্বরের ওই রাতের অভিযানে ৬১ জন নিহত হন বলে সে সময় এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’। যদিও তৎকালীন পুলিশের দাবি ছিল, রাতের অভিযানে কেউ মারা যাননি, আর দিনভর সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ১১।

দীর্ঘ এক যুগ এ ঘটনা নিয়ে কোনো বিচারিক পদক্ষেপ না থাকলেও, চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের (২০২৪) ২০ অগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ে।

ওই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ট্রাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও গণজাগরণ মঞ্চের তৎকালীন মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

সম্পর্কিত