বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ পার হবে: ইরানি রাষ্ট্রদূত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ০৬
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি শিশুদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শোক সমাবেশ ও প্রদর্শনী। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, ইরান এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে এবং দ্রুত জাহাজগুলো গন্তব্যে পৌঁছাবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক শোক সমাবেশ ও প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের ভাই। যুদ্ধের কারণে হরমুজে আটকা পড়া অনেক জাহাজের মধ্যে বাংলাদেশের জাহাজও আছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এগুলোর হরমুজ পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা নেব।’

চলমান শান্তি আলোচনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান সব সময় মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনার পক্ষপাতী এবং কোনো অন্যায্য আলটিমেটাম তারা গ্রহণ করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে শান্তি চায় না, বরং তারা ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন এবং পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন ঠেকানোর জন্য গণহত্যা চালাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, মার্কিন ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে কারণ ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষে রাস্তায় নেমেছে। এ সময় ইরানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী ইসরায়েল ইরানের শিশুদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে। ইরানের স্কুলে বোমা হামলা চালিয়ে শিশুদের হত্যা করা বিশ্ববিবেকের ওপর চপেটাঘাত। তিনি অবিলম্বে এই আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানান।

প্রদর্শনীতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি শিশুদের স্মরণে প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ ও ছবি প্রদর্শিত হয়। কর্মসূচিতে কয়েক শ শিক্ষার্থী মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনবিরোধী লড়াইয়ে শামিল হতে রক্তমাখা হাতের ছাপ দেন এবং যুদ্ধবিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই গণস্বাক্ষরের স্মারকলিপি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে পাঠানো হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সাবেক নেত্রী মরিয়ম জামিলা তামান্না, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান এবং জালালউদ্দিন রুমি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে নিহত শিশুদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সম্পর্কিত