সড়ক দুর্ঘটনা

সেন্টমার্টিন পরিবহনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ১২: ৩৯
সেইন্টমার্টিন পরিবহন। সংগৃহীত ছবি

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পাঁজরের পাঁচটি হাড় ভাঙার ঘটনায় ইফাদ মোটরস লিমিটেডের মালিকানাধীন দ্বিতল সেন্টমার্টিন পরিবহনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে অনুমোদনহীন ওই দ্বিতল বাসটির রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে আবেদনে।

রোববার (৩ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ওই দুর্ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থ ও ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ উল্লেখ করে রিটটি দায়ের করেন।

রিটকারী আইনজীবী জানান, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা ৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ইফাদ মোটরসের মালিকানাধীন সেন্টমার্টিন পরিবহন (ঢাকা মেট্রো বি-১২-২৮৮১) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারায়। দ্রুতগতির বাসটি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে পার্শ্ববর্তী জমিতে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেলপার যাত্রীদের ফেলে পালিয়ে যান।

আইনজীবী বাহাউদ্দিন আল ইমরান জানান, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মুহূর্তেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভয়ে যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের ভেতর থেকে বের করে আনা হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রিটকারী আইনজীবীর বাম পাশের পাঁজরের পাঁচটি হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘদিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকায় তিনি শারীরিক, মানসিক ও চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

ক্ষতিপূরণ ও অনুমোদনহীন বাসটির লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি রিটে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বেশ কিছু যুগান্তকারী নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক-মহাসড়কে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোর অনিয়ন্ত্রিত গতিসীমা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিটি পরিবহনের দৃশ্যমান স্থানে বাসের ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য সংবলিত ডিজিটাল ‘কিউআর কোড’ স্থাপন।

এছাড়া বারবার দুর্ঘটনা ঘটা স্থানগুলোর কাছাকাছি ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে ও স্থানীয় থানা পুলিশের সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক উদ্ধারকারী দল গঠনেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে আবেদনে। রিটের স্বপক্ষে গত বছরের ২২ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘আরামের আড়ালে মারণফাঁদ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়েছে।

রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), হাইওয়ে পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক), বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারিকে বিবাদী করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এর আগে বিবাদীদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন রিটকারী আইনজীবী। কিন্তু সেই নোটিশের কোনো সন্তোষজনক জবাব বা পদক্ষেপ না দেখায় শেষ পর্যন্ত তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত