নিত্যপণ্যের বাজারে উত্তাপ, বৃষ্টির অজুহাতে বাড়ছে দাম

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বাজারদর। স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজধানীর বাজারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। বৈশাখের শুরুতে সবজির দাম কিছুটা কমেছিল। মুরগি দামও ২০ থেকে ৫০ টাকা নেমেছিল। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলে গেছে।

বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে সবজিসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, তদারকির অভাবে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।

শনিবার (২ মে) সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় প্রতিটি সবজি কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। ৩০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০। লাউ আকার ভেদে ঠেকেছে ৭০-৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৭০ টাকা। ২০-৩০ টাকা বেড়ে বরবটি, করলা ও ঝিঙা ছুঁয়েছে প্রায় ১০০ টাকা।

৪০ থেকে ৫০ টাকার শশা কিনতে হয়েছে ১০০ টাকায়। নতুন করে বাজারে আসায় কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। এ ছাড়া ২০ টাকা বেড়ে বেগুন ১২০, ১০ টাকা বেড়ে পটল ৮০, পেঁপে ৭০-৮০ এবং টমেটো ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আনিস বলেন, বাজারে সবজি গত কয়েকদিনে কম এসেছে। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম। অনেক বেশি দামে কেনা লাগছে।

রাজধানীর বাড্ডা থেকে বাজার করতে আসা বাবুল আক্তার মন্টু বলেন, সব জিনিসের দাম বেশি। আগের সপ্তাহের চেয়ে ২০-৩০ টাকা বেশি। নিয়মিত তদারকি থাকলে বৃষ্টির অজুহাতে এত দাম বাড়াত না।

আদা-রসুনের দাম চড়ছেই

কয়েক সপ্তাহ ধরে আদা-রসুনের দাম বাড়ছে। দেশি আদা ২৮০ থাকলেও ২০ টাকা বেড়ে থাই আদা ১৬০ এবং চায়না আদা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া চায়না বড় রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৪০। দেশি রসুন পাওয়া যাচ্ছে আগের দাম ৯০ টাকায়। স্থিতিশীল পেঁয়াজ ৪০ ও আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি।

মুরগি ও ডিমের দাম বাড়তি

মুরগি ও ডিমের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। বাজারে ফার্মের লাল ডিমের হালি ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫; সাদা ডিম ৪২ টাকা। হাঁসের ডিমের হালি আগের মতোই ৬০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহে ১৭০-১৭৫ টাকা থাকলেও, এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-১৯০। সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৭০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩০০-৩৫০। আর লেয়ার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায়।

চাল, ডাল ও তেলের দাম চড়া

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল আগেও মতোই বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের মিনিকেট ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা এবং নাজিরশাইল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আঠাশ চালের দাম ৫২ থেকে ৫৪ টাকা। আর চিনিগুড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।

এ ছাড়া দেশি মসুর ডাল ১৬০ ও ভারতীয় মসুর ডাল ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডাল ১৬০ ও ছোলার ডাল ১০০ টাকা কেজি।

সম্প্রতি লিটারে ৪ টাকা দাম বাড়ানো বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত ১৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২ লিটার ৩৯০ ও ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৯৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা কেজি।

সম্পর্কিত