কাজী সায়মা তাবাসসুম তুলি এখন সফলতার পথে এগিয়ে চলেছেন। এই পথকে আরও দীর্ঘ করতে চান তিনি। সায়মা প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে অল্প পুঁজি দিয়েও শুরু করা সম্ভব। ক্যাম্পাসের অনেক নতুন উদ্যোক্তার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি। নিজের শখ পূরণ করতে গিয়েই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে তুলেছেন ‘বনবিবি’র ছোট্ট ভুবন।
ফাবিহা বিনতে হক

রাজশাহীর মেয়ে কাজী সায়মা তাবাসসুম তুলি। পড়ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে। পড়াশোনার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের উদ্যোগ—‘বনবিবি’। মায়ের দেওয়া ১৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পোশাক এখন ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে সারাদেশে।
ফেসবুক পেজভিত্তিক ‘এফ-কমার্স’ উদ্যোগ বনবিবি ব্লক ও হাতের কাজের শাড়ি, বিভিন্ন ডিজাইনের স্কার্ট, টপস বিক্রি করে। সায়মার ডিজাইন করা সব পোশাকেই থাকে দেশীয় ছোঁয়া। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া বনবিবি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা।
শাড়ির প্রতি সায়মার অন্যরকম ভালোবাসা ছিল আগে থেকেই। অনলাইনে শাড়ি দেখতেন তিনি। তখন মনে হতো, ‘ডিজাইন বা রং এমন না হয়ে অন্যরকম হলে বোধহয় আরও ভালো লাগত!’ কিংবা ‘এই কালার কম্বিনেশন হলে আমি নিজেই কিনতাম।’
এ ছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠায় হাতখরচের টাকাও থাকে সীমিত। সায়মা বলেন, ‘আমি খুব শৌখিন মানুষ। থাকা-খাওয়ার পর সেই টাকা দিয়ে শখের জিনিস কেনা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। উদ্যোগ শুরু করার এটাও আরেকটা কারণ।’

নিজের উপার্জিত টাকায় শখ মেটানোর ইচ্ছা থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার কথা ভাবেন তুলি। তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যা নিজের শখের কাজ হবে, আবার সেখান থেকে কিছু আয়ও হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শেষের দিকের কথা। উদ্যোক্তা হিসেবে সায়মার প্রথম পুঁজি ছিল মায়ের দেওয়া ১৫০০ টাকা। সেই টাকা দিয়ে তিনি পাঁচটি হাফ-সিল্ক শাড়ি কেনেন। সঙ্গে কেনেন কিছু রং আর কাঠের ডাইস। গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে বসে নিজের মনের মতো করে শাড়িগুলোতে নকশা করেন। ক্যাম্পাস খোলার পর সেই পাঁচটি শাড়ি নিয়ে আসেন নিজের হলে। বন্ধুদের সেই শাড়িগুলো দেখান।
প্রথম দেখাতেই বন্ধুরা শাড়িগুলো খুব পছন্দ করে ফেলে। ৮০০ টাকা পিস হিসেবে পাঁচটি শাড়িই সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি হয়ে যায়। সেই চার হাজার টাকাই হয় সায়মার ‘বনবিবি’ থেকে প্রথম উপার্জন।

প্রথম চেষ্টাতেই বন্ধুদের এই সাড়া তুলির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। বন্ধুরা তাঁকে নতুন কাজের অর্ডার দেয়। কেউ বলে, ‘এটাই বানিয়ে দে, কিন্তু অন্য কালারে।’ কেউ কাস্টমাইজড ডিজাইনের আবদার করে। এভাবেই একটি-দুটি করে কাজ বাড়তে থাকে। শুরু হয় ‘বনবিবি’র পথচলা।
বিনিয়োগ হিসেবে কখনো নিজের হাতখরচ, কখনো বন্ধুদের টিউশনির জমানো টাকা
বন্ধুদের থেকে যতই সাড়া পান না কেন, ব্যবসা করার জন্য যে মূলধন দরকার হয়, তা ছিল না সায়মার। তিনি জানান, বাড়ি থেকে মাসে চার-পাঁচ হাজার টাকা পেতেন খাওয়া-দাওয়ার খরচ হিসেবে। সেখান থেকে টাকা বাঁচানো শুরু করেন। নিজের আরাম বাদ দিয়ে খাওয়ার টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। খাওয়ার জন্য এক-দুই হাজার টাকা রাখতেন। বাকি তিন হাজার টাকা দিয়ে নতুন কাঁচামাল কিনতেন।
নতুন কেনা কাঁচামাল দিয়ে শাড়ি বানিয়ে বিক্রি করতেন। সেখান থেকে যে লাভ হতো, তা দিয়ে আবার দ্বিগুণ কাঁচামাল কিনতেন। তিনটির জায়গায় পাঁচটি, পাঁচটির জায়গায় দশটি শাড়ি বানানো শুরু করেন। এভাবেই তিল তিল করে বনবিবিকে বড় করেছেন। আলাদা কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়েছেন।

এ ছাড়া সায়মা জানান, উদ্যোগের প্রসারে বন্ধুদের ভূমিকা ছিল অনেক। একসঙ্গে অনেক অর্ডার চলে আসলে কাঁচামাল কেনার টাকা থাকত না। তখন কাছের বন্ধুরা আর্থিকভাবে সাপোর্ট করেছেন। অনেক সময় টিউশনির জমানো টাকা দিয়েও বন্ধুরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রোডাক্ট ডেলিভারি হওয়ার পর তুলি আবার তাঁদের টাকা ফেরত দিয়েছেন।
সায়মার ফেসবুক পেজের প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছেন তাঁর এক ইনফ্লুয়েন্সার বন্ধু। একদিন বনবিবির তৈরি স্কার্ট পরে ভিডিও শুট করেন তিনি। সেই ভিডিও ফেসবুকে প্রায় দুই মিলিয়ন ভিউ হয়। এরপর থেকে বনবিবির পরিচিতি আর বিক্রি অনেকটা বেড়ে যায়।
মায়ের দেওয়া টাকা দিয়ে উদ্যোগ শুরু করলেও এখন পরিবারের চিন্তা মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে। এ ছাড়া মাস্টার্সের শেষ পর্যায়ে এসে চাকরির জন্য মানসিক চাপও রয়েছে। কিন্তু সায়মা পড়াশোনা ও ব্যবসাকে সমানতালে সামলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধা বৃত্তিও পেয়েছেন প্রতি বছর।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকার দূরত্বও কখনো কখনো সায়মাকে ভুগিয়েছে। শুরুতে ঢাকা শহরে গিয়ে বাজার ঘুরে ঘুরে ভালো কাঁচামাল সংগ্রহ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। কোথায় ভালো রং পাওয়া যায়, কোথায় ভালো কাপড়—সবকিছু তাঁকে একা হাতেই সামলাতে হয়েছে।

বনবিবির ব্লক প্রিন্টের কাজ তিনি এখনও নিজের হাতেই করেন। দিনের বেলা ক্লাস, টিউটোরিয়াল, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার চাপ থাকে। তাই কাজের জন্য তিনি বেছে নেন রাতকে। ডেলিভারির কাজ ক্যাম্পাসে তিনি নিজেই করেন।
কাস্টমারের সঙ্গে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও সেগুলোও ঠান্ডা মাথায় সামলেছেন সায়মা। মূলত উদ্যোগের প্রতি ভালোবাসা ও ইতিবাচক মনোভাবই তাঁকে এ কাজে সাহস জুগিয়েছে।
বর্তমানে সায়মার ব্যবসায়ের পরিধি অনেক বেড়েছে। পড়াশোনার ফাঁকে কাজ করেও মাসে গড়ে এক শ’র বেশি অর্ডার পান তিনি। উৎসবের মৌসুমে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যেমন পয়লা বৈশাখের সময় ৭৫-৮০টি অর্ডার আসে। এক সপ্তাহেই বিক্রি লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
নিজের তৈরি করা কাস্টমাইজড শাড়ি ও স্কার্ট এখন শুধু জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নেই। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে বনবিবির পোশাক। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও পৌঁছে যাচ্ছে সায়মার হাতের কাজ। আবার ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যাওয়ার সময় তাঁর পেজ থেকে শখ করে পোশাক কিনে নিয়ে যান। এই বিষয়টি সায়মাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করে।
উদ্যোক্তা কাজী সায়মা তাবাসসুম তুলি এখন সফলতার পথে এগিয়ে চলেছেন। এই পথকে আরও দীর্ঘ করতে চান তিনি। সায়মা প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে অল্প পুঁজি দিয়েও শুরু করা সম্ভব। ক্যাম্পাসের অনেক নতুন উদ্যোক্তার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি। নিজের শখ পূরণ করতে গিয়েই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে তুলেছেন ‘বনবিবি’র ছোট্ট ভুবন।

রাজশাহীর মেয়ে কাজী সায়মা তাবাসসুম তুলি। পড়ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে। পড়াশোনার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের উদ্যোগ—‘বনবিবি’। মায়ের দেওয়া ১৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পোশাক এখন ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে সারাদেশে।
ফেসবুক পেজভিত্তিক ‘এফ-কমার্স’ উদ্যোগ বনবিবি ব্লক ও হাতের কাজের শাড়ি, বিভিন্ন ডিজাইনের স্কার্ট, টপস বিক্রি করে। সায়মার ডিজাইন করা সব পোশাকেই থাকে দেশীয় ছোঁয়া। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া বনবিবি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা।
শাড়ির প্রতি সায়মার অন্যরকম ভালোবাসা ছিল আগে থেকেই। অনলাইনে শাড়ি দেখতেন তিনি। তখন মনে হতো, ‘ডিজাইন বা রং এমন না হয়ে অন্যরকম হলে বোধহয় আরও ভালো লাগত!’ কিংবা ‘এই কালার কম্বিনেশন হলে আমি নিজেই কিনতাম।’
এ ছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠায় হাতখরচের টাকাও থাকে সীমিত। সায়মা বলেন, ‘আমি খুব শৌখিন মানুষ। থাকা-খাওয়ার পর সেই টাকা দিয়ে শখের জিনিস কেনা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। উদ্যোগ শুরু করার এটাও আরেকটা কারণ।’

নিজের উপার্জিত টাকায় শখ মেটানোর ইচ্ছা থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার কথা ভাবেন তুলি। তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যা নিজের শখের কাজ হবে, আবার সেখান থেকে কিছু আয়ও হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শেষের দিকের কথা। উদ্যোক্তা হিসেবে সায়মার প্রথম পুঁজি ছিল মায়ের দেওয়া ১৫০০ টাকা। সেই টাকা দিয়ে তিনি পাঁচটি হাফ-সিল্ক শাড়ি কেনেন। সঙ্গে কেনেন কিছু রং আর কাঠের ডাইস। গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে বসে নিজের মনের মতো করে শাড়িগুলোতে নকশা করেন। ক্যাম্পাস খোলার পর সেই পাঁচটি শাড়ি নিয়ে আসেন নিজের হলে। বন্ধুদের সেই শাড়িগুলো দেখান।
প্রথম দেখাতেই বন্ধুরা শাড়িগুলো খুব পছন্দ করে ফেলে। ৮০০ টাকা পিস হিসেবে পাঁচটি শাড়িই সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি হয়ে যায়। সেই চার হাজার টাকাই হয় সায়মার ‘বনবিবি’ থেকে প্রথম উপার্জন।

প্রথম চেষ্টাতেই বন্ধুদের এই সাড়া তুলির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। বন্ধুরা তাঁকে নতুন কাজের অর্ডার দেয়। কেউ বলে, ‘এটাই বানিয়ে দে, কিন্তু অন্য কালারে।’ কেউ কাস্টমাইজড ডিজাইনের আবদার করে। এভাবেই একটি-দুটি করে কাজ বাড়তে থাকে। শুরু হয় ‘বনবিবি’র পথচলা।
বিনিয়োগ হিসেবে কখনো নিজের হাতখরচ, কখনো বন্ধুদের টিউশনির জমানো টাকা
বন্ধুদের থেকে যতই সাড়া পান না কেন, ব্যবসা করার জন্য যে মূলধন দরকার হয়, তা ছিল না সায়মার। তিনি জানান, বাড়ি থেকে মাসে চার-পাঁচ হাজার টাকা পেতেন খাওয়া-দাওয়ার খরচ হিসেবে। সেখান থেকে টাকা বাঁচানো শুরু করেন। নিজের আরাম বাদ দিয়ে খাওয়ার টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। খাওয়ার জন্য এক-দুই হাজার টাকা রাখতেন। বাকি তিন হাজার টাকা দিয়ে নতুন কাঁচামাল কিনতেন।
নতুন কেনা কাঁচামাল দিয়ে শাড়ি বানিয়ে বিক্রি করতেন। সেখান থেকে যে লাভ হতো, তা দিয়ে আবার দ্বিগুণ কাঁচামাল কিনতেন। তিনটির জায়গায় পাঁচটি, পাঁচটির জায়গায় দশটি শাড়ি বানানো শুরু করেন। এভাবেই তিল তিল করে বনবিবিকে বড় করেছেন। আলাদা কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়েছেন।

এ ছাড়া সায়মা জানান, উদ্যোগের প্রসারে বন্ধুদের ভূমিকা ছিল অনেক। একসঙ্গে অনেক অর্ডার চলে আসলে কাঁচামাল কেনার টাকা থাকত না। তখন কাছের বন্ধুরা আর্থিকভাবে সাপোর্ট করেছেন। অনেক সময় টিউশনির জমানো টাকা দিয়েও বন্ধুরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রোডাক্ট ডেলিভারি হওয়ার পর তুলি আবার তাঁদের টাকা ফেরত দিয়েছেন।
সায়মার ফেসবুক পেজের প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছেন তাঁর এক ইনফ্লুয়েন্সার বন্ধু। একদিন বনবিবির তৈরি স্কার্ট পরে ভিডিও শুট করেন তিনি। সেই ভিডিও ফেসবুকে প্রায় দুই মিলিয়ন ভিউ হয়। এরপর থেকে বনবিবির পরিচিতি আর বিক্রি অনেকটা বেড়ে যায়।
মায়ের দেওয়া টাকা দিয়ে উদ্যোগ শুরু করলেও এখন পরিবারের চিন্তা মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে। এ ছাড়া মাস্টার্সের শেষ পর্যায়ে এসে চাকরির জন্য মানসিক চাপও রয়েছে। কিন্তু সায়মা পড়াশোনা ও ব্যবসাকে সমানতালে সামলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধা বৃত্তিও পেয়েছেন প্রতি বছর।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকার দূরত্বও কখনো কখনো সায়মাকে ভুগিয়েছে। শুরুতে ঢাকা শহরে গিয়ে বাজার ঘুরে ঘুরে ভালো কাঁচামাল সংগ্রহ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। কোথায় ভালো রং পাওয়া যায়, কোথায় ভালো কাপড়—সবকিছু তাঁকে একা হাতেই সামলাতে হয়েছে।

বনবিবির ব্লক প্রিন্টের কাজ তিনি এখনও নিজের হাতেই করেন। দিনের বেলা ক্লাস, টিউটোরিয়াল, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার চাপ থাকে। তাই কাজের জন্য তিনি বেছে নেন রাতকে। ডেলিভারির কাজ ক্যাম্পাসে তিনি নিজেই করেন।
কাস্টমারের সঙ্গে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও সেগুলোও ঠান্ডা মাথায় সামলেছেন সায়মা। মূলত উদ্যোগের প্রতি ভালোবাসা ও ইতিবাচক মনোভাবই তাঁকে এ কাজে সাহস জুগিয়েছে।
বর্তমানে সায়মার ব্যবসায়ের পরিধি অনেক বেড়েছে। পড়াশোনার ফাঁকে কাজ করেও মাসে গড়ে এক শ’র বেশি অর্ডার পান তিনি। উৎসবের মৌসুমে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যেমন পয়লা বৈশাখের সময় ৭৫-৮০টি অর্ডার আসে। এক সপ্তাহেই বিক্রি লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
নিজের তৈরি করা কাস্টমাইজড শাড়ি ও স্কার্ট এখন শুধু জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নেই। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে বনবিবির পোশাক। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও পৌঁছে যাচ্ছে সায়মার হাতের কাজ। আবার ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যাওয়ার সময় তাঁর পেজ থেকে শখ করে পোশাক কিনে নিয়ে যান। এই বিষয়টি সায়মাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করে।
উদ্যোক্তা কাজী সায়মা তাবাসসুম তুলি এখন সফলতার পথে এগিয়ে চলেছেন। এই পথকে আরও দীর্ঘ করতে চান তিনি। সায়মা প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে অল্প পুঁজি দিয়েও শুরু করা সম্ভব। ক্যাম্পাসের অনেক নতুন উদ্যোক্তার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি। নিজের শখ পূরণ করতে গিয়েই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে তুলেছেন ‘বনবিবি’র ছোট্ট ভুবন।

গতকাল ছিল পয়লা মে, মেহনতের দিন। আজ ২ মে, মগজ-বুদ্ধি আর হাসির রাজা ‘জয় বাবা মানিকনাথ’-এর জন্মদিন। ‘মানিক’ মানে সত্যজিৎ রায়ের ডাক নাম। এই মানুষটা (মানে সত্যজিৎ রায়) আমাদের নিয়ে কত সুন্দর করে মজা করে গেছেন!
১ ঘণ্টা আগে
আমি বড় হয়েছি প্রায় এক ধরনের নিঃসঙ্গতার ভেতর দিয়ে। যখন আমার সমবয়সীরা বাইরে খেলাধুলা করেছে, হাসি-আনন্দে কোলাহলে স্মৃতি গড়ে তুলছিল, তখন আমার জগৎ ছিল অন্যরকম নিরিবিলি, নীরব। আমার শৈশবের সেই সময়গুলো গড়ে উঠেছিল হলদে হয়ে আসা বইয়ের পাতায়, মৃদু স্বরে ভেসে আসা চিন্তার স্রোতে, আর এক টুকরো নরম আলোয় ঘেরা পড়ার মু
৩ ঘণ্টা আগে
একাকিত্ব প্রথম প্রথম অস্বস্তিকরই লাগতে পারে। অন্যদের দেখে মনে হতে পারে, সবাই যেন কারও না কারও সঙ্গে এসেছে। হাসছে, গল্প করছে, ছবি তুলছে। কিন্তু এখানেই সলো ট্রাভেলের অন্য গল্পটা শুরু হয়।
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে সত্যজিৎ রায় অস্বাভাবিক ‘নীরব’ ছিলেন। তাঁর কোনো কথায় কিংবা কাজে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিশেষ স্থান পায়নি। এই নীরবতা কৌতূহলোদ্দীপক। ফলে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আছে। যেমন একবার দেশের একটি দৈনিকে কবি দাউদ হায়দার লেখেন:
৭ ঘণ্টা আগে