leadT1ad

ঢাকায় এক আসনে সর্বোচ্চ প্রার্থী ১৪, সর্বনিম্ন দুই

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ১১
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষে ১৬০ জনকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এসব আসনে বাতিল হয়েছে ৭৪ জনের মনোনয়নপত্র। এছাড়া দুটি মনোনয়নপত্রের ঘোষণা স্থগিত এবং একটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) এসব আসনের তিন রিটার্নিং কর্মকর্তা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা প্রশাসক প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এর আগে ১৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই দিন পর্যন্ত ঢাকার ২০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ২৩৮টি।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ২০ আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে ঢাকা-৫-এ। আর সর্বনিম্ন দু’জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ঢাকা-২ আসনে। একমাত্র ঢাকা-২০ আসনে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। আর ঢাকা-১৮ আসনে বৈধ প্রার্থীর চেয়ে বাতিল ঘোষিত প্রার্থীর সংখ্যা বেশি।

একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, ছোটখাট দাপ্তরিক ভুলে কিছুটা ছাড় দিলেও অনেক বিষয়ে এবার কড়া ছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ছোটখাট ভুল, যেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের সময় সমাধান সম্ভব আমরা তা ঠিক করতে দিচ্ছি। কিন্তু আইনে যে ভুলগুলো অমার্জনীয়, যেমন– হলফনামায় সই না থাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোটারের সই না পাওয়া, এসব ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা চাই সবই বৈধ হোক।’

তবে মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা চাইলে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থিতা ফিরে পেলে তাঁদের নাম পুনরায় তালিকায় সংযোজন করা হবে।

ঢাকার ৫টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ডিসি রেজাউল করিম বলেন, যারা বৈধ প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকে হাতেহাতেই ২১ তারিখে প্রতীক নিতে আসতে চিঠি দিয়েছি। একইভাবে যাদেরটা বাতিল হয়েছে, তারা কীভাবে আপিল করবেন তা চিঠিতে জানিয়েছি।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ইসিতে আপিল করতে পারবেন। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি এই আপিল নিষ্পত্তি হবে।

ঢাকা মহানগরীর ১৫ আসনে গড়ে লড়বেন আটজন

ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনে ১৩০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি আসনে প্রার্থী থাকবেন গড়ে আটজনের বেশি।

রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, তথ্যে গড়মিল, ঋণ খেলাপি হওয়া, দলীয় মনোনয়নে যথাযথ ব্যক্তির সই না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে এসব আসনে ৬২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। স্থগিত রাখা হয়েছে একটি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আটজন। এর মধ্যে ৬ জনেরটা বৈধ ও বাতিল করা হয়েছে দুজনের মনোনয়নপত্র। ঢাকা-৫ আসনে সর্বোচ্চ ১৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৪ জন বৈধ প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা-৬ আসনে সাতজনের মধ্যে ৫ জন মনোনয়নপত্র বৈধ ও ২ জনের বাতিল হয়েছে। ঢাকা-৭-এ মনোনয়নপত্র দেওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনেরটা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এর বাইরে ঢাকা-৮ আসনে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৪ জনের বাতিল, ঢাকা-৯ আসনে ১১ জন বৈধ ও ৩ জনের বাতিল, ঢাকা-১০ আসনে ৯ জনের বৈধ ও ৪ জন বাতিল, ঢাকা-১১ আসনে ৯ জনের বৈধ ও ২ জনের বাতিল, ঢাকা-১২ আসনে ১১ জনের বৈধ ও ৭ জনের বাতিল, ঢাকা-১৪ আসনে ৯ জনের বৈধ ও ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-১৬ আসনে ১৩ জনের মধ্যে ১০ জন, ঢাকা-১৭ আসনে ১৭ জনের মধ্যে ১০ জন, ঢাকা-১৮ আসনে ১৭ জনের মধ্যে মাত্র ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা-১৩ আসনের ১১ প্রার্থীর মধ্যে খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, বিএনপির ববি হাজ্জাজসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে৷ আর ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ ৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

ঢাকা জেলার পাঁচ আসনে বৈধ প্রার্থী ৩০

ঢাকা জেলার মধ্যে পড়া পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ৪৪টি। এরমধ্যে ১২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এসব আসনে লড়বেন ৩০ প্রার্থী। এ ছাড়া ১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত ও অন্যটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এসব আসনের মধ্যে ঢাকা-১-এ সাতজনের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী নূরুল ইসলামসহ দুজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ঢাকা-২ আসনে বাতিল হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল হকের মনোনয়ন। বাকি দুজনের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা-৩ আসনে ১৬ জনের মধ্যে আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৯ আসনে ১১ জনের মধ্যে মাত্র একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আর ঢাকা-২০ আসনের ছয়জনের সবারই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত