leadT1ad

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি বিনিয়োগ জোরদার করবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ২২: ৫২
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানিনিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি এআরটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। চুক্তিটি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানিনিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ), ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) এবং কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

খলিলুর রহমান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি), দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মারকোসুর এবং অন্যান্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিডা, বেজা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকার শপথ গ্রহণের পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরাকান আর্মির প্রধান উভয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা আগে ঘটেনি।

এদিকে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০টি মিশনে বাংলাদেশের নিজস্ব ভবনে চ্যান্সারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশে অবস্থিত অন্যান্য মিশন ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব মিশনের ভাড়া বাবদ সরকারকে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।

তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের নিজস্ব কূটনৈতিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠাকে সরকার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে চ্যান্সারি ভবন ও কূটনৈতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত