চাপে নয়, বাস্তবতার নিরিখেই পেছাচ্ছে ইউপি নির্বাচন: ইসি আনোয়ার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সংগৃহীত ছবি
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সংগৃহীত ছবি

বাস্তবতার নিরিখেই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময় পেছানো হয়েছে, কারও চাপে নয় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হচ্ছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন (ইসি) আশা রাখে, নভেম্বর-ডিসেম্বরে যেসব পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে, সেগুলোকে ডিস্টার্ব না করে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে, সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সেজন্য ওই সময়টা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই ব্যাপারে ইসি চিন্তাভাবনা করছে।’

জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির দিকে নির্বাচন শুরু হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘হতে পারে। সাধারণত বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই হয়। সেই বিবেচনা করেই আমরা শিডিউল নির্ধারণ করব। আমরা আশা রাখি, এসব পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে গেলে জানুয়ারির দিকে আমরা ইনশাআল্লাহ করতে পারব।’

সরকারের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘যোগাযোগ তো বিভিন্ন ধরনের। চিঠি চালাচালি একটা যোগাযোগ, টেলিফোনে কথাবার্তা একটা যোগাযোগ, সামনাসামনি দেখাদেখি একটা যোগাযোগ। আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি যে, কেউ কাউকেই অফিশিয়ালি বলে না যে নির্বাচনের তারিখটা এত তারিখে করতে হবে বা এত তারিখ হলে সুবিধা হবে। এভাবে পত্র যোগাযোগের কোনো নজির কখনো নেই।’

আগামী বছরের নির্বাচনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রমজান মাস, ঈদ, পূজা, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা—এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্যেই আমাদেরকে স্লট বা সব দিক বিবেচনায় রেখে যাতে করা যায়, সেভাবেই আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’

জানুয়ারিতে শুরু হলে ৬ জুনের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সবকিছুই কিন্তু সম্ভাব্য। সুনির্দিষ্টভাবে ৬ জুনের ভেতরেই যে শেষ করে ফেলবেন, তা নয়; বরং এটা একটা টাইমলাইন ধরে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। এর মধ্যে সব মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা আরও বাড়বে। সীমানার ডিসপুট বা নতুন সৃজন হওয়ার কারণে কিছু আইনি জটিলতা থাকবেই। ৪ হাজার ৫০০-এর কিছু বেশি ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা। ধাপে ধাপে করতে গেলেও একেকটি ধাপে সংখ্যাটা অনেক বড় হয়ে যাবে। তো সবকিছু হিসাব-নিকাশ করেই আমরা করব ইনশাআল্লাহ।’

সরকারের চাপে ইসি এই সিদ্ধান্ত নিল কি না, জানতে চাইলে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আপনাদের কাছে কি মনে হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন কারও চাপে এ পর্যন্ত কোনো কাজ করেছে? আপনাদেরকেই জিজ্ঞেস করি, আপনারা তো সার্বক্ষণিকভাবে ইসিতে থাকেন। নির্বাচন কমিশন বাস্তববর্জিত কোনো কাজ করে না, আইনের বাইরে যায় না, সংবিধানের বাইরেও যায় না। আমরা সংবিধান, আইন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই কাজ করি।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত