ad

গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্ল্যাশের নামে নতুন প্রজাতির সাপের নামকরণ, কিন্তু কেন?

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৩২
গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্ল্যাশের নামে নতুন প্রজাতির সাপের নামকরণ। স্ট্রিম ডেস্ক
গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্ল্যাশের নামে নতুন প্রজাতির সাপের নামকরণ। স্ট্রিম ডেস্ক

বিখ্যাত রকব্যান্ড গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্ল্যাশকে সবাই চেনেন গিটার বাজানোর জন্য। কিন্তু সংগীতের বাইরে তাঁর আরও একটি বড় আগ্রহ আছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি সাপ ও বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপ ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসার জন্য এবার পেলেন অদ্ভুত সম্মান। বিজ্ঞানীরা নিউ গিনিতে পাওয়া একটি নতুন প্রজাতির সাপের নাম রেখেছেন তাঁর নামে।

সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম লিয়েলাফিস স্ল্যাশি (Lielaphis slashi)। ইংরেজিতে একে বলা হচ্ছে ‘স্ল্যাশের গ্রাউন্ডস্নেক’। গবেষকদের মতে, এটি লিয়েলাফিস গণের ২০তম প্রজাতি। সাপটি পাওয়া গেছে পাপুয়া নিউ গিনির বনাঞ্চলে। দেখতে লালচে-বাদামি। শরীরে কোনো দাগ বা নকশা নেই। পেটের দিকটা সাদা বা হালকা ক্রিম রঙের। সাপটি প্রায় ২৮ ইঞ্চি লম্বা হতে পারে।

সাপটির দেখা মিলেছিল ২০০৬ সালে

এই সাপের গল্প অবশ্য পুরোনো। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে পাপুয়া নিউ গিনির সানদাউন প্রদেশের বনে প্রথম এমন সাপের দেখা পান যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস্টোফার অস্টিন।

এই প্রজাতির সাপ নিশাচর। দিনের আলোয় খুব একটা দেখা যায় না। প্রথমবার সাপটি দেখে গবেষক অস্টিন বুঝতে পারেননি যে এটি নতুন কোনো প্রজাতি। তাঁর ধারণা ছিল, এটি আগে থেকেই পরিচিত সাপ। তাই নমুনাগুলো প্রথমে লিয়েলাফিস পারভাস প্রজাতির বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল।

সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম লিয়েলাফিস স্ল্যাশি। সংগৃহীত ছবি
সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম লিয়েলাফিস স্ল্যাশি। সংগৃহীত ছবি

কিন্তু পরে সাপগুলো নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা শুরু হয়। বিজ্ঞানীরা প্রথমে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করেন। এরপর শরীরের গঠন, আঁশের সংখ্যা ও বিন্যাসসহ নানা বৈশিষ্ট্য অন্য লিয়েলাফিস প্রজাতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।

তখনই পরিষ্কার হয়, সাপগুলো আসলে অন্যদের থেকে আলাদা। জিনগত পরীক্ষায় যেমন পার্থক্য পাওয়া যায়, তেমননি ছিল আলাদা বৈশিষ্ট্য। আরও কিছু পরীক্ষা ও তুলনার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এটি আগে বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত না হওয়া একটি নতুন প্রজাতি।

স্ল্যাশের নাম কেন?

এই নামকরণের পেছনে রয়েছেন গবেষক সারা রুয়ান। ছোটবেলা থেকেই তাঁর আগ্রহ ছিল সাপ ও সরীসৃপ নিয়ে। তিনি গানস এন’ রোজেসেরও ভক্ত ছিলেন। ১২ বছর বয়সে ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তিনি স্ল্যাশকে দেখেছিলেন। তাঁর হাতে ছিল পোষা সাপ। ছবিটি রুয়ানের মনে বেশ দাগ কেটেছিল।

পরে রুয়ান নিজেই সরীসৃপ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। একসময় আবার পড়েন স্ল্যাশের সেই পুরোনো সাক্ষাৎকার। সেখানে স্ল্যাশ তাঁর সাপের প্রতি ভালোবাসা, জাদুঘর ও চিড়িয়াখানার প্রতি আগ্রহ এবং প্রকৃতি ও প্রাণীদের প্রতি টানের কথা বলেছিলেন।

স্ল্যাশের পোষা সাপ। সংগৃহীত ছবি
স্ল্যাশের পোষা সাপ। সংগৃহীত ছবি

সবমিলে। সাপ নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানী হিসেবে তাঁর মনে হয়, নতুন কোনো সরীসৃপের নাম স্ল্যাশের নামে রাখা হলে সেটি হবে যথার্থ সম্মান। সেই ভাবনাই শেষ পর্যন্ত বাস্তব হয়। নিউ গিনির বনে পাওয়া লালচে-বাদামি সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম হয়ে যায় লিয়েলাফিস স্ল্যাশি।

খবরটি শুনে স্ল্যাশও বেশ আনন্দিত। তিনি বলেছেন, সরীসৃপপ্রেমী হিসেবে নিজের নামে একটি সাপের নাম হওয়া তাঁর জন্য খুবই সম্মানের। এমন কিছু একদিন ঘটবে, তা তিনি কখনো ভাবেননি।

স্ল্যাশ কে?

স্ল্যাশের আসল নাম সল হাডসন। ১৯৬৫ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া এই গিটারিস্ট পরে যুক্তরাষ্ট্রে বড় হয়েছেন। গানস এন’ রোজেসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।

১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি ব্যান্ডটি গড়ে ওঠার পর স্ল্যাশ দ্রুত তাদের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে ‘সুইট চাইল্ড ও’ মাইন’, ‘প্যারাডাইস সিটি’ ও ‘ওয়েলকাম টু দ্য জাঙ্গল’-এর মতো গানে তাঁর গিটার সলো রকসংগীতের পরিচিত অংশ হয়ে আছে। ১৯৯৬ সালে গানস এন’ রোজেস ছাড়ার পর স্ল্যাশ সলো ক্যারিয়ার চালিয়ে যান। পরে তিনি ভেলভেট রিভলভারসহ বিভিন্ন ব্যান্ড ও শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন। ২০১৬ সালে আবার গানস এন’ রোজেসে ফিরে আসেন। এরপর থেকে ব্যান্ডটির সঙ্গে নিয়মিত পারফর্ম করছেন তিনি।

রকসংগীতের ইতিহাসে স্ল্যাশকে অন্যতম প্রভাবশালী গিটারিস্ট হিসেবে ধরা হয়। তাঁর বাজানোর ধরনে ব্লুজ, হার্ড রক ও ক্লাসিক রকের প্রভাব রয়েছে। তাঁর মাথার টুপি, লম্বা চুল, সানগ্লাস আর গিবসন লেস পল গিটারও রকসংগীতের অন্যতম পরিচিত চেহারা হয়ে উঠেছে। গানস এন’ রোজেসের জনপ্রিয়তার সঙ্গে তাঁর গিটার বাজানোর ধরনও বিশ্বজুড়ে অসংখ্য তরুণ গিটারিস্টকে প্রভাবিত করেছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত