ad

বদলে যাওয়া ঢাকা: রাজধানী হওয়ার আগে ও পরে

রাজধানী হওয়ার আগে কেমন ছিল ঢাকা? কোন পথে মুঘলদের রাজধানী হয়ে উঠল এই শহর? আর রাজধানীর মর্যাদা হারানোর পর কী বদলে গেল? ইতিহাসের পাতায় ছড়িয়ে থাকা তথ্য, পর্যটকদের বর্ণনা আর পুরোনো নথি মিলিয়ে ফিরে দেখা যাক সেই ঢাকাকে, যার পরিচয় বদলেছে সময়ের সঙ্গে।

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ২১
বদলে যাওয়া ঢাকা: রাজধানী হওয়ার আগে ও পরে। স্ট্রিম গ্রাফিক
বদলে যাওয়া ঢাকা: রাজধানী হওয়ার আগে ও পরে। স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজধানী হিসেবে ঢাকার বয়স ৪০০ বছর। ঢাকা বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায় সতেরো শতকে, মুঘলরা এদেশে আসার পর। তার আগে ঢাকার জীবন কেমন ছিল, তা জানতে তাকাতে হয় ইতিহাসের দিকে। ইতিহাসবিদদের নথিভুক্ত তথ্যের পাশাপাশি কিছু অনুমানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মুঘলদের আগে ঢাকার আয়তন, জনসংখ্যা বা জীবনযাত্রা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। আবার মুঘলরা চলে যাওয়ার পর ঢাকা আবারও রাজধানীর মর্যাদা হারায়। রাজধানীর এই ওঠানামার প্রভাব পড়ে শহরের জীবনেও।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক বই ও গবেষণা ঘেঁটে আমরা ঘুরে দেখব ঢাকার অলি-গলি পথ, রাজধানী হওয়ার আগে কেমন ছিল ঢাকা, আর রাজধানীর মর্যাদা হারানোর পর কীভাবে বদলে গেল শহরটি?

জেমস টেলর রচিত ‘কোম্পানি আমলে ঢাকা’ বইয়ে ঢাকার প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তবে মুঘলদের আগে ঢাকা কতটা বড় শহর ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য খুব বেশি নেই। যেমন সম্রাট আকবরের সময়কার ‘আইন-ই-আকবরী’তে ঢাকার নাম পাওয়া যায় না। তবে স্থানীয় মানুষের বর্ণনা ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র থেকে ধারণা করা হয়, মুঘলরা আসার আগে ঢাকা বেশ বিস্তৃত একটি জনপদ ছিল।

ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে ‘বাঙালা শহর’ নামটিও জড়িয়ে আছে। ষোড়শ শতক এবং সপ্তদশ শতকের প্রথম ভাগে ইউরোপীয় পর্যটকদের লেখায় ‘বাঙালা’ নামে একটি বড় শহরের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাদের আঁকা মানচিত্রেও ঢাকার অবস্থানের সঙ্গে এই শহরের অবস্থানের মিল দেখা যায়। পরে ব্রিটিশ মানচিত্রবিদ জেমস রেনেলও ‘বাঙালা’ নামে একটি বড় শহরের কথা উল্লেখ করেন। জেমস রেনেলের বর্ণনা অনুযায়ী, শহরটি গঙ্গার পূর্বদিকে মিলনস্থলের কাছে ছিল। রেনেল অনুমান করেছিলেন, পরে নদীভাঙনে শহরটি বিলীন হয়ে থাকতে পারে। তাঁর ধারণা ছিল, আঠারো শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত হয়তো শহরটির অস্তিত্ব থাকতে পারে।

রাজধানী হওয়ার আগে ঢাকার রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল সীমিত

ঢাকা ও বাঙালা একই শহর ছিল—এমন ধারণার পেছনে আরও একটি যুক্তি আছে। একই পর্যটকের লেখায় সাধারণত এই দুই নাম একসঙ্গে পাওয়া যায় না। বাংলার প্রধান শহরগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে মেথড রাজমহল ও বাঙালার নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি দুটিকেই ‘পরীর শহর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে প্রায় একই সময় ভ্রমণ করা হার্বাট ও মন্ডেলসো ঢাকা ও রাজমহলের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা ‘বাঙালা’ নামে কোনো শহরের উল্লেখ করেননি।

পেট্রুস বার্তিয়ুসের ১৬১৮ সালের মানচিত্রে বাংলা অঞ্চল।
পেট্রুস বার্তিয়ুসের ১৬১৮ সালের মানচিত্রে বাংলা অঞ্চল।

বিদেশি বণিকেরা হয়তো প্রথমদিকে ঢাকার পরিবর্তে ‘বাঙালা’ নামটি ব্যবহার করতেন। পরে ‘ঢাকা’ নামটি প্রচলিত হয়ে ওঠে। আর ‘ঢাকা’ নামটি সম্ভবত ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আশপাশের শহরের পশ্চিম অংশকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতে পারে।

ঢাকার প্রাচীন বাণিজ্যিক গুরুত্ব বোঝাতে ইতালীয় পর্যটক লুদোভিকো দি ভার্থেমার বর্ণনাও গুরুত্বপূর্ণ। ১৫০৩ সালে তিনি ‘বাঙলা’কে অত্যন্ত উর্বর ও সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণনায় সেখানে মানুষের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্য পাওয়া যেত। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি বিলাসপণ্যেরও অভাব ছিল না। পশুপাখি, ফলমূল, শস্য ও নানা ধরনের মসলা সেখানে সহজে পাওয়া যেত। বস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রেও অঞ্চলটি ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সুতির কাপড়, পশম ও রেশমের তৈরি নানা ধরনের বস্ত্র প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হতো। অর্থাৎ ষোড়শ শতকের শুরুতেই বাংলা অঞ্চলের বাণিজ্য ও উৎপাদনের সমৃদ্ধির কথা বিদেশি পর্যটকের বিবরণে উঠে এসেছে।

মুঘলদের রাজধানী হওয়ার আগে ঢাকার সঙ্গে রাজা মানসিংহের উপস্থিতির সম্পর্ক থাকতে পারে। আটিয়া পরগণার শ্রীপুরে আফগানদের পরাজিত করার পর রাজা মানসিংহ ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আশপাশের শহরের একটি অংশে তাঁবু স্থাপন করেন। কিছু সময় তিনি সেখান থেকেই প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেছিলেন বলে জানা যায়। জায়গাটি পরে ‘উর্দু’ নামে পরিচিত হয়।

তবে এসব ঘটনার সময়ও ঢাকা রাজনৈতিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল না। ১৬০৮ থেকে ১৬১২ সালের আগ পর্যন্ত ঢাকার রাজনৈতিক গুরুত্ব সীমিত ছিল। তখন মুঘলদের প্রাদেশিক প্রশাসনের কেন্দ্র ছিল সোনারগাঁও। ঢাকার তুলনায় সোনারগাঁওয়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল বেশি।

পরিস্থিতি বদলে যায় সুবাদার ইসলাম খানের সময়। আফগান ও মগদের আক্রমণ ঠেকানো এবং বাংলার ওপর মুঘল নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার জন্য ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন। ১৬০৮ থেকে ১৬১৩ সালের মধ্যে তাঁর শাসনামলে এই পরিবর্তন ঘটে। ১৬১০ সালে ঢাকা মুঘল বাংলার রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঢাকার নাম যেভাবে ‘ঢাকা’ হলো

ঢাকার নাম কীভাবে ‘ঢাকা’ হলো, তা নিয়ে একাধিক গল্প প্রচলিত আছে। জনশ্রুতি আছে, ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সুবাদার যখন এই ভুখন্ডে প্রবেশ করেন তখন এখানে বড় বড় অনেক গাছ ছিল। স্থানীরা এই গাছকে ‘ঢাক’ গাছ বলত। সেখান থেকেই জায়গাটির নাম ঢাকা হয়েছে বলে একটি মত রয়েছে।

আরেকটি মত ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে ঘিরে। লোককথা অনুযায়ী, আজকের পুরোনো ঢাকা একসময় জঙ্গলে ঢাকা ছিল। সেই জঙ্গলে মাটির নিচে ঢাকা অবস্থায় একটি দেবীমূর্তি পাওয়া যায়। মাটিতে ঢাকা ছিল বলে দেবীর নাম হয় ঢাকেশ্বরী—এমন একটি গল্প প্রচলিত। আবার কেউ মনে করেন, ‘ঢাকেশ্বরী’ অর্থ ‘ঢাকার দেবী’। সেই নাম থেকেই শহরের নাম ‘ঢাকা’ হয়ে থাকতে পারে।

১৮৮৫ সালের ঢাকা।
১৮৮৫ সালের ঢাকা।

সবচেয়ে জনপ্রিয় মতটি অবশ্য মুঘল সুবাদার ইসলাম খাঁকে নিয়ে। বলা হয়, ঢাকায় প্রবেশ করে সুবাদার ঢাকের শব্দ শুনতে পান। এরপর তিনি একজন ঢাকিকে যত জোরে সম্ভব ঢাক বাজাতে বলেন। ঢাকের শব্দ যতদূর পৌঁছাবে, সেই পরিমাণ এলাকা নিয়ে নতুন শহরের সীমানা ঠিক করার গল্পও প্রচলিত আছে। সেখান থেকেই নাকি শহরের নাম হয় ‘ঢাকা’।

তবে এসব গল্পের কোনোটিরই নিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ঢাকার নামের উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে আজও একক মত নেই। তাই জনশ্রুতিগুলোকে ইতিহাসের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা যায় না।

আজকের ঢাকা শহরের সীমা বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে ঢাকা নামেও পরিবর্তন এসেছে বিভিন্ন সময়ে। সরাসরি ‘ঢাকা’ নামের ব্যবহার চৌদ্দ শতকের মাঝপর্বে লিপি সাক্ষ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে ঢাকা সোনারগাঁওয়ের অধীনে একটি ‘ইকলিমের’ অন্তর্গত ছিল। ফারসি শব্দ ‘ইকলিম’ বিভাগ বা প্রদেশের সমার্থক। যে প্রদেশে ঢাকার অবস্থান তার নাম ছিল ‘মুবারকাবাদ’। কিছু প্রাচীন শিলালিপির তথ্য থেকে ধারণা করা হয়, ঢাকা নামের ইতিহাস গুপ্ত যুগ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, খ্রিস্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতকেও এই অঞ্চলের সঙ্গে ‘ঢাকা’ নামের কোনো পুরোনো রূপের সম্পর্ক থাকতে পারে।

মুঘল সম্রাট সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামে বাংলার রাজধানীর নাম রাখা হয় জাহাঙ্গীরনগর। কিন্তু ১৭০৭ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব মারা গেলে অযোগ্য উত্তরাধিকারীদের হাতে মুঘলরা দূর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় বাংলার সুবাদার মুর্শিদকুলি খান ঢাকা বা জাহাঙ্গীরনগর থেকে রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যান মুর্শিদাবাদে। রাজধানী বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় ঢাকার ভাগ্যও।

রাজধানী হারানোর পর ঢাকার অবস্থা

১৭১৭ সালে মুর্শিদ কুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে সরিয়ে নেন। তবে রাজধানী হারালেই ঢাকা থেমে যায়নি। রাজধানী সরে যাওয়ার পরও ঢাকা পূর্ব বাংলার প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে টিকে ছিল। এখানে নবাবের প্রতিনিধি বা নাইব-নাজিম প্রশাসন চালাতেন। পূর্ব বাংলায় মুঘলদের সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও ঢাকার গুরুত্ব ছিল।

তবে রাজধানীর মর্যাদা হারানোর পর অবশ্য ঢাকার রাজনৈতিক মর্যাদা কমে যায়। ১৭০২ সালে মুর্শিদ কুলি খান রাজস্ব প্রশাসনের কেন্দ্র ঢাকা থেকে মকসুদাবাদে সরিয়ে নিয়েছিলেন। পরে ১৭১৭ সালে রাজধানীও চলে যায় মুর্শিদাবাদে। ফলে ঢাকার ওপর থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বড় অংশ সরে যায়। তারপরও বাণিজ্যের কারণে শহরটি পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে পড়েনি। পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ইংরেজ, ফরাসি ও আর্মেনীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ঢাকার বাণিজ্যকে সচল রাখে।

পলাশীর যুদ্ধের পর মসলিনের বাজার কমতে থাকে।
পলাশীর যুদ্ধের পর মসলিনের বাজার কমতে থাকে।

তবে আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করার পর ঢাকার প্রশাসনিক গুরুত্ব আরও কমতে থাকে। বিশেষ করে, কোম্পানির বাণিজ্য ও উৎপাদননীতিও ঢাকার পুরোনো অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ে মসলিন শিল্পে। পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ্দৌলার পতনের পর মসলিনের বাজার কমতে থাকে। ইউরোপীয় কোম্পানির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং পরে ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের ফলে যন্ত্রে তৈরি সস্তা কাপড় বাজার দখল করে নেয়। ফলে ঢাকার মসলিন শিল্প ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়।

উনিশ শতকের শুরুতে একসময়কার সমৃদ্ধ ঢাকা অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়ে। এই ঢাকাকে বলা যেতে পারে অতীতের ধন-ধান্যে পরিপূর্ণ ‘বিপুলা’ শহরের ‘ছায়া’।

তবে ব্রিটিশ আমলে ধীরে ধীরে প্রশাসন, বাণিজ্য ও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঢাকা আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকা নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের রাজধানী হয়। কিন্তু ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে আবার সেই মর্যাদা হারায় ঢাকা। এই উত্থান-পতনের ইতিহাস আমাদের ঢাকার অতীত, আমাদের পূর্ব-পুরুষদের অতীত। এই অতীতের সাফল্য আছে, সমৃদ্ধি আছে, আছে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর গৌরবময় ইতিহাস।

তথ্যসূত্র:

জেমস টেলর, ‘এ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’

জেমস টেলর, ‘কোম্পানি আমলে ঢাকা’ (অনুবাদ - মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান)

‘ফোর হান্ড্রেড ইয়ার্স অব ক্যাপিটাল ঢাকা অ্যান্ড বিয়ন্ড’, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ২০১১

আহমদ হাসান দানী, ‘ঢাকা: আ রেকর্ড অব ইটস চেঞ্জিং ফরচুনস’

বাংলাপিডিয়া

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত