জাবির সিন্ডিকেট সদস্য মনোনয়নে এক পদের জন্য সাবেক ছাত্রদলের দুই চিঠি
অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে নাম থাকা চারজন সাবেক ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
স্ট্রিম সংবাদদাতাজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেটের একটি পদে মনোনয়ন চেয়ে পৃথক দুটি চিঠি দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে দেওয়া এসব চিঠিতে দুই পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন অধ্যাপককে মনোনীত করার সুপারিশ করেছে।
ছাত্রদল ও জাকসুর (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সাবেক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটি অংশের দেওয়া চিঠিতে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন রুনুকে মনোনীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্য অংশের চিঠিতে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে মনোনীত করার দাবি তোলা হয়েছে। তবে অধ্যাপক নাহরিনের চিঠিতে অনুমতি ছাড়াই স্বাক্ষর বসানো হয়েছে বলে স্ট্রিমকে অন্তত চারজন জানিয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-১৯৭৩ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের মোট সদস্য ১৯ জন। অধ্যাদেশের ২২ (১) (জি) ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দুজন সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত করেন। এর মধ্যে একটি পদ বর্তমানে খালি। ওই পদে মনোনয়নের জন্যই সুপারিশপত্র দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।
বিএনপিপন্থী কিছু শিক্ষক সব সময় নেতিবাচক ও অনৈতিক কাজ করেন। আমাদের দুই-চারজন, যাঁরা ওইভাবে ক্যাম্পাসের রাজনীতির সঙ্গে এখন জড়িত নন, তাঁদের বুঝিয়েছে যে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সিন্ডিকেটের সদস্যপদ দুটি। যাঁদের কাছে জিজ্ঞাসাই করেনি বা যাঁরা এখন ক্যাম্পাসের রাজনীতির বিষয়ে ওয়াকিবহাল নন, তাঁদের মিসগাইড (বিভ্রান্ত) করা হয়েছে। মোখলেছুর রহমান বাদল, নবম জাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক
গত ১৯ সেপ্টেম্বর মো. জামাল উদ্দিন রুনুকে সিন্ডিকেট সদস্য করার দাবিতে উপাচার্য বরাবর একটি সুপারিশপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে ১৮ জনের স্বাক্ষর ছিল। অন্যদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর আরেক বিবৃতিতে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত করার দাবি জানানো হয়। এতে সাবেক জাকসু ও ছাত্রদলের ৩১ নেতার নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে। চিঠি দুটিতে জামাল উদ্দিন রুনু ও নাহরিন ইসলাম খানের ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত জীবনের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়।
নাহরিনের পক্ষে করা বিবৃতি স্বাক্ষর নিয়ে অভিযোগ
অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে নাম থাকা চারজন সাবেক ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন সাবেক জাকসু ভিপি ও মওলানা ভাসানী হলের সাবেক ছাত্র সংসদ নেতা মো. রাজিব উল হালিম, মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ড. ফারুক আহম্মদ শিপন, সাবেক ভিপি মো. আলমগীর হোসেন এবং আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল সংসদের সাবেক ভিপি ওয়াহিদুজ্জামান মিলন।
স্বাক্ষরের বিষয়ে রাজিব উল হালিম স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে স্বাক্ষরের বিষয়ে কেউ আলোচনা করেননি। অনুমতি ছাড়াই বিবৃতিতে আমার স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে।’
একই অভিযোগ করে ড. ফারুক আহম্মদ শিপন বলেন, ‘আমি কোনো স্বাক্ষর করিনি। স্বাক্ষরের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।’
ওয়াহিদুজ্জামান মিলন ও মো. আলমগীর হোসেনও একই কথা জানিয়েছেন। তবে অনুমতি ছাড়া কারা তাঁদের স্বাক্ষর ব্যবহার করেছেন, তা খোলাসা করেননি এই চারজনের কেউই।
অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানও চিঠির ব্যাপারে অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ওই চিঠির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যাঁরা প্রকাশ করেছেন, তাঁরা হয়তো আমাকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা আমার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দিয়েছেন।’
এদিকে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনুর পক্ষের চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ১৮ জনের একজন ছিলেন নবম জাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মোখলেছুর রহমান বাদল। তাঁর অভিযোগ, জাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (জাবির শিক্ষক) অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম নেপথ্যে থেকে নাহরিন ইসলাম খানের পক্ষে চিঠি দেওয়ার কাজটি করেছেন।
তবে বাদলের এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত তিন শিক্ষক। জাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. শামছুল আলম বলেন, ‘এই অভিযোগ মিথ্যা। যারা বলেছে, তারাই এই প্ল্যানের (পরিকল্পনা) সঙ্গে জড়িত হয়তো।’
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগ দিয়ে তো লাভ নেই। নাহরিন ইসলাম খানের বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এটা করতে পারে। কিন্তু এই অভিযোগ মিথ্যা।’
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ব্যস্ত আছি। ওনার (বাদল) অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’
অন্যদিকে মোখলেছুর রহমান বাদল স্ট্রিমকে বলেন, ‘বিএনপিপন্থী কিছু শিক্ষক সব সময় নেতিবাচক ও অনৈতিক কাজ করেন। আমাদের দুই-চারজন, যাঁরা ওইভাবে ক্যাম্পাসের রাজনীতির সঙ্গে এখন জড়িত নন, তাঁদের বুঝিয়েছে যে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সিন্ডিকেটের সদস্যপদ দুটি। যাঁদের কাছে জিজ্ঞাসাই করেনি বা যাঁরা এখন ক্যাম্পাসের রাজনীতির বিষয়ে ওয়াকিবহাল নন, তাঁদের মিসগাইড (বিভ্রান্ত) করা হয়েছে।’
.png)




-f1e129-256x144.webp)


