বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সমন্বিত পদক্ষেপ: অর্থমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ৫৬
সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মন্দার চাপের মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও গতিশীল রাখতে সরকার একাধিক সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবদিন (ফেনী-২)-এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় বৈশ্বিক অস্থিরতা, পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেনে চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং অতীতের অনিয়মসহ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা গ্রহণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করা, জনদুর্ভোগ কমানো, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখা, খাদ্য আমদানি ও মজুদ ব্যবস্থাপনা জোরদার, বাজার তদারকি বৃদ্ধি এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈদেশিক খাত শক্তিশালী করতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম কমানো, দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিতকরণ, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং ঋণ পুনরুদ্ধার জোরদারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কর ব্যবস্থা সহজীকরণ, করজাল সম্প্রসারণ, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি রোধে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৪টি এলাকায় ৩৭ হাজার ৮১৪ জন নারীকে জি-টু-পি পদ্ধতিতে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, ব্যবসায়িক জটিলতা হ্রাস, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেওয়া এবং তরুণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করে অপচয় কমানো এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

খাদ্য, কৃষি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সার ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং দেশীয় জ্বালানি উৎস উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল অর্থায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সবশেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

সম্পর্কিত