স্ট্রিম প্রতিবেদক

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ হওয়ার জন্য বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে আক্রমণ হওয়ার শর্ত রয়েছে। বাংলাদেশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত যে হত্যাকাণ্ড, মানবতাবিরোধী অপরাধ এটা ওয়াইড স্প্রেড (ব্যাপক মাত্রায়) ছিল। সারা বাংলাদেশ জুড়ে এই আক্রমণটা করা হয়েছিল।’
আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘হাসিনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। তিনি নিরঙ্কুশ ক্ষমতা চান। তিনি ও তার পরিবারকে দেবতার আসনে বসাবেন। আমি উন্নয়ন করতে চাই। প্রতিপক্ষকে রাখব না। এটা তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক উদ্দশ্যে। বাংলাদেশে কথিত স্বাধীনতা বিরোধী থাকবে না, প্রতিপক্ষ থাকবে না। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূজা হবে, বন্দনা হবে। একদলীয় শাসন হবে। মায়ের, বাপের নামে প্রতিষ্ঠান হবে। তার দাবি, “দেশটা তো আমার বাপের, বাপ স্বাধীন করেছে”। এগুলো ছিল স্বৈরতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্য।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক আসামি অপরাধী এই আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছিল। যারা আহত এবং নিহত হয়েছেন তাদের সংখ্যাও বিপুল পরিমাণে। এবং এই অপরাধগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেনি। বরং পরিকল্পিতভাবে, ব্যাপক ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের অপরাধ বারবার করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে করা হয়েছে। এটাকে বলা যায় ব্যাপকভাবে বিস্তৃত এবং সারা বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ১৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই সংখ্যাগুলো প্রমাণ করে, আক্রমণটা ছিল ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।’
তিনি বলেন, ‘আরেকটা শর্ত হচ্ছে সিস্টেম্যাটিক (পদ্ধতিগত) হতে হবে। সিস্টেমটিক হওয়ার জন্য যে অপরাধের ধরন এখানে রাষ্ট্রের রিসোর্স ব্যবহার করা হয়েছে। একটা পরিকল্পনার আওতায় একটা সুনির্দিষ্ট টার্গেটে এই অপারেশনগুলো পরিচালিত হয়েছে। সেই জিনিসটা যে এখানে হয়েছে সেটা আমরা সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আদালতের কাছে উপস্থাপন করেছি। এটা শুধুমাত্র যে ওয়াইড স্প্রেড তাই নয়, একই সাথে এটা সিস্টেম্যাটিকও ছিল।’
একপর্যায়ে গত বছরের ৫ আগস্ট গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে পুলিশের নৃশংসতা নিয়ে আদালতে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দিন হাসিনার পতনের পর কোনাবাড়ী থানা এলাকায় বিজয় মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। এ মিছিলে অংশ নেন কলেজছাত্র হৃদয়। মুহূর্তেই ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। সবাই জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নেয় নিরাপদ স্থানে। হৃদয়কে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ধরে আনে। ঘিরে রেখে তাকে লাঠি দিয়ে একজন আঘাত করতে এগিয়ে আসতেই আরেকজন হৃদয়কে চড় মারে। হঠাৎ তাকে পেছন থেকে গুলি করেন কনস্টেবল আকরাম। এতেই প্রাণ হারান তিনি।
এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘কলেজছাত্র হৃদয়ের লাশটি রাতের আঁধারে গাজীপুরের কড্ডা নদীতে পুলিশ ফেলে দেয়। হৃদয়কে গুলি করার ব্যাপারে কনস্টেবল আকরাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’
সাক্ষীদের জবানবন্দির অংশবিশেষ ও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত বলে যুক্তি তুলে ধরেন তাজুল ইসলাম।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় শুনানি আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এর আগে, ৮ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। সেই অনুযায়ী গতকাল রোববার সকালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে প্রসিকিউশন। আদালতে আসামি হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তারও আগে, ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশনের পক্ষে সর্বশেষ ও ৫৪তম সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়। আসামিরা পলাতক থাকায় আইন অনুযায়ী তাদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়েই এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এর পরের ধাপই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের পরেই মামলাটি রায়ের দিকে এগিয়ে যাবে।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন জন আসামি। তাঁরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তবে মামুন পরে রাজসাক্ষী হিসেবে হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ হওয়ার জন্য বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে আক্রমণ হওয়ার শর্ত রয়েছে। বাংলাদেশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত যে হত্যাকাণ্ড, মানবতাবিরোধী অপরাধ এটা ওয়াইড স্প্রেড (ব্যাপক মাত্রায়) ছিল। সারা বাংলাদেশ জুড়ে এই আক্রমণটা করা হয়েছিল।’
আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘হাসিনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। তিনি নিরঙ্কুশ ক্ষমতা চান। তিনি ও তার পরিবারকে দেবতার আসনে বসাবেন। আমি উন্নয়ন করতে চাই। প্রতিপক্ষকে রাখব না। এটা তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক উদ্দশ্যে। বাংলাদেশে কথিত স্বাধীনতা বিরোধী থাকবে না, প্রতিপক্ষ থাকবে না। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূজা হবে, বন্দনা হবে। একদলীয় শাসন হবে। মায়ের, বাপের নামে প্রতিষ্ঠান হবে। তার দাবি, “দেশটা তো আমার বাপের, বাপ স্বাধীন করেছে”। এগুলো ছিল স্বৈরতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্য।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক আসামি অপরাধী এই আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছিল। যারা আহত এবং নিহত হয়েছেন তাদের সংখ্যাও বিপুল পরিমাণে। এবং এই অপরাধগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেনি। বরং পরিকল্পিতভাবে, ব্যাপক ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের অপরাধ বারবার করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে করা হয়েছে। এটাকে বলা যায় ব্যাপকভাবে বিস্তৃত এবং সারা বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ১৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই সংখ্যাগুলো প্রমাণ করে, আক্রমণটা ছিল ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।’
তিনি বলেন, ‘আরেকটা শর্ত হচ্ছে সিস্টেম্যাটিক (পদ্ধতিগত) হতে হবে। সিস্টেমটিক হওয়ার জন্য যে অপরাধের ধরন এখানে রাষ্ট্রের রিসোর্স ব্যবহার করা হয়েছে। একটা পরিকল্পনার আওতায় একটা সুনির্দিষ্ট টার্গেটে এই অপারেশনগুলো পরিচালিত হয়েছে। সেই জিনিসটা যে এখানে হয়েছে সেটা আমরা সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আদালতের কাছে উপস্থাপন করেছি। এটা শুধুমাত্র যে ওয়াইড স্প্রেড তাই নয়, একই সাথে এটা সিস্টেম্যাটিকও ছিল।’
একপর্যায়ে গত বছরের ৫ আগস্ট গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে পুলিশের নৃশংসতা নিয়ে আদালতে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দিন হাসিনার পতনের পর কোনাবাড়ী থানা এলাকায় বিজয় মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। এ মিছিলে অংশ নেন কলেজছাত্র হৃদয়। মুহূর্তেই ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। সবাই জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নেয় নিরাপদ স্থানে। হৃদয়কে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ধরে আনে। ঘিরে রেখে তাকে লাঠি দিয়ে একজন আঘাত করতে এগিয়ে আসতেই আরেকজন হৃদয়কে চড় মারে। হঠাৎ তাকে পেছন থেকে গুলি করেন কনস্টেবল আকরাম। এতেই প্রাণ হারান তিনি।
এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘কলেজছাত্র হৃদয়ের লাশটি রাতের আঁধারে গাজীপুরের কড্ডা নদীতে পুলিশ ফেলে দেয়। হৃদয়কে গুলি করার ব্যাপারে কনস্টেবল আকরাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’
সাক্ষীদের জবানবন্দির অংশবিশেষ ও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত বলে যুক্তি তুলে ধরেন তাজুল ইসলাম।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় শুনানি আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এর আগে, ৮ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। সেই অনুযায়ী গতকাল রোববার সকালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে প্রসিকিউশন। আদালতে আসামি হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তারও আগে, ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশনের পক্ষে সর্বশেষ ও ৫৪তম সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়। আসামিরা পলাতক থাকায় আইন অনুযায়ী তাদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়েই এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এর পরের ধাপই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের পরেই মামলাটি রায়ের দিকে এগিয়ে যাবে।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন জন আসামি। তাঁরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তবে মামুন পরে রাজসাক্ষী হিসেবে হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

জব্দকৃত ভিডিওতে এই উল্লাসর পরও কেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়নি তার আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন আদালত। আদালতের ভাষ্য—সুজন পরিস্থিতির শিকার। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জোর করে হাতে অস্ত্র তুলে না দিলে তিনি খুনি হতেন না।
১৪ মিনিট আগে
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ব্যবহৃত ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে আটক করেছে পুলিশ।
১ ঘণ্টা আগে
নরসিংদীতে সন্ত্রাসীদের হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ড্রিম হলিডে পার্কের সামনের রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করলে স্থানীয় একদল লোক টাকা দাবি করে। এর প্রতিবাদ করলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে গুজব প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা। এ লক্ষ্যে তিনি জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে