জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঢাবি মঞ্চে ‘তাবুলা রাসা’: ফুটে উঠেছে নারীর প্রতি সহিংসতা ও সমাজ-রাজনৈতিক বাস্তবতা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১০: ১৩
ঢাবি নাটমণ্ডপে মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হলো হেনরিক ইবসেনের নাটক অবলম্বনে নির্মিত ‘তাবুলা রাসা’। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডপ মিলনায়তনে টানা তিন দিন মঞ্চস্থ হলো থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের নতুন প্রযোজনা ‘তাবুলা রাসা’। হেনরিক ইবসেনের কালজয়ী নাটক অবলম্বনে নির্মিত এই প্রযোজনায় নারীর প্রতি সহিংসতা এবং সমকালীন সমাজ-রাজনৈতিক সংকট ও বাস্তবতা শৈল্পিক ভঙ্গিতে ফুটে উঠেছে। গত ১০ থেকে ১২ মার্চ প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির সফল মঞ্চায়ন দর্শক ও নাট্যবোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। নাটকটির ভাবনা, পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদুল কবির।

নিরীক্ষাধর্মী এই প্রযোজনার ভাবনাসূত্র নির্মিত হয়েছে নরওয়েজীয় কিংবদন্তি নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের একাধিক নাটকের নির্বাচিত দৃশ্যের সমন্বয়ে। তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘অ্যা ডল'স হাউজ’, ‘পিয়ার গিন্ট’ ও ‘ওয়াইল্ড ডাক’ থেকে নির্বাচিত অংশগুলোকে নৃত্য, সংগীত, শরীরী স্থাপত্য ও স্থান-স্থাপনার সৃজনশীল সমন্বয়ে একটি অখণ্ড রূপ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্লাসিক নাট্যরচনার ভেতরে নিহিত মানবিক দ্বন্দ্ব, নারীর প্রতি সহিংসতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সামাজিক সংকটের বিষয়গুলো নতুন নাট্যভাষায় মঞ্চে উঠে এসেছে।

নাটকটির ভাবনা প্রসঙ্গে নির্দেশক ড. আহমেদুল কবির বলেন, “নতুন চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশের প্রয়োজনে পৃথিবীর সব ভাষা ও সংস্কৃতির ভান্ডার থেকেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি। এর মাধ্যমে এক সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য সংস্কৃতির নিরন্তর সংলাপ গড়ে ওঠে, যা শিল্পচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষণ-প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই প্রযোজনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। অধ্যাপক কবির বলেন, “হেনরিক ইবসেনের অনেক নাটকই আমাদের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তাঁর নাটকের ভেতরে জীবন, বাস্তবতা, প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্কের যে শক্তিশালী অনুষঙ্গ রয়েছে—সেই বিষয়গুলোই আমরা এই প্রযোজনায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”

নাটকের অন্যতম অভিনেতা ও বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রাফিউল রকি জানান, ‘তাবুলা রাসা’ মূলত ইবসেনের তিনটি ভিন্ন নাটকের নির্বাচিত দৃশ্যের পরীক্ষামূলক সংশ্লেষ। এটি তাঁদের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় সেমিস্টারের চূড়ান্ত প্রযোজনার অংশ। এই প্রযোজনার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতে নির্মিত হতে যাওয়া তাঁদের বৃহৎ আকারের মূল প্রযোজনার সূচনা ঘটেছে।

নাট্যসমালোচকদের মতে, ইবসেনের ক্লাসিক নাট্যচিন্তাকে সমকালীন সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে নির্মিত ‘তাবুলা রাসা’ কেবল একটি মঞ্চ প্রযোজনা নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অনুসন্ধান ও নাট্যনিরীক্ষার এক সাহসী প্রয়াস। অভিনয়, শরীরী ভাষা ও সংগীতের সমন্বয়ে প্রযোজনাটি দর্শকের সামনে নতুন এক নাট্যভাষার সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে

সম্পর্কিত