ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার সম্পাদকীয়বিএনপির বড় জয় এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎগণঅভ্যুস্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ১৮ মাস পর ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বড় ধরনের বিজয় পেয়েছে। দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনের খবরসদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের খবর প্রকাশ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে স্থান দিয়েছে তারা।
‘গণতন্ত্রের’ মৃত্যু থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : বাংলাদেশের নির্বাচননামাআর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের কার্যক্রম শেষে দেশ নতুন নির্বাচনের দোরগোড়ায়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনএই নির্বাচন কেন এত তাৎপর্যপূর্ণআর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তারপরই বাংলাদেশ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক নির্বাচনের। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণেভোট।
চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণআগামীকাল ভোট: গণতন্ত্রে উত্তরণের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশএবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো নতুন রাজনৈতিক জোটের উত্থান। এই জোট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
নতুন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন বৃহস্পতিবার, কেমন ছিল অন্যগুলোছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান, ওইদিন রাতেই রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পরে ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব ইস্যুআগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির গণতন্ত্রে ফেরার পথে এই নির্বাচন একটি বড় পরীক্ষা।
রাপচার, রিফর্ম অ্যান্ড রি-ইম্যাজিনিং ডেমোক্রেসি২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক যাত্রার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা জানান, এই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈষম্য, পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি এবং একচেটিয়া শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
রাষ্ট্র মেরামতের দর্শন ও শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনবাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন পর্যায় শুরু করেছে। এই আন্দোলনের পর রাষ্ট্রের মেরামত বা পুনর্গঠন স্লোগান থেকে বাস্তব রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে।
বিএনপির ইশতেহার: জন-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। সেই অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিতব্য প্রথম সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৫১ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
রাষ্ট্র মেরামতের পরিভাষা: বিএনপির ইশতেহারের একটি ব্যবচ্ছেদ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের যে গণআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার একটি পলিসি-নির্ভর প্রতিফলন ঘটেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে।
‘অন্ধের দেশ’: ড. ইউনূসকে কীভাবে মনে রাখবে বাংলাদেশজানুয়ারির শেষ দিকের এক দুপুর। ঢাকার ব্যস্ত যানজটের ভেতর দিয়ে অটোরিকশা চালাতে চালাতে রুবেল চাকলাদারের কণ্ঠে ক্ষোভের চেয়ে যেন এক ধরনের অসহায়ত্বই বেশি ঝরে পড়ছিল। ৫০ বছর বয়সী রুবেল বলছিলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হঠানোর পর বাংলাদেশিরা বিরল সুযোগ পেয়েছিল। এই সুযোগ তারা হেলায় হারিয়েছে।