leadT1ad

জনতা ব্যাংকের ২৮৫৭ কোটি টাকা লোপাট : সালমান এফ রহমানসহ আসামি ৯৪

বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ছবি: বাসস

জনতা ব্যাংকের ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সালমান এফ রহমান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ৪টি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। মামলায় সালমান এফ রহমানের ভাই, ছেলে ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৯৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন মামলার অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ‘অ্যাকোমোডেশন বিল’ তৈরির মাধ্যমে এই অর্থ লোপাট ও পাচারের প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে বেক্সিমকো গ্রুপ ২৪টি নামসর্বস্ব কোম্পানি খোলে। এর মধ্যে ইয়েলো অ্যাপারেলস, পিংক মেকার গার্মেন্টস, এ্যাপোলো অ্যাপারেলস ও বে সিটি অ্যাপারেলসের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়।

নতুন এই চার মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও তাঁর ভাই সোহেল এফ রহমানকে। এছাড়া সালমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও সোহেলের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।

জালিয়াতিতে সহায়তার দায়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরী, জনতা ব্যাংকের সাবেক সিইও আব্দুছ ছালাম আজাদ এবং সাবেক দুই ডেপুটি এমডি আব্দুল জব্বার ও ইসমাইল হোসেনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত নভেম্বরে জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আরও ৫টি মামলা করেছিল দুদক। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে রূপান্তর ও পাচার করে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে।

আক্তার হোসেন জানান, অনুসন্ধানে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের মহাপরিচালক বলেন, এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই বেক্সিমকো গ্রুপ, জনতা ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সালমান এফ রহমান ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান রয়েছে। জনতা ব্যাংক থেকে অর্থ লোপাট সংক্রান্ত আরও কয়েকটি ফাইল এখন শেষ পর্যায়ে আছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে খুব দ্রুতই এসব তদন্তের ফলাফল দেশবাসীকে জানানো হবে।

জরিমানা দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতির সরকারি অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে আক্তার হোসেন বলেন, এটি সরকার প্রণয়ন করেছে। এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত কোনো মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত