জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ে গলায় ছুরিকাঘাতে আহত কন্যাশিশুটি মারা গেছে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১: ৪৯
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল (ছবি: হাসপাতালের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া)

চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড পৌর সদরের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে ভূমি থেকে প্রায় ১ হাজার ফুট ওপরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গলায় ছুরিকাঘাতে আহত কন্যাশিশুটি মারা গেছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরের দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে গত রোববার (১ মার্চ) রাতে শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। সোমবার (২ মার্চ) তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে আবার নাক, কান ও গলা (ইএনটি) ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

শিশুটির চাচা আজ সকালে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্ট্রিমকে বলেন, ‘সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটি আমাদের সঙ্গে ইশারায় কথা বলছিল। কিন্তু রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে তার অস্বস্তি শুরু হয়। সে পানি ও খাবার চাইছিল, কিন্তু চিকিৎসকদের নিষেধ থাকায় তাকে কিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরও জানান, তাঁর ভাতিজির শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে তার গলায় ছুরিকাঘাতের ফলে বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ধর্ষণের পর ছুরি দিয়ে শ্বাসনালি কেটে দেওয়া হয়েছে তার।

শিশুটি মৃত্যুর আগে একটি নাম উচ্চারণ করেছিল, কিন্তু সেটি স্পষ্ট না বলেও জানান তার চাচা।

চমেকের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে উরু ও গলার অংশে কাটাছেঁড়ার চিহ্ন ছিল।

এর আগে গত রোববার সকালে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে থাকা সহস্রধারা ঝরনার আরও অন্তত ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি পথের ধার থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। প্রথমে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের বরাত দিয়ে ইকোপার্ক এলাকার বাসিন্দা রবিউল হাসান ও আরিফুল ইসলাম রনি জানান, ইকোপার্ক এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ওপরে সড়কের কাজ চলছে। এ সময় একটি স্কেভেটরের চালক দেখতে পান– রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি জঙ্গল থেকে হেঁটে রাস্তার দিকে আসছে। তিনি অন্য শ্রমিকদের ডাক দিলে তারা এসে শিশুটির গলার কাটা অংশে কাপড় পেঁচিয়ে ট্রাকে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। রক্তে ছোট্ট কামিজ ভেজা ছিল। পরনে কোনো সালোয়ার ছিল না বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় গত ১ মার্চ রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে, যা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত