জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কোরবানির ঈদের আগেই অন্তত তিন সিটিতে নির্বাচন চায় ইসি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১: ১৮
সিটি করপোরেশন নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়ায় শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এই দুটি আসনে আগামী ৯ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন বলছে, এই ভোট শেষ হলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত ঘোষণার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করতে চায় তারা।

এই লক্ষ্যে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা অন্তত তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফাইল প্রস্তুতের কাজও শুরু করেছে। তিনি সিটি করপোরেশন হলো, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

এখন কমিশন সভায় আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হবে, এই সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচনের তফসিল আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই নাকি পরে ঘোষণা করা হবে। তবে তফসিল যখনই ঘোষণা করা হোক, এই তিন সিটির নির্বাচন কোরবানির ঈদের আগেই শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী প্রশাসন ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। সবশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজধানী ঢাকার দুটি সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও এর প্রতিবাদ জানায়। সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় নির্বাচন পিছিয়ে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবার বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধু মেয়র পদে প্রশাসক বসালে নাগরিক সেবা কতটা নিশ্চিত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাই দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন শুরু করা উচিত।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসজুড়ে সিটি করপোরেশন আইন ও আচরণবিধি পর্যালোচনা করা হবে। কোথায় সংশোধন বা সংযোজন দরকার, তা চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছ থেকে সহিংসতা না করার অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছিল, যা ইতিবাচক ফল দিয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। একই অভিজ্ঞতা সিটি নির্বাচনেও প্রয়োগের চিন্তা রয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা আচরণবিধির পরিবর্তে একটি অভিন্ন আচরণবিধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। গত বছর ২৫ আগস্ট জারি হওয়া সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। ফলে নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তবে সংসদের অনুমোদনের আগে ইসি কোনো নির্বাচন আয়োজন করবে না। এ কারণে প্রস্তুতি এগোলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসি জানিয়েছে, সরকারের সংকেত পেলে বর্ষা মৌসুম ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বিবেচনায় রেখে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ‘অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনের জটিলতা দূর করা জরুরি। সহিংসতা রোধে অঙ্গীকারনামা চালু এবং সব স্তরের স্থানীয় সরকারের জন্য অভিন্ন আচরণবিধি প্রণয়নই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।’

অন্যদিকে কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ‘সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও অনেক স্থানীয় নির্বাচন আছে, তা আয়োজন করতে হয়। সারা বছর ধরে নির্বাচন হবে। ঈদের পর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে। দলীয় প্রতীক নাকি নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে, তার জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা করছি। আইন অনুযায়ী ভালো নির্বাচনের জন্য কমিশন প্রস্তুত থাকবে।’

তবে ইসি সূত্র বলছে, সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও যদি তিনটি সিটি নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা না যায়, তাহলে অন্তত ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগে হতে পারে। ইসি সূত্র বলছে, শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের মতে, তুলনামূলকভাবে সহিংসতামুক্ত একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ায় বর্তমান ইসির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিশনের জন্য এই তিন সিটি নির্বাচন বড় পরীক্ষা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।’

এদিকে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালনা জরুরি। তাই দ্রুত নির্বাচন না হলে প্রশাসনিক সংকট আরও বাড়তে পারে।’

সম্পর্কিত