leadT1ad

সিএমপির ৩৩০ দুষ্কৃতকারী, নওফেল-নাছিরের সঙ্গে আছেন বিএনপি নেতারাও

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৫৭
সিএমপির দুষ্কৃতকারীর তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগের মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আ জ ম নাছির উদ্দীন, এম এ লতিফ এবং বিএনপি নেতা শওকত আজম খাজা। স্ট্রিম গ্রাফিক

চট্টগ্রাম শহরে ৩৩০ ব্যক্তির অবস্থান ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো নগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের ‘দুষ্কৃতকারী’ উল্লেখ করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

৩৩০ জনের তালিকায় সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন রয়েছেন।

দুষ্কৃককারীর তালিকায় নগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীও রয়েছেন। তাদের মধ্যে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা, বাকুলিয়া থানা বিএনপির নেতা মোর্শেদ খান, কোতোয়ালি থানার যুবদল নেতা হাসান, পাহাড়তলীর মাসুম প্রমুখ।

সিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব দুষ্কৃতকারীকে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

তালিকা বিশ্লেষণে নাম পাওয়া গেছে রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ ও মহিউদ্দিন বাচ্চু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সাইফুল আলম লিমন, সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে গাজী শফিউল আজিম, শৈবাল দাশ, সাহেদ ইকবাল, জহরুল আলম জসিম, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, নাজমুল হক, হাসান মুরাদ, গিয়াস উদ্দিন, নূর মুস্তাফা, আবুল হাসনাত বেলাল, মোবারক হোসেনসহ নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলরদের।

তালিকায় সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী, তাঁর সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন (ছোট সাজ্জাদ), মোবারক হোসেন, মোহাম্মদ রায়হান, খোরশেদ, ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিন, ইসমাইল হোসেন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যা, নুরুল আলম ওরফে হামকা আলম।

সূত্র জানায়, সাজ্জাদ, শহিদুল ইসলামসহ সন্ত্রাসীরা চাঁদা ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য নগরে প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি করে আসছে। খুনের ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) ফয়সাল আহম্মেদ জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে এবং গোপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে আসছে। তাই তাদের বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ ছেড়ে পালানো বেশ কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামি সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নামও এই তালিকায় রয়েছে। চিন্ময় কৃষ্ণসহ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অনেকে বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

আবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের সাবেক কয়েক কাউন্সিলরের সঙ্গে ২২৭ নম্বরে আছেন ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরী, যিনি গত নভেম্বরে মারা গেছেন।

এ ব্যাপারে নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, সিআরপিসি অনুযায়ী আমি কোনো দল চিনি না; সন্ত্রাসী চিনি। যাদের নাম এসেছে, তারা পুলিশের চোখে ‘লিস্টেড ক্রিমিনাল’। এদের মধ্যে কারাগারের বাইরে যারা আছেন, তারা দুই বছরের জন্য চট্টগ্রাম থেকে বহিষ্কার।

তিনি বলেন, মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ অনুযায়ী কমিশনার হিসেবে এ ধরনের আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের আছে। আমি এ সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত