leadT1ad

নির্বাচনের আগে ৮ ইউএনওকে হঠাৎ বদলি, নানা প্রশ্ন

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ১৯
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের এক মাসও বাকি নেই। এমন সময় আট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) হঠাৎ বদলি করা হয়েছে। নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসব ইউএনওদের বদলির বিষয়ে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ইউএনওদের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। কিন্তু সেজন্য যদি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে শুধু বদলি কোনো সমাধান হতে পারে না। কারণ, তাঁরা এখন অন্য উপজেলায় একই দায়িত্ব পালন করবেন, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটার ইউএনও ইশরাত জাহানকে ভোলার চরফ্যাশনে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের আল-আমীনকে ফরিদপুরের নগরকান্দায়, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার রেহেনা আক্তারকে বগুড়ার ধুনটে ও হবিগঞ্জের বাহুবলের লিটন চন্দ্র দেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বগুড়ার ধুনটের প্রীতিলতা বর্মনকে হবিগঞ্জের বাহুবলে, নগরকান্দার মেহরাজ শারবীনকে নেত্রকোণার কলমাকান্দায়, কলমাকান্দার মাসুদুর রহমানকে ভাণ্ডারিয়ায় ও চরফ্যাশনের লোকমান হোসেনকে পাথরঘাটায় পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল বুধবারের মধ্যে তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

তাঁদের মধ্যে সম্প্রতি নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউএনও মাসুদুর রহমানের সঙ্গে লেঙ্গুরা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় সাইদুর রহমানকে রোববার (১৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগ এক চিঠিতে সাময়িক বরখাস্ত করে। এর দুই দিন পর মাসুদুর রহমানকেও বদলি করা হলো।

এ ছাড়া গত ৩০ ডিসেম্বর দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে পাথরঘাটার ইউএনও ইশরাত জাহানকে অপসারণের দাবি জানায় বিএনপি। বরগুনা-২ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও ইশরাত ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ তোলে দলটি। পরে ইউএনওর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনও হয়।

আর ভান্ডারিয়ার ইউএনও রেহেনা আক্তার গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে ভোটারদের উৎসাহিত করছেন বলে গত ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ‘অভিযোগ ওঠার পরও আট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনওকে প্রত্যাহার না করে শুধু স্টেশন পরিবর্তন করার মাধ্যমে কার্যত দায় এড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের দায়িত্বে রেখেই নির্বাচন পরিচালনার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসি যদি শুরুতেই কঠোর সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে মাঠ প্রশাসনের একটি অংশ মনে করবে—ক্ষমতার ছায়ায় থাকলে সবকিছুই ম্যানেজ করা যায়। এটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ভয়ংকর ইঙ্গিত।’

ভোটের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইসির বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও মত দেন তিনি।

সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আব্দুস সবুর বলেন, ‘অভিযোগ ওঠার পরও কোনো সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বা ইউএনওকে প্রত্যাহার না করে শুধু ভোটকেন্দ্র বা দায়িত্বের স্টেশন পরিবর্তন করা প্রশাসনিকভাবে দুর্বল সিদ্ধান্ত। এতে অভিযোগের মূল বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় না, বরং সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।’

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিব বলেন, ‘আমরা আটজনকে বদলি করেছি। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও নতুন করে মাঠে কর্মকর্তা পাঠানো অনেকটা ঝামেলার। তাই অভিযোগ থাকলেও তাঁদের প্রত্যাহার করার সুযোগ ছিল না।’

আর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই বদলিতে কোনো সমস্যা নেই বলে স্ট্রিমকে জানান। তিনি বলেন, ‘বদলি একটা চলমান প্রক্রিয়া। এটা হতেই পারে। আর আমরা (ইসি) বদলি করি না, বদলির অনুমতি দিই।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ওই কর্মকর্তাদের বদলি করতে অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত