leadT1ad

‘সার্কের চেতনা এখনো জীবিত ও দৃঢ়’, আঞ্চলিক নেতাদের প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ৪৮
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ এশিয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সংহতি প্রমাণ করে যে সার্কের চেতনা এখনো জীবিত ও দৃঢ়।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ মন্তব্য করেন। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছাড়াও নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

অতিথিরা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা গণতন্ত্রের জন্য তাঁর আজীবন সংগ্রাম এবং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। জানাজায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে তাঁরা অভিভূত হয়েছেন বলে জানান। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এতে বোঝা যায় মানুষ তাঁকে কতটা ভালোবাসতেন।’

বৈঠকে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেন। মালদ্বীপের মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জানাজায় আমরা প্রকৃত সার্কের চেতনা দেখেছি। সার্ক এখনো বেঁচে আছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, গতকাল সার্ক সক্রিয় ছিল ও আমরা একসঙ্গে দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে সার্ক নেতাদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিক সমাবেশের প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি সার্ক নেতাদের মধ্যে একটি মিলনমেলা আয়োজন করতে চেয়েছিলাম, এমনকি সেটা পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও।’ দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য সার্ক একটি অর্থবহ প্ল্যাটফর্ম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনের পর তিনি তাঁর পূর্বের পেশাগত জীবনে ফিরে যাবেন বলে পাকিস্তানের স্পিকারকে জানান।

বৈঠকে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলাদেশের ডাকযোগে ভোটদান ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে বিদেশে বসবাসকারী ও কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত