জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বিষয়ে নোটিশ, আলোচনার সময় নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৯: ২৩
সংসদ অধিবেশন। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনের বৈঠকে আজ রোববার ‘জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ নিয়ে আলোচনার দাবিকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান একটি ‘জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ’ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ তারিখের অধিবেশনে স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী আমি আজ যথাযথভাবে নোটিশটি সাবমিট করেছি। আমাদের নোটিশের মূল বিষয় হচ্ছে— জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫। উক্ত আদেশের ১ নম্বর দফার ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার জন্য আমি এই নোটিশ দিচ্ছি। এটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমি আশা করি মাননীয় স্পিকার আপনি এটি আলোচনার জন্য মঞ্জুর করবেন।’

বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সংসদের একটি নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালি বিধি বা “অর্ডারস অব দ্য ডে” থাকে। সাধারণত তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরেই অন্য কোনো বিষয় আলোচনায় আনা হয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি আছি, তবে তা ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পর হওয়া উচিত।’

এরপর ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন, ‘নোটিশ দেওয়ার অধিকার সংসদ সদস্যদের আছে, তবে সংসদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও নিয়ম রক্ষা করাও জরুরি। প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং ৭১ বিধির আগে এই জাতীয় মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নজির নেই। এতে কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না। মাননীয় স্পিকারের এখতিয়ার অনুযায়ী আপনি নিয়ম মেনে অধিবেশন পরিচালনা করুন।’

সরকারি দলের এই অবস্থানের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা হয়তো ভুলে যাচ্ছি এই সংসদ কীভাবে গঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এখানে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সংসদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে তেমন কিছুই যেন হয়নি। জনগুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুটি অন্য যেকোনো নিয়মিত কার্যক্রমের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়ম বা প্রথার দোহাই না দিয়ে এটিকেই সবার আগে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা করা উচিত।’

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পুনরায় বলেন, ‘প্রশ্নোত্তর পর্বের পরেই এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে গত অধিবেশনে জানানো হয়েছিল। আমি সেই অধিকার এবং দায়িত্ববোধ থেকেই আজ দাঁড়িয়েছি।’ দুই দলের দীর্ঘ বাদানুবাদের পর স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, ‘সংসদের রীতি অনুযায়ী ৭১ বিধির পরই বিরোধীদলীয় নেতার নোটিশ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’ স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পর সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ৭১ বিধি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সম্পর্কিত