কামরুল হাসান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলা আপিল শুনানিতে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অবস্থান নিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছে। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে নেওয়া ইসির ভূমিকায় সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। তবে ইসির দাবি, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসি কঠোর ছিল এবং নিজেদের দেওয়া রায় নিয়ে সন্তুষ্ট সংস্থাটি।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত মোট ৯দিন মনোনয়ন বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি চলে। এর মধ্যে নবম ও শেষ দিনে ঢাকা–১৬ আসনের লেবার পার্টির প্রার্থী আলহাজ এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পান। ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল।
শুনানিতে তাঁর নিযুক্ত আইনজীবী দাবি করেন, ব্যাংকের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে তিনি মোট ঋণের তিনগুণ অর্থ পরিশোধ করলেও তাঁকে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
যদিও হলফনামায় তিনি আর্থিক দায় সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি, তবুও ইসি তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে।
একই ধরনের ঘটনা দেখা যায় সাতক্ষীরা–৪ আসনের গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রার্থী এইচ এম গোলাম রেজার ক্ষেত্রেও। ব্যাংকের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে পাওনার অভিযোগ থাকলেও তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। শুনানিতে তাঁর আইনজীবীর দাবি, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর হিসাবে ব্যাংকের পাওনার চেয়েও বেশি অর্থ রয়েছে, কিন্তু কেন তা সমন্বয় করা হয়নি—সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা গোলাম রেজা জানান, যে ঋণের কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল, সেখানে তিনি ঋণগ্রহীতা নন, বরং গ্যারান্টর ছিলেন। এই যুক্তিতে আপিলে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
ইসির সবচেয়ে আলোচিত রায়গুলোর একটি আসে চট্টগ্রাম–৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর শুনানি থেকে। তাঁর মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক, ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসি আপিল করে। পরবর্তীতে যমুনা ব্যাংকও এতে যুক্ত হয়।
এদিকে, আসলাম চৌধুরীর পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্বর্তী কমিটির সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল যুক্তিতর্কে বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী কেবল ট্রাস্ট ব্যাংক থেকেই ঋণগ্রহিতা ছিলেন। অন্য ব্যাংকগুলোতে তিনি গ্যারান্টর মাত্র। ২৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় তাঁর মনোনয়ন তখন বৈধ ছিল। পরে ট্রাস্ট ব্যাংক আপিল প্রত্যাহার করায় তাঁর নেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল থাকে। অন্য ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে তিনি গ্যারান্টর হওয়ায় এবং সরাসরি ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট না থাকায় তিনি নির্বাচনে অবৈধ হতে পারেন না।’
অন্যদিকে, দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে—সংবিধানে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা বলা হলেও, সেই ত্যাগের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় ইসি নমনীয় ব্যাখ্যা গ্রহণ করে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা ২৯ ডিসেম্বর—মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ সময়ের আগেই—প্রার্থিতার পক্ষে সম্ভব সব ধরনের দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিএনপির কুমিল্লা–৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ মোট ২৩ জন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আপিলে পার পাওয়া আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর–১), আব্দুল আইয়াল মিন্টু (ফেনী–৩), আফরোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ–৩) ও মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী; জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (ঢাকা–১) ও জোনায়েদ হোসাইন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩); জাতীয় পার্টির মঞ্জুম আলী (রংপুর–১) এবং এনসিপির এহতেশামুল হক (সিলেট–১)। তবে শেষদিন শুনানি চলাকালে একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায়, তাঁরা না চাইলেও আইনের ফাঁকফোকরের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণা করতে হয়েছে।
অবশ্য এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুছা শুনানিতে জানান, দ্বৈত নাগরিকত্ব পুরোপুরি ত্যাগের আগে প্রার্থিতা বৈধ করার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের অনেক সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন আগে কখনো দেয়নি এবং সেগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
শুনানি শেষে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।
যদিও জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতা নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন—মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (ঢাকা–১), জোনায়েদ হোসাইন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩), মো. মাহবুবুল আলম (কুড়িগ্রাম–৩), ডা. এ কে এম ফজলুল হক (চট্টগ্রাম–৯) এবং মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ (যশোর–২)। আপিল শুনানিতে জামায়াতের তিন প্রার্থীও তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
একই সঙ্গে রোববার শুনানি শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, বর্তমান ইসি বিএনপির প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছে। দলটির অভিযোগ, একপাক্ষিক রায়ের মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই সুযোগ পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে এনসিপির এহতেশামুল হকও (সিলেট–১) রয়েছেন।
এদিকে, শেষদিনের শুনানি শেষে রাত ৮টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘৯ দিনের এই শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করা হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে আমরা কোনো পক্ষপাত করিনি। আপনারা আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সইয়ের বিষয়টি আমরা যেভাবে বিবেচনা করেছি, তা আপনারা দেখেছেন। আমরা সবার অংশগ্রহণ চেয়েছি। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।’
আর নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ সমর্থন বা ছোটখাটো দাপ্তরিক ত্রুটি ছাড় দেওয়া হলেও; ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে কমিশন কঠোর ছিল।’
শুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আইনের প্রয়োগ বাস্তবতার ভিত্তিতেই করতে হয়। তাই না চাইলেও কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভিত্তি ধরে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ঋণের ক্ষেত্রে যিনি গ্যারান্টর, ঋণগ্রহীতা নন এবং যার ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত নয়—তাঁকে আমরা বৈধ ঘোষণা করেছি। আবার দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে যারা ২৯ ডিসেম্বরের আগেই প্রার্থিতার পক্ষে সম্ভব সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের বৈধতা দেওয়া হয়েছে।’
আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সর্বোপরি, এই ৯ দিনের শুনানিতে আমাদের অবস্থান ও বিবেচনার জায়গা থেকে আমরা মনে করি, আমাদের দেওয়া রায় নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলা আপিল শুনানিতে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অবস্থান নিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছে। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে নেওয়া ইসির ভূমিকায় সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। তবে ইসির দাবি, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসি কঠোর ছিল এবং নিজেদের দেওয়া রায় নিয়ে সন্তুষ্ট সংস্থাটি।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত মোট ৯দিন মনোনয়ন বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি চলে। এর মধ্যে নবম ও শেষ দিনে ঢাকা–১৬ আসনের লেবার পার্টির প্রার্থী আলহাজ এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পান। ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল।
শুনানিতে তাঁর নিযুক্ত আইনজীবী দাবি করেন, ব্যাংকের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে তিনি মোট ঋণের তিনগুণ অর্থ পরিশোধ করলেও তাঁকে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
যদিও হলফনামায় তিনি আর্থিক দায় সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি, তবুও ইসি তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে।
একই ধরনের ঘটনা দেখা যায় সাতক্ষীরা–৪ আসনের গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রার্থী এইচ এম গোলাম রেজার ক্ষেত্রেও। ব্যাংকের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে পাওনার অভিযোগ থাকলেও তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। শুনানিতে তাঁর আইনজীবীর দাবি, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর হিসাবে ব্যাংকের পাওনার চেয়েও বেশি অর্থ রয়েছে, কিন্তু কেন তা সমন্বয় করা হয়নি—সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা গোলাম রেজা জানান, যে ঋণের কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল, সেখানে তিনি ঋণগ্রহীতা নন, বরং গ্যারান্টর ছিলেন। এই যুক্তিতে আপিলে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
ইসির সবচেয়ে আলোচিত রায়গুলোর একটি আসে চট্টগ্রাম–৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর শুনানি থেকে। তাঁর মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক, ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসি আপিল করে। পরবর্তীতে যমুনা ব্যাংকও এতে যুক্ত হয়।
এদিকে, আসলাম চৌধুরীর পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্বর্তী কমিটির সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল যুক্তিতর্কে বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী কেবল ট্রাস্ট ব্যাংক থেকেই ঋণগ্রহিতা ছিলেন। অন্য ব্যাংকগুলোতে তিনি গ্যারান্টর মাত্র। ২৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় তাঁর মনোনয়ন তখন বৈধ ছিল। পরে ট্রাস্ট ব্যাংক আপিল প্রত্যাহার করায় তাঁর নেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল থাকে। অন্য ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে তিনি গ্যারান্টর হওয়ায় এবং সরাসরি ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট না থাকায় তিনি নির্বাচনে অবৈধ হতে পারেন না।’
অন্যদিকে, দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে—সংবিধানে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা বলা হলেও, সেই ত্যাগের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় ইসি নমনীয় ব্যাখ্যা গ্রহণ করে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা ২৯ ডিসেম্বর—মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ সময়ের আগেই—প্রার্থিতার পক্ষে সম্ভব সব ধরনের দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিএনপির কুমিল্লা–৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ মোট ২৩ জন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আপিলে পার পাওয়া আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর–১), আব্দুল আইয়াল মিন্টু (ফেনী–৩), আফরোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ–৩) ও মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী; জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (ঢাকা–১) ও জোনায়েদ হোসাইন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩); জাতীয় পার্টির মঞ্জুম আলী (রংপুর–১) এবং এনসিপির এহতেশামুল হক (সিলেট–১)। তবে শেষদিন শুনানি চলাকালে একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায়, তাঁরা না চাইলেও আইনের ফাঁকফোকরের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণা করতে হয়েছে।
অবশ্য এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুছা শুনানিতে জানান, দ্বৈত নাগরিকত্ব পুরোপুরি ত্যাগের আগে প্রার্থিতা বৈধ করার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের অনেক সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন আগে কখনো দেয়নি এবং সেগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
শুনানি শেষে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।
যদিও জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতা নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন—মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (ঢাকা–১), জোনায়েদ হোসাইন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩), মো. মাহবুবুল আলম (কুড়িগ্রাম–৩), ডা. এ কে এম ফজলুল হক (চট্টগ্রাম–৯) এবং মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ (যশোর–২)। আপিল শুনানিতে জামায়াতের তিন প্রার্থীও তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
একই সঙ্গে রোববার শুনানি শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, বর্তমান ইসি বিএনপির প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছে। দলটির অভিযোগ, একপাক্ষিক রায়ের মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই সুযোগ পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে এনসিপির এহতেশামুল হকও (সিলেট–১) রয়েছেন।
এদিকে, শেষদিনের শুনানি শেষে রাত ৮টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘৯ দিনের এই শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করা হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে আমরা কোনো পক্ষপাত করিনি। আপনারা আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সইয়ের বিষয়টি আমরা যেভাবে বিবেচনা করেছি, তা আপনারা দেখেছেন। আমরা সবার অংশগ্রহণ চেয়েছি। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।’
আর নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ সমর্থন বা ছোটখাটো দাপ্তরিক ত্রুটি ছাড় দেওয়া হলেও; ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে কমিশন কঠোর ছিল।’
শুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আইনের প্রয়োগ বাস্তবতার ভিত্তিতেই করতে হয়। তাই না চাইলেও কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভিত্তি ধরে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ঋণের ক্ষেত্রে যিনি গ্যারান্টর, ঋণগ্রহীতা নন এবং যার ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত নয়—তাঁকে আমরা বৈধ ঘোষণা করেছি। আবার দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে যারা ২৯ ডিসেম্বরের আগেই প্রার্থিতার পক্ষে সম্ভব সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের বৈধতা দেওয়া হয়েছে।’
আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সর্বোপরি, এই ৯ দিনের শুনানিতে আমাদের অবস্থান ও বিবেচনার জায়গা থেকে আমরা মনে করি, আমাদের দেওয়া রায় নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

গায়ের রঙের কারণে জন্মের পর শিশু আফিয়াকে মেনে নেননি তাঁর বাবা। গণমাধ্যমে সেই অসহায়ত্বের খবর দেখে তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) যশোরে আফিয়া ও তার মা মনিরা খাতুনের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সংখ্যালঘুদের আক্রান্ত হওয়ার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে পুলিশ। গত এক বছরে মোট ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে ৭১টিতে সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে। বাকি ৫৭৪টি সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) নিলাম আটকে গেছে। পরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্রে একমাত্র গ্রামীণফোনের অংশ নেওয়া ও অন্যান্য অপারেটরের সরে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহে একটি স্টিলের ল্যাম্পপোস্ট কেটে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেছে দুই যুবকের। তারা হলেন নগরীর মাদ্রাসা কোয়ার্টার এলাকার হৃদয় মিয়া (২৭) ও আকুয়া এলাকার মো. রাকিব মিয়া (৩২)।
৩ ঘণ্টা আগে