নির্বাচন এদেশে সবসময় প্রতিবিপ্লবী ভূমিকা রেখেছে: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ০০: ০২
নির্বাচন সবসময় বিপ্লবী পরিস্থিতিকে স্তিমিত করতে প্রতিবিপ্লব হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

নির্বাচন এদেশে সবসময় বিপ্লবী পরিস্থিতি দমাতে প্রতিবিপ্লব হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একটি সম্ভাবনা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত তা বুর্জোয়ারা দখল করে ফেলেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘নতুন দিগন্ত’ পরিবার আয়োজিত ‘কী দেখেছি, কী বুঝেছি’ শীর্ষক বক্তৃতায় অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন। এটি ছিল তাঁর ৯১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একক বক্তৃতা অনুষ্ঠান।

তিনি ১৯৪৬, ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, যখনই দেশে কোনো বড় গণজাগরণ বা বিপ্লবী সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখনই শাসকশ্রেণি নির্বাচনের মাধ্যমে সেই চেতনাকে অবদমিত করার চেষ্টা করেছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের আগে ভারতজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও নৌবিদ্রোহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন নির্বাচনের মাধ্যমে সেই গণজাগরণকে বিভক্ত করে দাঙ্গা ও দেশভাগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। একইভাবে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয়ের পর অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে উসকে দিয়ে সামরিক শাসন জারি করা হয়। পাকিস্তানি আমলাতন্ত্র ও সামরিক জান্তা সবসময়ই প্রগতিশীল শক্তির উত্থানকে ভয় পেত। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরও যখন এ দেশের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তখন পাকিস্তান রাষ্ট্র আলোচনার নামে গণহত্যা চাপিয়ে দেয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্বাচনের আড়ালে বিপ্লবী সম্ভাবনাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে তিন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা (সাধারণ, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা) বিদ্যমান, যা সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে আরও বেশি বিভক্ত করে তুলছে। এটি শ্রেণি বৈষম্যকে আরও স্থায়ী রূপ দিচ্ছে এবং একটি সমন্বিত জাতীয় চেতনা গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।

একই সঙ্গে তিনি প্রকৃতির বিপর্যয় ও পরিবেশের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহর থেকে আজ পাখিরা হারিয়ে যাচ্ছে, এমনকি কাকও দেখা যায় না। পুঁজিবাদের অনিয়ন্ত্রিত আগ্রাসী চরিত্রই এই পরিবেশগত সংকটের জন্য দায়ী।’

পুঁজিবাদের বিলোপ সাধন এবং সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ব্যক্তিগত মালিকানার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা মানুষকে কখনো প্রকৃত মুক্তি দিতে পারে না। প্রকৃত মুক্তি আসবে তখনই, যখন ব্যক্তিমালিকানার জায়গায় সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বুর্জোয়া গণতন্ত্র কখনো সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না, কারণ এর উদ্দেশ্য কেবল ক্ষমতা কুক্ষিগত করা। প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত