জ্বালানি সংকটে আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে তিনদিন ধরে স্পিডবোট বন্ধ, চরম ভোগান্তি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৫১
আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে তিনদিন ধরে স্পিডবোট বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে নৌ-যোগাযোগে। পেট্রোল সংকটের কারণে গত সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে পাবনার কাজিরহাট ও মানিকগঞ্জের আরিচা নৌপথে দ্রুতগতির স্পিডবোট সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে রাজধানীমুখী যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, কর্মহীন হয়ে বিপাকে পড়েছেন কয়েকশ চালক ও শ্রমিক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়কপথে পাবনা থেকে ঢাকার দূরত্ব পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা হলেও যানজটে তা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঠেকতে পারে। যাত্রীদের সময় বাঁচাতে ২০১৬ সালে চালু হওয়া এই স্পিডবোট সার্ভিস ছিল আস্থার জায়গা। ফেরিতে নদী পার হতে যেখানে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাগে, স্পিডবোটে তা সম্ভব হয় মাত্র ২০-২৫ মিনিটে। বর্তমানে বোট বন্ধ থাকায় ফেরির ওপর চাপ বেড়েছে।

আহনাফ নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বেশি টাকা দিয়ে সময় বাঁচাতে স্পিডবোটে যেতাম। এখন সেই ভোগান্তিই আবার ফিরে এলো।’

আরেক যাত্রী হানিফের মতে, পাম্প থেকে তেল নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

বোট মালিকরা সাধারণত সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে চুক্তিতে তেল সংগ্রহ করেন। কিন্তু বর্তমানে চাহিদামতো সরবরাহ না থাকায় গত সোমবার থেকে ৭৫টি বোটের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বোট মালিক সমিতির সভাপতি রইস উদ্দিন জানান, প্রতিদিন এই রুটে ৩০টি বোট যাতায়াত করে, যাতে গড়ে ৬৬০ লিটার পেট্রোল প্রয়োজন। তেল না থাকায় মালিকদের দৈনিক প্রায় লক্ষাধিক টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের বিশেষ বরাদ্দে ঈদের সময় বোট সচল রাখা গেলেও এখন সেই সরবরাহ বন্ধ। কিছু অসাধু চালক গোপনে বেশি ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করায় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সার্ভিসটি আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন চালকরা। মিরাজ ও বাপ্পির মতো চালকরা জানান, দিনে দুই-তিনটি ট্রিপ মেরে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলত। এখন আয় বন্ধ থাকায় তারা দিশেহারা।

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক মো. শাহেদ মোস্তফা বলেন, ‘ঈদের সময় সংকটের একটি অস্থায়ী সমাধান করা হয়েছিল। নতুন করে বন্ধ হওয়ার বিষয়টি এখনও আমাকে জানানো হয়নি। দ্রুত খোঁজ নিয়ে স্পিডবোট চলাচল পুনরায় শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত