শিক্ষা-স্বাস্থ্যের বেলায় সরকারের টাকা থাকে না: আনু মুহাম্মদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১৮: ১৬
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সংলাপে অতিথিরা। স্ট্রিম ছবি

শিক্ষা খাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে অর্থনীতিবিদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ বলেছেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দিক দিয়ে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের মধ্যে তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ায়ও তলানির দিকে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বললেই সরকারের টাকা থাকে না।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষাখাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এই আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, অন্যান্য দেশ শিক্ষা খাতে পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দিতে পারলে, বাংলাদেশ কেন পারবে না? এটা একবারে হবে না ঠিক, কিন্তু এক বছর পরিকল্পনা নিয়ে করতে হবে।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রজেক্ট অনুযায়ী অর্থায়নে শিক্ষা খাত চলতে পারে না। ট্যাব কেনার মতো সিদ্ধান্ত, কারিকুলাম পরিবর্তন, সৃজনশীল আসা- হঠাৎ করে এসবের উদয় হওয়ার কারণ কমপ্রিহেনসিভ শিক্ষা কমিশন নেই। মান ঠিক রাখতে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, যোগ্যদের শিক্ষকতায় আনার মতো বেতনকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সরকারকে বারবার টেনে জবাবদিহির আওতায় আনবেন আপনারা। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেটির মেরামত শুরু করছি। নতুন প্রাইমারি কারিকুলাম তৈরির কাজ শুরু করছি। প্রাথমিকের শিক্ষকদের জন্য নতুন একটি নীতিমালা হচ্ছে।’

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষা বাজেটে আনুষঙ্গিক বিষয় ঢোকানো হয়, যার ফলে অনেক সময় আকার বড় দেখায়। পরীক্ষার বদলে প্রাথমিকে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকতে হবে। আমাদের স্থায়ী একটি শিক্ষা কমিশন দরকার। তবে সেই কমিশন যেন ঠুঁটো জগন্নাথের মতো না হয়।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে নো কম্প্রোমাইজ। এমপিদের সন্তানদের নিজ এলাকার স্কুলে পড়াতে হবে। তাদের এলাকায় চিকিৎসা নিতে হবে। এটি হলে এমপি হওয়ার জন্য যারা শত শত কোটি টাকা নিয়ে ঘুরছে, তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

জামায়াতে ইসলামীর এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, শিক্ষকদের মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। প্রতিষ্ঠান পলিটিসাইজ করলে চলবে না।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা মাহমুদা মিতু অতীতে শিক্ষা খাতে হওয়া দুর্নীতির তদন্ত দাবি করেন।

জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। প্রত্যেক স্কুলে নতুন বিল্ডিংয়ের আগে পুরোনো বিল্ডিংয়ের অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব এডুকেশন নোরিহিদে ফুরুকাওয়া, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান, ইয়ুথ পলিসি ফোরামের নির্বাহী পরিচালক আমের মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত