চুয়াডাঙ্গায় সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম, বালুর বদলে মাটি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২২: ৩২
চুয়াডাঙ্গার লোকনাথপুর থেকে জীবননগর রাস্তার কার্পেটিং করছেন শ্রমিকেরা। সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার লোকনাথপুর থেকে জীবননগর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজে বালুর সঙ্গে মাটির মিশ্রণ, নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নতুন নির্মাণের পরও কোথাও কোথাও দেবে গেছে সড়ক। প্রায় ২৬ কোটি টাকার প্রশস্তকরণ ও সংস্কার নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চুয়াডাঙ্গার লোকনাথপুর থেকে জীবননগর আঞ্চলিক মহাসড়ক কাজের অনুমোদন পায় যশোরের ‘মঈনুদ্দিন বাসি লিমিটেড’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১৬ কিলোমিটারের এই সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তস্করণ কাজে ব্যয় ধরা হয় ২৫ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ টাকা টাকা। এই রাস্তাটির চওড়া ছিল ১৮ ফুট। ২৪ ফুট চওড়া করে রাস্তাটি নির্মাণ শুরু হয়। কাগজে-কলমে রাস্তাটি শেষ হলেও বাস্তবে তা এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী এ কাজ শেষ হয়েছে গত মার্চে।

কাজ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন স্থানীয় লোকজন। সম্প্রতি জীবননগরের পেয়ারাতলায় কাজ আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। অভিযোগ ওঠে, বালুর সঙ্গে মিশ্রণ করা হয়েছে মাটি, ব্যবহার করা হচ্ছে পুরাতন ইটের খোয়া। নতুন সড়ক নির্মাণের পরই কোথাও কোথাও ফেটে ও দেবে গেছে অনেক অংশ। সড়কের দুই পাশ অস্বাভাবিক নিচু। এই আঞ্চলিক মহাসড়কে স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন বলেন, ‘রাস্তায় বালুর পরিমাণ বেশি ছিল। তবে ভালোমানের বালু ছিল না। খোয়া ৭০ শতাংশ আর বালু ৩০ শতাংশ। রাস্তা তো এখন ভেঙে গেছে। অনেক জায়গায় খানাখন্দ হয় গিয়েছে। রাস্তাটি সম্পূর্ণ বাজে ভাবে তৈরি করা হয়েছে।’

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মঈনুদ্দিন বাসি লিমিটেডের জুনিয়র প্রকৌশলী আলামিন হোসেন বলেন, ‘সড়ক মেরামতের আপ-ডাউন যখন থাকে, তখন এজিং লেভেল মেইনটেইন করা সম্ভব হয় না। এজিং লেভেল মেইনটেইন করতে গিয়ে আপ-ডাউন হয় যায়। পুরো কাজ শেষ করার পরে পুরো এজিং সোজা করে দেব।’

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জীবননগর সড়ক মেরামতের যে এজিংটা রানিং রাস্তা গাড়ি চলাচলের জন্য কিছু অংশ রাখা হয়েছিল। এটা কার্পেটিং বা ওয়ারিং কোর্স শেষ করার পর সড়কের কার্পেটিং লেভেল করে দেয়া হবে। রাস্তার কাজে যে ত্রুটি আছে, তা ঠিক করে দেওয়া হবে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত