বিনা দাওয়াতে ঢাকায় ‘আফগান মেহমান’, টিটিপি সংযোগে তোলপাড়

পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই ভারত থেকে যশোরের বেনাপোল দিয়ে ঢাকায় আসেন আফগানিস্তানের নাগরিক নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গাল। স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজধানীর অদূরে একটি মাদ্রাসায় প্রায় এক মাস ছিলেন নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গাল। এই সময়ে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে তেহরিকে তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বাংলাদেশ শাখার প্রধান ইমরান হায়দারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। এমনকি কওমি ধারার ওই মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ইমরানকে আলাপ করিয়ে দেন।

স্ট্রিমের হাতে আসা পাসপোর্ট ও নথি অনুযায়ী, নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গাল আফগানিস্তানের নাগরিক, বাবার নাম আসিল খান। জন্ম ১৯৯১ সালের ৩১ জুলাই। এই যুবক ‘বিনা আমন্ত্রণে’ পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই ভারত থেকে যশোরের বেনাপোল দিয়ে ঢাকায় আসেন। শুধু তাই নয়, এখান থেকে দুই মাসের ‘ট্রাভেল পাস’ জোগাড় করে পাড়ি জমিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখান থেকে তিনি শুধু আফগানিস্তান যেতে পারবেন।

নিয়ামাতুল্লাহর বাংলাদেশ ছাড়ার পর টনক নড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়ামাতুল্লাহর ব্যাপারে জানতে আফগানিস্তানে যোগাযোগ করেন তাঁরা। কাবুলের তালেবান সরকার বিস্তারিত জানাতে না পারলেও, নিয়ামাতুল্লাহর দীর্ঘদিন পাকিস্তানে অবস্থানের তথ্য দিয়েছে।

নিয়ামাতুল্লাহর মাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থী ইমরান হায়দারের সঙ্গে আলাপ করেছেন, তাদের মধ্যে একজন ওই মাদ্রাসা পরিচালকের খাদেম। ২১ বছর বয়সী এই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এখন পাকিস্তান যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তাঁর এক নিকটাত্মীয় স্ট্রিমকে জানিয়েছেন। সিলেট বিভাগের একটি জেলার ওই শিক্ষার্থী (বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ থাকার পরেও স্ট্রিম নিরাপত্তা বিবেচনায় নাম উল্লেখ করছে না) পরিবারকে ‘উচ্চশিক্ষার’ জন্য পাকিস্তান যাচ্ছেন বলে রাজি করিয়েছেন।

কীভাবে বাংলাদেশে নিয়ামাতুল্লাহ

আফগান সরকার থেকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে পাঠানো নিয়ামাতুল্লাহর পাসপোর্টের কপি সম্প্রতি স্ট্রিমের হাতে এসেছে। এতে মাঙ্গাল ডাকনামে তাঁর জন্ম ১৯৯১ সালের ৩১ জুলাই, পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশে। নিয়ামাতুল্লাহর পাসপোর্ট দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইস্যু করে ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর, যার মেয়াদ শেষ হয় ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর। এরপর আর নিয়ামাতুল্লাহ পাসপোর্ট নবায়ন করেননি। ফলে বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাঁর পাসপোর্ট ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিয়ামাতুল্লাহ বাংলাদেশে আসেন। এরপর মাদ্রাসায় প্রায় এক মাস অবস্থান শেষে ট্রাভেল পাসে দুবাই চলে যান। স্ট্রিম গ্রাফিক
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিয়ামাতুল্লাহ বাংলাদেশে আসেন। এরপর মাদ্রাসায় প্রায় এক মাস অবস্থান শেষে ট্রাভেল পাসে দুবাই চলে যান। স্ট্রিম গ্রাফিক

পুলিশ স্ট্রিমকে জানায়, ভারত থেকে যশোর সীমান্ত দিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে আফগান নাগরিক নিয়ামাতুল্লাহ বাংলাদেশে আসেন। এরপর মাদ্রাসায় প্রায় এক মাস অবস্থান করে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। পরে নিয়ামাতুল্লাহ দুবাই যান।

রাজধানী সংলগ্ন জেলার কওমি ধারার ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের বাড়ি কুমিল্লায়। আলোচিত এই ধর্মীয় বক্তা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কয়েক বছর জেলে ছিলেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে মুক্তি পান এবং আগের মতোই ধর্মীয় কর্মসূচিতে তৎপর হন।

আফগান নাগরিকের ব্যাপারে যোগাযোগ করলে মাদ্রাসাটির পরিচালক স্ট্রিমকে বলেছেন, উনাকে (নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গাল) ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে দালাল চক্র পাকিস্তান থেকে উঠিয়ে বাংলাদেশে ফেলেছে। এরপর তিনি হারায়া গেছেন। পরে তাঁকে মেহমান হিসেবে মাদ্রাসার এক খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়ে আসেন। মাসখানেক ছিলেন। তবে ওয়াজের মৌসুমে ব্যস্ততার কারণে নিয়ামাতুল্লাহর সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়নি আমার।

বিদেশি নাগরিককে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করতে দেওয়া বেআইনি– তা জানা ছিল না বলে দাবি এই পরিচালকের।

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জিয়াউর রশিদ টিপু স্ট্রিমকে বলেছেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশে দুটি আইন রয়েছে। একটি নির্দিষ্টভাবে ভারতের ক্ষেত্রে; অন্যটি অন্যান্য দেশের। ‘দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট ১৯৫২’– এ ভারতের কেউ অবৈধভাবে এলে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আর ভিসা ছাড়া অন্যান্য দেশের কেউ অনুপ্রবেশ করলে ‘দ্য ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৪৬’ অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ হবে। অনুপ্রবেশকারী ও তাঁকে সহায়তাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

নিয়ামাতুল্লাহর বিষয়ে মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্ট্রিম। ইসলামী ধারার পরিচিত এই লেখকও একই জেলায় একটি মাদ্রাসা পরিচালনায় রয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর বাংলাবাজারের পাঠকবন্ধু মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে একটি প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তিনি। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দীর্ঘদিন তিনি জেল খেটেছেন। জামিনে মুক্তির পরে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে চলে যান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশে ফিরে পুরোনো প্রকাশনা ব্যবসার পাশাপাশি ধর্মীয় লেখালেখি করছেন।

খণ্ডকালীন এই শিক্ষক স্ট্রিমকে জানান, আফগান নাগরিক বাংলাদেশ ছাড়ার পর ঢাকা থেকে গোয়েন্দারা মাদ্রাসায় এসে যোগাযোগ করেন। বিস্তারিত তাদের থেকেই জানতে হবে।

জঙ্গি কার্যক্রমের ওপর নজর রাখে- পুলিশের এমন বিশেষায়িত একটি সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্ট্রিমকে জানান, মাদ্রাসায় যতদিন ওই আফগান নাগরিক ছিলেন, ততদিন তাঁরা কিছুই জানতে পারেননি। চলে যাওয়ার পরে খবর পেয়ে মাদ্রাসা পরিদর্শন করা হয়। সেখানকার শিক্ষার্থীরা আফগান নাগরিকের মাধ্যমে টিটিপি বাংলাদেশ শাখার প্রধান ইমরান হায়দারের সঙ্গে আলাপ করেছেন– এমন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভয়েস ও টেক্সট মেসেজ চালাচালির তথ্য তাঁরই মোবাইল ফোনে মেলে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা আফগান নাগরিক নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গালের বিস্তারিত জানতে আফগানিস্তানের জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ ইন্টেলিজেন্স (জিডিআই)’– এর সঙ্গে যোগাযোগ করি। জিডিআই জানায়– নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গাল দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তাঁর বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই।

অবশ্য নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গালকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসা ওই খণ্ডকালীন শিক্ষকের দাবি, এ ব্যাপারে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তাঁর এই দাবির বিষয়ে পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থার ওই কর্মকর্তা জানান, পুলিশের সব বিভাগে তাঁরা খোঁজ করেও এমন কিছু পাননি। মাদ্রাসা থেকে কেউ যোগাযোগ করেননি।

বিদেশি নাগরিককে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করতে দেওয়ার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন কারও বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

মাদ্রাসা পরিচালক ও খণ্ডকালীন শিক্ষক কেন আলোচনায়

আফগান নাগরিককে আশ্রয় দেওয়া মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরদিন কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, ওয়াজকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ প্রচারে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত বক্তাকে শেরেবাংলা নগর থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। এরপর ঢাকার অদূরে একটি ভাড়াবাসায় মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু করেন। ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় মাদ্রাসা চলছে। ভবনের মালিক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা।

সামাজিক মাধ্যমেও কারামুক্তির পর ওয়াজ মাহফিলে মাদ্রাসা পরিচালককে সক্রিয় দেখা গেছে। গত বছরের ১৩ জানুয়ারি ‘আদর্শ টিভি’ নামে ইউটিউব চ্যানেলে তাঁর একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওই মাহফিলে তাঁকে বলতে শোনা যায়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কিন্তু মুসলমান না, এরা হলো মুরতাদ। এইটা খোরাসানের বাহিনী (টিটিপি), তোগো পাকিস্তানের বেইল নাই। হয়ত মুসলমান হ, তওবা কর, কালিমা পড়। রক্ষা পাওয়ার এক পথ, আল্লাহর রুজ্জু ধর। আর কোনো রাস্তা নাই। তোরাও তালেবান হই যা।

এতে তিনি আরও বলেন, টিটিপি যদি তোদের দেশেরই একটা বাহিনী হয়, তো ওরা চাইতেছে শরিয়াহ, খেলাফাহ। মান, সমস্যা কোথায়? টিটিপিও তো বলতেছে আমরা কুরআনি শাসন চাই। কুরআনকে একমাত্র সংবিধান চাই। তো টিটিপির কথা মাইনা নে।

অন্যদিকে, খণ্ডকালীন ওই শিক্ষক ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে নিজের প্রকাশনা থেকে বেশ কয়েকটি বই বের করেছেন। তবে নিজের লেখা ‘আয়াতুল জিহাদ’, ‘ফাযায়েলে জিহাদ’, ‘জিহাদে অর্থব্যয়’, ‘কেন জিহাদ করবো’সহ পুরোনো বইতে আগে যে নাম ব্যবহার করেছেন, তা এখন রাখেননি। নতুন প্রকাশিত বইগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা নামের সঙ্গে নিজের উপজেলার নাম জুড়ে দিয়েছেন।

ফেসবুকে ওই শিক্ষকের ব্যক্তিগত আইডি ও প্রকাশনীর অফিসিয়াল পেজ ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলায় প্রকাশনীটির একটি স্টল ছিল। সে সময় ফেসবুকে ছবি-ভিডিও এবং লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশনী থেকে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়।

বায়তুল মোকাররমে আন্তর্জাতিক বইমেলা চলাকালে প্রকাশনীর ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া স্ট্যাটাস।
বায়তুল মোকাররমে আন্তর্জাতিক বইমেলা চলাকালে প্রকাশনীর ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া স্ট্যাটাস।

বইমেলা চলাকালে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ফেসবুক পেজে একটি ছবি যুক্ত করে লেখা, ‘আফগান মুজাহিদরা আমার ঘরে। আমি বরকতপূর্ণ।’ সংযুক্ত ছবিটিতে মেলায় থাকা প্রকাশনীর স্টলে ওই মাদ্রাসার পরিচালক এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক কাম প্রকাশনীর মালিককে বসে থাকতে দেখা যায়।

প্রকাশনীটি থেকে ‘নবী যুগের মুমিন-মুনাফিক ও আজকের মুসলিম’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে গত বছর। এতে প্রচ্ছদে লেখক শাইখ ইবনে আব্দুল মালেক। কিন্তু প্রকাশনীর ফেসবুক পেজ থেকে লেখক হিসেবে শায়খ আবু তাহেরের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। রকমারি ডটকমে বইটির ২০২৩ সালে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণে আবার লেখকের নাম, শাইখ মাওলানা আবু তাহের রহমানী।

‘ইমারতে ইসলামীর চিন্তাধারা’ বইয়ের প্রচারে ব্যবহৃত পোস্টারের ছবিতে আবু তাহের ও জসিম উদ্দীন রাহমানী। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
‘ইমারতে ইসলামীর চিন্তাধারা’ বইয়ের প্রচারে ব্যবহৃত পোস্টারের ছবিতে আবু তাহের ও জসিম উদ্দীন রাহমানী। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

ফেসবুক পেজের প্রচারে ব্যবহৃত ছবি ও নাম থেকে জানা যায়, এই আবু তাহের রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় হত্যা মামলায় দণ্ড পাওয়া আসামি। ওই মামলায় ২০১৪ সালে হুজি-বির অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড; অন্য ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন দেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া হাফেজ আবু তাহেরের ব্যাপারে রায়ে বলা হয়, হামলার পরিকল্পনায় সহযোগিতা করার অভিযোগে আবু তাহেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি মুক্ত। বইটি জেলে বসেই লিখেছেন বলেও প্রকাশনীর পেজ থেকে প্রচার করা হয়েছে।

পাকিস্তানে যেতে ইচ্ছুক মাদ্রাসার ওই শিক্ষার্থী

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খাসিয়া পাহাড় লাগোয়া গ্রামে ২০০৫ সালে ওই শিক্ষার্থীর জন্ম। স্ট্রিমের প্রতিবেদক এলাকায় গিয়ে তাঁর স্বজন ও প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলে। এসব ব্যক্তিরা জানান, ওই শিক্ষার্থী নম্র-ভদ্র। রাজধানীর অদূরে ওই মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেধা ও আচার-আচরণে প্রশংসনীয় হওয়ায় মাদ্রাসাটির পরিচালক নিজের খাস খাদেম (বিশেষ ব্যক্তিগত সহকারী) মনোনীত করেন ওই শিক্ষার্থীকে। পরিচালক নিজেই টিটিপির পক্ষে কাজ করায়, তিনিও যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিলে ওই পরিচালকের সঙ্গে নিয়মিত সফর করেন। বিভিন্ন মহলে আলোচনার সময়ে শিক্ষার্থী নিজেও ‘ইসলামে জিহাদের’ গুরুত্ব তুলে ধরেন। আফগান নাগরিক মাদ্রাসায় আসার পর তাঁর মধ্যে উৎসাহ বেড়ে যায়। নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গালের মাধ্যমে তিনি সরাসরি ইমরান হায়দারের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

শিক্ষার্থীর ওই নিকট আত্মীয় জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবারকে রাজি করিয়েছে।

এই ব্যাপারে পরিবারের দেওয়া ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলে, সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত