খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন: মির্জা ফখরুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৫৭
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বক্তব্য দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংগৃহীত ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ও সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দিনে দেশনেত্রী জন্ম নিয়েছিলেন, যিনি বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশকে বারবার নেতৃত্ব ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

বিএনপিকে একটি ‘সত্যিকারের রাজনৈতিক দলে’ পরিণত করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিএনপি যে একটি সত্যিকারের রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে, তার মূল কারিগর খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন সংগ্রাম ও লড়াই করে তিনি নিজের প্রশ্নে আপস করেননি এবং দলকে ধারণ করেছেন। তাঁর কাজ, তাঁর প্রেরণা আমাদের সব সময় অনুপ্রেরণা জোগায়।’

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দিনে শপথ নেব, বিএনপি সত্যিকার অর্থেই এমন একটি গণতান্ত্রিক দলে পরিণত হবে, যে দল সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যখন বিএনপি সরকার গঠন করেছে, প্রতিটি মানুষের আশা খালেদা জিয়ার নীতি-ভিশন ২০৩০, পরবর্তীকালে তাঁরই দলের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সামনের দিনগুলোতে কাজ করে যাবে। দলকে শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখবে।’

দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম বিএনপির নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে দৃঢ় থাকতে অনুপ্রাণিত করেছে। নানা চাপ ও পরিস্থিতিতে অনেকে নতি স্বীকার করলেও খালেদা জিয়া তা করেননি। তাঁর এই অবস্থানের কারণেই গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বড় একটি অংশ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল।

আমির খসরু আরও বলেন, নানা ষড়যন্ত্র ও জীবননাশের প্রচেষ্টার পরও খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে মানুষের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এই স্বীকৃতি শুধু খালেদা জিয়ার নয়, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদেরও স্বীকৃতি।

বিএনপি ক্ষমতায় আসায় সবকিছু সহজ হয়ে গেছে—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও আপসহীন রাজনীতির আদর্শ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্থিতিশীলতা ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটিই হবে খালেদা জিয়ার জীবন ও আত্মত্যাগের সার্থকতা।

দোয়া মাহফিলে প্রয়াত খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। এতে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যসচিব মাওলানা আবুল হোসেইন।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির হোসেন মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন: মির্জা ফখরুল