পেনশনের জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ২৭
বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধার অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কয়েকজনের হাতে চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পেনশন ও কল্যাণ সুবিধা পেতে আগের মতো আর ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। ভোগান্তি ছাড়াই যথাসময়ে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে যাবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠান থেকে ৬৪ জেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থ পরিশোধে সরকার এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মাধ্যমে ৬৪ জেলার বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরে যাওয়া ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো শুরু হয়েছে।

এই কার্যক্রম উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শিক্ষকরা সারাজীবন লাখো কোটি শিক্ষার্থীকে নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শ শিখিয়ে মানুষ করেন। অথচ চাকরি জীবন শেষে নিজেদের হকের টাকা তুলতে তাদের ঘুস দিতে বাধ্য হওয়া কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে হয়রানির শিকার হওয়া চরম দুর্ভাগ্যজনক। জাতি হিসেবেও এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গ্লানিকর।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে যে লুটপাট হয়, তা থেকে শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় গঠিত অবসর ও কল্যাণ তহবিলও রেহাই পায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, জাল ইনডেক্স, দুর্বল ব্যাংকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করে এই দুটি তহবিল প্রায় নিঃশেষ করে ফেলা হয়েছিল। ফলে ২০২২ সালের পর অবসরে যাওয়া ১ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী তাদের জমানো টাকার অংশও পাচ্ছিলেন না।

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, খালেদা জিয়ার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সময় সরকারি তহবিল থেকে প্রাথমিকভাবে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠনের মাধ্যমে তিনি এই তহবিলের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া ৬৪ জেলা থেকে অনলাইনে যুক্ত হন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

পেনশনের জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী