রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি মামলা: রায় পিছিয়ে আবার যুক্তিতর্কের দিন ধার্য

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৪৬
ধসে পড়ার পর রানা প্লাজা। ফাইল ছবি
ধসে পড়ার পর রানা প্লাজা। ফাইল ছবি

রানা প্লাজা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)। তবে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত রায় না দিয়ে মামলাটি পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন। আগামী ৬ অক্টোবর যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করা হয়েছে।

দুদকের আইনজীবী ইস্তিয়াক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মামলার কিছু বিষয় আরও পরিষ্কারভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হওয়ায় পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আদালত।

মামলাটিতে সাভারের আলোচিত ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ মোট আসামি আটজন। বাকিরা হলেন—সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।

সোহেল রানা এই মামলায় জামিনে থাকলেও অন্য একটি মামলায় (রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা মামলা) কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম মামলার শুরু থেকেই পলাতক। জামিনে থাকা বাকি পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন দেড় হাজারের বেশি মানুষ।

দুর্ঘটনার পর রানা প্লাজা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশা অনুমোদনের বাইরে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম।

ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে নিবন্ধিত ছিল। এ কারণে প্রাথমিক মামলায় সোহেল রানাকে আসামি করা হয়নি। তার বাবা-মাকে আসামি করা হয়। পরবর্তী তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে সোহেল রানা ছিলেন বলে প্রমাণ মেলে। এরপর অভিযোগপত্রে তাকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় দফায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতে সোহেল রানা ও তার বাবা-মাসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরু হয়। বিচারকাজে আদালতে মোট ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিচার চলাকলে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে রানা প্লাজা নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেয় সাভার পৌরসভা। পরে ভবনটির ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আগের অনুমোদনের তথ্য গোপন করে নতুন নথি তৈরি করে ১০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন করে পৌরসভা। এছাড়া শুরুতে ভবনটিকে শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত