জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নাহিদের আবেদনের শুনানি নির্বাচনের পর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ৪৯
ঢাকা-১১ আসনে এমএ কাইয়ুম ধানের শীষ এবং শাপলা কলি নিয়ে লড়ছেন নাহিদ ইসলাম। স্ট্রিম গ্রাফিক

ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের করা লিভ টু আপিলের শুনানি নির্বাচনের আগে হচ্ছে না। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আবেদনটির ওপর ‘নট টু ডে’ (আজ নয়) আদেশ দিয়েছেন।

এর ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম এ কাইয়ুমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, নির্বাচনের পরেই এই আবেদনের শুনানি হতে পারে।

আদালতে আজ কাইয়ুমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান। অন্যদিকে আবেদনকারী নাহিদ ইসলামের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।

এর আগে হাইকোর্টে রিট খারিজ হওয়ার পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। আবেদনে কাইয়ুমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা ও তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত স্থগিত চাওয়া হয়েছিল।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা ভোটের আগেই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এই আবেদনের শুনানির চেষ্টা করেছিলেন। তবে আজ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নট টু ডে আদেশ দেওয়ায় নির্বাচনের আগে আর শুনানির সুযোগ থাকল না।

রিটকারী পক্ষের মূল অভিযোগ, এম এ কাইয়ুম প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর নাগরিক এবং তিনি নির্বাচনী হলফনামায় এই তথ্য গোপন করেছেন। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলে কেউ সংসদ সদস্য পদে যোগ্য হতে পারেন না।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি একই অভিযোগ এনে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন নাহিদ ইসলাম। ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন। হাইকোর্টের সেই আদেশের বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন এনসিপির এই নেতা।

হাইকোর্টে শুনানিকালে কাইয়ুমের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে বলেছিলেন, ‘কাইয়ুম বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত হয়ে মালয়েশিয়ায় অনেকটা রিফিউজি স্ট্যাটাসে ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরেছেন। তিনি ভানুয়াতু বা অন্য কোনো দেশের নাগরিক নন।’

বিবাদীপক্ষ নাগরিকত্বের অভিযোগটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও এআই ব্যবহার করে তৈরি ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে অভিহিত করেছিল। এছাড়া প্রতীক বরাদ্দের পর ভোটের প্রচারণাকালে এমন রিট দায়ের করার আইনি সুযোগ নেই বলেও যুক্তি দেখানো হয়েছিল।

গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এম এ কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর ২২ জানুয়ারি তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার এসব সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই শেষ মুহূর্তের আইনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন নাহিদ ইসলাম।

Ad 300x250

সম্পর্কিত