leadT1ad

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জামায়াত আমিরের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ২১: ৫০
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

কোনো একটি দলের নির্বাচনী ফান্ডে ইসলামী ব্যাংকের ঋণের টাকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর মন্তব্যটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করে জানতে চেয়েছেন দলটির আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এটি জানতে চান। পাশাপাশি যদি জামায়াতকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলা হয়ে থাকে, তবে তা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘সালাউদ্দিন আহমেদ বলছেন ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার লোন নিয়ে কোনো একটা দলের নির্বাচনী ফান্ডে (তহবিলে) ফান্ডিং (অর্থায়ন) করা হয়েছে। আমি এটি পরিষ্কার জানতে চাই, তিনি জামাতকে এটার দ্বারা মিন করেছেন কি না। যদি তিনি মিন (উদ্দেশ্য) করে থাকেন, আই এম টেকিং অ্যাবসলুট চ্যালেঞ্জ। তিনি এটি প্রমাণ করতে পারলে আমি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে একটা মেডেল দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, যেকোনো ব্যাংক থেকে চুরি, ডাকাতি ও অসততার মাধ্যমে কেউ কিছু নিয়ে যদি আত্মসাৎ করে থাকে, তাঁর ব্যাপারে অবশ্যই তদন্ত করে বিদ্যমান আইনে বিচার হওয়া উচিত। এটি আমি শফিকুর রহমান হলেও আমাকে যেন স্পেয়ার করা না হয়।’

এর আগে ইসলামী ব্যাংকের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক। দেশের মোট রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসে। তৎকালীন সরকারের অব্যাহত অপপ্রচার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর রাজনৈতিক হয়রানির সত্ত্বেও ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা অর্জন করে। সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার নজিরবিহীনভাবে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ দখল করে এবং ব্যাংক লুটপাট ও অনিয়মের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালে ব্যাংকের মুনাফা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান করা হয়নি। খেলাপি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে এসে পৌঁছায়।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার হওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছিল। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা মাত্র ১০৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। ঠিক এমন সময় আবারও পুরনো ব্যাংক দখলদার চক্রের দৃষ্টি ব্যাংকটির দিকে পড়েছে। নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত এবং দুর্নীতির অভিযোগে চিহ্নিত ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ১০ হাজার কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে সামান্য কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। পত্রিকায় একটা বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়নি। এই ব্যাংকের অতীত ট্রেডিশন ভেঙ্গে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একটা কাগজে কেউ না কেউ সই করে দিয়েছে, সেটা নিয়োগপত্র। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর তাঁদের সবাইকে পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছিল কিন্তু তাঁরা কেউ যাননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ব্যাংকের গ্রাহক শুধু জামায়াতে ইসলামীর মানুষরাই নন। এই ব্যাংকের গ্রাহক বিএনপির বহু লোক আছেন, অন্যান্য দলের আছেন, অন্যান্য ধর্মের আছেন। এটা সবার ব্যাংক। এই ব্যাংক একক কারও না। ব্যাংকটাকে ধ্বংস করেছেন শেখ হাসিনা, এস আলমকে তাঁর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। আমরা এখন স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছি সেই এস আলমকেই আবার ফিরে আসার পথ করে দেওয়া হচ্ছে। এটা অবশ্যই সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে বলে আমি মনে করি। সরকার বিবেচনায় নিলে দেশ লাভবান হবে, জাতি লাভবান হবে। ইসলামী ব্যাংক কোনো কারণে যদি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাংলাদেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে বসে যাবে। এই পিরামিড হেলে পড়লে অথবা বিধ্বস্ত হয়ে গেলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপরই মানুষের অনাস্থা তৈরি হবে। এবং এই অনাস্থা বাংলাদেশের জন্য কোনো ভালো বার্তা বয়ে আনবে না।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত