জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪

বরসহ পরিবারের ৯ সদস্যকে দাফন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বাগেরহাট

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৫২
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের দাফনের আগে স্বজনের আহাজারি। স্ট্রিম ছবি

বাগেরহাটের রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যকে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়। বিকেলে নববধূ নিয়ে ফেরার পথে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সঙ্গে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে বরের পরিবারের ৯ জন, কনেসহ পরিবারের ৪ জন ও গাড়িচালক প্রাণ হারান।

স্বজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাব্বিরসহ পরিবারের ৯ জনের লাশ মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে পৌঁছায়।

ওই ৯ জন হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ এবং মেয়ে আরফা ও ইরাম।

এদিকে নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ নেওয়া হয়েছে কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে। আর মাইক্রোবাসচালক নাঈম শেখকে দাফন করা হবে রামপাল উপজেলার জিগির মোল্লা এলাকায়।

আজ শুক্রবার শেলাবুনিয়া গ্রামে আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম। বড় থেকে ছোট সবাই আসছেন রাজ্জাকের বাড়িতে। চেষ্টা করছেন সান্ত্বনা দেওয়ার।

শেলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ শিকদার বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। এক দুর্ঘটনায় তার দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতি-নাতনি মারা গেল।

দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি হারিয়েছেন স্ত্রীসহ এক ছেলে ও দুই মেয়ে। তিনি আহাজারি করে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম।’ এরপর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল ও নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারার আওতায় নিহত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মাইক্রোবাসচালক নাঈম শেখের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত