তৌফিক হাসান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ৯ দিনের শুনানিতে ৪১৪ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেলেও, বাতিল হয়েছে দেড় শতাধিক প্রার্থী।
এর আগে, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে শুনানি শুরু হয়। শেষ হয় গতকাল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায়।
এদিকে, প্রার্থিতা ফিরে না পাওয়া এই দেড় শতাধিকের অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। ইসির তথ্যানুযায়ী, ৯৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাননি। আর বিএনপি-জামায়াতসহ ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮টি রাজনৈতিক দলের ৫২ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পাননি।
এই ৫২ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) ১৪ জন, জাতীয় পার্টি (জেপি) ৭ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৫ জন, বিএনপির ৪ জন, বিএনপির বিদ্রোহী ৪ জন, ইসালামী আন্দোলনের ৩ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ২ জন, খেলাফত মজলিসের ২ জন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১ জন। বাকি ১০ জন ১০টি রাজনৈতিক দলের সদস্য।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ের সময় আইনে নির্ধারিত নিয়মকানুন মানার বিষয়ে কোনো ঘাটতি রয়েছে কিনা সেটি দেখা হয়েছে। এর ফলে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর না করা, ঋণ খেলাপ থাকা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ না করা, আয়কর বিবরণী না দেওয়া, মনোনয়ণপত্র পূরণে অসম্পূর্ণতা রাখা, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা, মামলা সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না করা, তথ্য গোপন করা, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া, দলের প্রত্যয়ন না দেওয়া ও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সই না থাকার বিষয়গুলো দেখা হয়েছে।
ইসির কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সই জটিলতাই ডুবিয়েছে বেশিরভাগ স্বতন্ত্রদের। এছাড়া ঋণখেলাপি কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণেও স্বতন্ত্র সহ রাজনৈতিক দলের বেশিরভাগের আপিল না-মঞ্জুর হয়েছে। তবে প্রতিবারের চেয়ে এবার অনেক নমনীয়ভাবে বিষয়গুলো দেখা হয়েছে বলে মনে করছেন ইসির কমকর্তারা।
তাঁদের মতে, নমনীয়ভাবে শুনানি পরিচালনা করলেও আইনের অনেক ফাঁক-ফোকরে আটকে যান এই দেড় শতাধিক প্রার্থী।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থিতা হারানো ৫২ জনের মধ্যে ৪ জন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। এর মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনের মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপির জটিলতায় আটকে যান। তবে কুমিল্লা-১০ আসনের আবদুল গফুর ভূইয়ার আপিলও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে বাতিল হয়। এছাড়া যশোর-৪ আসনে টি এস আইয়ুবের প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে।
আবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়েও দলটির নামে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৪ প্রার্থীর আপিলও খারিজ করেছে ইসি। দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এদের খারিজ করা হয়। তাঁরা হলেন—সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে মো. শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ- ৬ আসনে মো. সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আসনে মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ও যশোর- ১ আসনে মো. মফিকুল হাসান তৃপ্তি।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম-৯ আসনের মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের প্রার্থিতা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে বাতিল হয়।
এদিকে, গণঅধিকার পরিষদের শরীয়তপুর-২ আসনে আখতারুজ্জামান সম্রাট, গোপালগঞ্জ-১ আসনে মো. কাবির মিয়া, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১১ আসনে মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ও পাবনা-৩ আসনে মো. হাসানুল ইসলাম। ইসলামী আন্দোলনের নরসিংদী-২ আসনে আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহমেদ, ঝিনাইদহ-১ আসনে মো. আলম বিশ্বাস ও বাগেরহাট-১ আসনে মুজিবর রহমান শামীম। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে মো. নজরুল ইসলাম ও নাটোর-২ আসনে জি এ এ মুবিন। খেলাফত মজলিসের ময়মনসিংহ-৯ আসনে শামসুল ইসলাম ও নাটোর-১ আসনে মো. আজাবুল হকে প্রার্থিতা টিকেনি।
আর নরসিংদী-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শরিফুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ আসনের এবি পার্টির ফারাহ নাজ সাত্তার, ঢাকা-৮ নিউক্লিয়াস পার্টি বাংলাদেশের মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসাইন, রংপুর-৬ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা-১৩ আসনে আমজনতা দলের রাজু আহমেদ, ময়মনসিংহ-১ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক, নারায়ণগঞ্জ-২ ও ঢাকা ১০ আসনের বাংলাদেশ লিপাবলিকান পার্টির মো. আবু হানিফ হৃদয়, সিরাজগঞ্জ-২ জনতার দলের মো. সোহেল রানা, নোয়াখালী-৫ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী ও চট্টগ্রাম-১২ আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির এম. এয়াকুব আলী প্রার্থিতাও শুনানিতে বাতিল হয়েছে।
১৪ দলের শরিক দল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির দুইটি গ্রুপও ২১ জনের প্রার্থিতা হারিয়েছেন। এর মধ্যে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপার ১৪ জন ও জাতীয় পার্টির (জেপি) ৭ জন প্রার্থিতা হারিয়েছে।
জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টির ১৪ জন হলেন—গাজীপুর-২ আসনে মোহাম্মদ ইস্রাফিল মিয়া, নোয়াখালীর-৬ আসনে নাছিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৮ আসনে নুরুল ইসলাম মিলন, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মো. মুজিবুল হক, সাতক্ষীরা-২ আসনে শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, নীলফামারী-৩ আসনে মো. রোহান চৌধুরী, সাতক্ষীরা-৪ আসনে হুসেইন মুহাম্মদ মায়াজ, ঝালকাঠি-২ আসনে এম এ কুদ্দুস খান, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মানিকগঞ্জ-২ এস এম আব্দুল মান্নান, রংপুর-১ আসনে মো: মঞ্জুম আলী, ঢাকা-৩ আসনে মো. ফারুক, ঢাকা-১১ আসনে এস এম আমিনুল হক সেলিম ও গাইবান্ধা-১ আসনে মো. মাফুজুল হক সরদার।
অন্যদিকে, জেপির প্রার্থিতা হারানো ৭ জন হলেন—জামালপুর-২ আসনে মোস্তফা আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৩ আসনে এম এ ছালাম, চট্টগ্রাম-১২ আসনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জামালপুর-২ আসনে মো. আনোয়ার হোসেন, খুলনা-৬ আসনে মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও শেরপুর-২ আসনে মো. রফিকুল ইসলাম (বেলাল)।
ইসির থেকে প্রার্থিতা ফেরত না পাওয়া বেশিরভাগ প্রার্থী হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস উচ্চ আদালত থেকে তাঁরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত রায় নিশ্চিত করতে পারবেন।
এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত কুমিল্লা-৪ আসনের প্রাথী মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের যে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আমরা সেটি শুরু করে দিয়েছি। আমরা অবশ্যই হাইকোর্টে যাব। এতো সহজ না আমাকে সরিয়ে দেওয়া। আমি অবশ্যই আমার প্রার্থিতা ফিরে পাব।’
একই কথা জানান বিএনপি মনোনীত চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমরা অবশ্যই হাইকোর্টে যাব। সেখান থেকেই প্রার্থিতা ফিরিয়ে আনব।’
বরগুনা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রাথী মো. শামীম স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা শুধু নিজেদের জন্য হাইকোর্টে লড়ব না। আমরা ইসির বিরুদ্ধেও মামলা করব। তারা আমাদের সময় দিয়েও আমাদের কথা শুনেনি। তারা আমাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন।’
এছাড়া ইসিতে একধিকবার সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ‘আমরা আশাবাদী আমাদের সব প্রার্থী বৈধ হবেন। যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তাঁদের সামান্য কিছু ত্রুটি ছিল। যা রিটার্নিং কর্মকর্তাই ঠিক করতে পারতো। আর যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তাঁরা হাইকোর্টে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সে রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’
নির্বাচন কমিশনের ৯দিনের শুনানিতে যেমন প্রার্থিদের মধ্যে আনন্দ দেখা গেছে; আবার উত্তেজনা, হট্টগোল ও ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। বিশেষ করে ঋণখেলাপী ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের মধ্যেই এই বিষয়টি দেখা গেছে। শুনানি চলাকালেই প্রার্থীদের মধ্য বাগবিতণ্ডা এবং ইসির প্রতি কোনো কোনো প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে দুই-একটি ঘটনা ছাড়া পুরো শুনানি উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি শুনানি অনেক উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে। ছোট দুই-একটি ঘটনা ঘটেছে। যেটা আমাদের চিন্তার মধ্যে ছিল না। আর সার্বিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে খুব সহজ ছিলাম। আইনগত বিষয়ে শক্ত ছিলাম। তবে ঋণখেলাপীর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ছিল গেরান্টর। ফলে গেরান্টরের প্রার্থী হতে বাঁধা নেই। সেই আইনে ঋণখেলাপীরা ছাড় পেয়ে গেছে। আর বিদেশের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন আইনজীবী র বক্তব্য শুনে আদেশ দিয়েছি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ৯ দিনের শুনানিতে ৪১৪ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেলেও, বাতিল হয়েছে দেড় শতাধিক প্রার্থী।
এর আগে, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে শুনানি শুরু হয়। শেষ হয় গতকাল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায়।
এদিকে, প্রার্থিতা ফিরে না পাওয়া এই দেড় শতাধিকের অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। ইসির তথ্যানুযায়ী, ৯৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাননি। আর বিএনপি-জামায়াতসহ ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮টি রাজনৈতিক দলের ৫২ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পাননি।
এই ৫২ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) ১৪ জন, জাতীয় পার্টি (জেপি) ৭ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৫ জন, বিএনপির ৪ জন, বিএনপির বিদ্রোহী ৪ জন, ইসালামী আন্দোলনের ৩ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ২ জন, খেলাফত মজলিসের ২ জন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১ জন। বাকি ১০ জন ১০টি রাজনৈতিক দলের সদস্য।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ের সময় আইনে নির্ধারিত নিয়মকানুন মানার বিষয়ে কোনো ঘাটতি রয়েছে কিনা সেটি দেখা হয়েছে। এর ফলে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর না করা, ঋণ খেলাপ থাকা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ না করা, আয়কর বিবরণী না দেওয়া, মনোনয়ণপত্র পূরণে অসম্পূর্ণতা রাখা, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা, মামলা সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না করা, তথ্য গোপন করা, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া, দলের প্রত্যয়ন না দেওয়া ও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সই না থাকার বিষয়গুলো দেখা হয়েছে।
ইসির কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সই জটিলতাই ডুবিয়েছে বেশিরভাগ স্বতন্ত্রদের। এছাড়া ঋণখেলাপি কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণেও স্বতন্ত্র সহ রাজনৈতিক দলের বেশিরভাগের আপিল না-মঞ্জুর হয়েছে। তবে প্রতিবারের চেয়ে এবার অনেক নমনীয়ভাবে বিষয়গুলো দেখা হয়েছে বলে মনে করছেন ইসির কমকর্তারা।
তাঁদের মতে, নমনীয়ভাবে শুনানি পরিচালনা করলেও আইনের অনেক ফাঁক-ফোকরে আটকে যান এই দেড় শতাধিক প্রার্থী।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থিতা হারানো ৫২ জনের মধ্যে ৪ জন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। এর মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনের মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপির জটিলতায় আটকে যান। তবে কুমিল্লা-১০ আসনের আবদুল গফুর ভূইয়ার আপিলও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে বাতিল হয়। এছাড়া যশোর-৪ আসনে টি এস আইয়ুবের প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে।
আবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়েও দলটির নামে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৪ প্রার্থীর আপিলও খারিজ করেছে ইসি। দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এদের খারিজ করা হয়। তাঁরা হলেন—সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে মো. শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ- ৬ আসনে মো. সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আসনে মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ও যশোর- ১ আসনে মো. মফিকুল হাসান তৃপ্তি।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম-৯ আসনের মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের প্রার্থিতা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে বাতিল হয়।
এদিকে, গণঅধিকার পরিষদের শরীয়তপুর-২ আসনে আখতারুজ্জামান সম্রাট, গোপালগঞ্জ-১ আসনে মো. কাবির মিয়া, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১১ আসনে মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ও পাবনা-৩ আসনে মো. হাসানুল ইসলাম। ইসলামী আন্দোলনের নরসিংদী-২ আসনে আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহমেদ, ঝিনাইদহ-১ আসনে মো. আলম বিশ্বাস ও বাগেরহাট-১ আসনে মুজিবর রহমান শামীম। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে মো. নজরুল ইসলাম ও নাটোর-২ আসনে জি এ এ মুবিন। খেলাফত মজলিসের ময়মনসিংহ-৯ আসনে শামসুল ইসলাম ও নাটোর-১ আসনে মো. আজাবুল হকে প্রার্থিতা টিকেনি।
আর নরসিংদী-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শরিফুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ আসনের এবি পার্টির ফারাহ নাজ সাত্তার, ঢাকা-৮ নিউক্লিয়াস পার্টি বাংলাদেশের মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসাইন, রংপুর-৬ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা-১৩ আসনে আমজনতা দলের রাজু আহমেদ, ময়মনসিংহ-১ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক, নারায়ণগঞ্জ-২ ও ঢাকা ১০ আসনের বাংলাদেশ লিপাবলিকান পার্টির মো. আবু হানিফ হৃদয়, সিরাজগঞ্জ-২ জনতার দলের মো. সোহেল রানা, নোয়াখালী-৫ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী ও চট্টগ্রাম-১২ আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির এম. এয়াকুব আলী প্রার্থিতাও শুনানিতে বাতিল হয়েছে।
১৪ দলের শরিক দল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির দুইটি গ্রুপও ২১ জনের প্রার্থিতা হারিয়েছেন। এর মধ্যে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপার ১৪ জন ও জাতীয় পার্টির (জেপি) ৭ জন প্রার্থিতা হারিয়েছে।
জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টির ১৪ জন হলেন—গাজীপুর-২ আসনে মোহাম্মদ ইস্রাফিল মিয়া, নোয়াখালীর-৬ আসনে নাছিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৮ আসনে নুরুল ইসলাম মিলন, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মো. মুজিবুল হক, সাতক্ষীরা-২ আসনে শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, নীলফামারী-৩ আসনে মো. রোহান চৌধুরী, সাতক্ষীরা-৪ আসনে হুসেইন মুহাম্মদ মায়াজ, ঝালকাঠি-২ আসনে এম এ কুদ্দুস খান, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মানিকগঞ্জ-২ এস এম আব্দুল মান্নান, রংপুর-১ আসনে মো: মঞ্জুম আলী, ঢাকা-৩ আসনে মো. ফারুক, ঢাকা-১১ আসনে এস এম আমিনুল হক সেলিম ও গাইবান্ধা-১ আসনে মো. মাফুজুল হক সরদার।
অন্যদিকে, জেপির প্রার্থিতা হারানো ৭ জন হলেন—জামালপুর-২ আসনে মোস্তফা আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৩ আসনে এম এ ছালাম, চট্টগ্রাম-১২ আসনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জামালপুর-২ আসনে মো. আনোয়ার হোসেন, খুলনা-৬ আসনে মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও শেরপুর-২ আসনে মো. রফিকুল ইসলাম (বেলাল)।
ইসির থেকে প্রার্থিতা ফেরত না পাওয়া বেশিরভাগ প্রার্থী হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস উচ্চ আদালত থেকে তাঁরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত রায় নিশ্চিত করতে পারবেন।
এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত কুমিল্লা-৪ আসনের প্রাথী মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের যে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আমরা সেটি শুরু করে দিয়েছি। আমরা অবশ্যই হাইকোর্টে যাব। এতো সহজ না আমাকে সরিয়ে দেওয়া। আমি অবশ্যই আমার প্রার্থিতা ফিরে পাব।’
একই কথা জানান বিএনপি মনোনীত চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমরা অবশ্যই হাইকোর্টে যাব। সেখান থেকেই প্রার্থিতা ফিরিয়ে আনব।’
বরগুনা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রাথী মো. শামীম স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা শুধু নিজেদের জন্য হাইকোর্টে লড়ব না। আমরা ইসির বিরুদ্ধেও মামলা করব। তারা আমাদের সময় দিয়েও আমাদের কথা শুনেনি। তারা আমাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন।’
এছাড়া ইসিতে একধিকবার সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ‘আমরা আশাবাদী আমাদের সব প্রার্থী বৈধ হবেন। যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তাঁদের সামান্য কিছু ত্রুটি ছিল। যা রিটার্নিং কর্মকর্তাই ঠিক করতে পারতো। আর যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তাঁরা হাইকোর্টে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সে রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’
নির্বাচন কমিশনের ৯দিনের শুনানিতে যেমন প্রার্থিদের মধ্যে আনন্দ দেখা গেছে; আবার উত্তেজনা, হট্টগোল ও ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। বিশেষ করে ঋণখেলাপী ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের মধ্যেই এই বিষয়টি দেখা গেছে। শুনানি চলাকালেই প্রার্থীদের মধ্য বাগবিতণ্ডা এবং ইসির প্রতি কোনো কোনো প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে দুই-একটি ঘটনা ছাড়া পুরো শুনানি উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি শুনানি অনেক উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে। ছোট দুই-একটি ঘটনা ঘটেছে। যেটা আমাদের চিন্তার মধ্যে ছিল না। আর সার্বিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে খুব সহজ ছিলাম। আইনগত বিষয়ে শক্ত ছিলাম। তবে ঋণখেলাপীর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ছিল গেরান্টর। ফলে গেরান্টরের প্রার্থী হতে বাঁধা নেই। সেই আইনে ঋণখেলাপীরা ছাড় পেয়ে গেছে। আর বিদেশের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন আইনজীবী র বক্তব্য শুনে আদেশ দিয়েছি।’

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে। এসময় এনসিপি নেতারা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
১০ মিনিট আগে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা পদে আর থাকছেন না যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ টবি ক্যাডম্যান।
১১ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৭ হাজার ২০৩ মেট্রিক টন গম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে জাহাজ ‘এমভি ক্লিপার ইসাডোরা’। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) ক্রয় চুক্তির আওতায় এই চালান দেশে আসে। খাদ্য মন্ত্রণালয়য়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
১৬ মিনিট আগে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তাঁর নেতৃত্বে জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, স্পেন ও ইতালির রাষ্ট্রদূতেরা এই বৈঠকে অংশ নেন।
১ ঘণ্টা আগে