শিশু রামিসা হত্যা: ডলারকে দুষলেন সোহেল, নির্দোষ দাবি স্ত্রীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ১৫: ১৭
শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ‘ডলার’ নামের আরেকজন এই ঘটনায় দোষী দাবি করেন সোহেল।

সকালে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে ওঠেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং ১৬ সাক্ষীর দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান।

এরপর আসামিরা দোষী নাকি নির্দোষ– বিচারকের এমন প্রশ্নে স্বপ্না আক্তার নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। তার স্বামী সোহেল রানা বিচারকের কাছে মাফ চেয়ে বলেন, ‘স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমাকে মাফ করে দেন। আমার সঙ্গে ডলার ছিল, সেটা কেউ দেখে নাই। তাকে ধরেন স্যার। সেও তো দোষী।’

গতকাল সোমবার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিনও সোহেল দাবি করেছিলেন, তিনি শুধু রামিসাকে ‘দুই টুকরো’ করেছেন। ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ডলার নামে মিরপুরের এক ব্যক্তি। ডলারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে তিনি কাজটি করেছেন।

পুলিশের দাবি, মূল ঘটনা থেকে নজর ভিন্নদিকে সরাতে সোহেল কৌশলে এসব কথা বলছেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য রেকর্ড করার পর আদালত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন বলে জানিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ।

গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন সাবলেট ভাড়াটিয়া সোহেল রানা। ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মামলা করেন। পুলিশ সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে বাসা থেকে এবং সোহেলকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে।

মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ২৪ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর ১ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার একদিনে মামলার বাদী, রামিসার মাসহ মোট ১৬ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। আজ আত্মপক্ষ সমর্থনের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের পর্যায়ে পৌঁছাল।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত