আইসিটি মামলায় চার্জশিটভুক্তদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব ইসির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ২৩: ৩০
সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সংগৃহীত ছবি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চার্জশিটভুক্তদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের ১২তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া ইসি বৈঠক বিকেল সাড়ে ৫টায় শেষ হওয়ার পর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ইসির বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, আইসিটি মামলায় চার্জশিটভুক্তদের ও স্বপদে থাকা প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করবে ইসি। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনেরও প্রস্তাব করবে সংস্থাটি।

সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আইন সংশোধনের বেশ কিছু সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে ইসি। যার মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত এবং ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণা। দ্রুত এই সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাবে ইসি।

ব্রিফিংয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘২০০৯ সালে করা স্থানীয় সরকারের পাঁচটি সংস্থার আইনগুলোর ভেতরে আমাদের কমিশনের বিবেচনায় যেসব জায়গায় সংশোধন করা দরকার, আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সব কটি আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করার সুপারিশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি যে সব কটি আইনে এটি যুক্ত করা উচিত। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে কমিশন মনে করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবেন। সে জন্য আমরা এটি সংশোধনের জন্য সুপারিশ করব।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের জামিনদারদেরও অযোগ্য ঘোষণা করার সুপারিশ করা হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে দুটি ক্ষেত্র—একটি হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং আরেকটি জামিনদার। ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা তিনি তো আছেনই, তবে জামিনদারদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে অযোগ্য করার একটি প্রস্তাবনায় আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি। এর পাশাপাশি বিলখেলাপি—বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল এ ধরনের যেসব সেবা প্রদানকারী সংস্থায় যদি কোনো বিলখেলাপি থাকে, সেটি ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। এটি অযোগ্যতা হিসেবে আসবে। লাভজনক পদে থেকেও কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না।’

সচিব বলেন, ‘আইন সংশোধনের এই সুপারিশগুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাব। তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবেন। কারণ আমরা আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রাখি না, আমরা আইনের কিছু প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করতে পারি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের।’

এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম তফসিল কবে ঘোষণা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তফসিল চূড়ান্ত হলে জানাব। আমাদের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছিলেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হবে, তো সেই অনুযায়ী আমাদের খসড়া রেডি করে কাজ করতে হচ্ছে।’

আইন সংশোধনীর কারণে ভোট পেছানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘এটি তো আমি বলতে পারব না। আমরা যত দ্রুত সুপারিশ দিতে পারব, তত দ্রুত আরেকটি কাজ এগোতে পারব।’

এনআইডি সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা

ইসির ১২তম কমিশন সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনের পাশাপাশি এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আখতার আহমেদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এনআইডি নবায়নের জন্য নির্ধারিত একটা ফরম থাকবে এবং সেই ফরমে কী কী তথ্য থাকবে—একটি ফ্যামিলি ট্রির কথা বলা হয়েছে। আবেদনকারী বা এনআইডিধারী তার পরিবারের তথ্যটা দেবেন, যাতে সংগতিটা আমরা বজায় রাখতে পারি। এ ক্ষেত্রেও একটি ন্যূনতম ফির ব্যাপার আছে। বর্তমানে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সীদের এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যাতে ১৮ বছর হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। এই তথ্য সংগ্রহের পর্যায়টা কোন পর্যন্ত নামানো যায়, সেটি নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের ব্যাপারে এটি টু-স্টেপ মেকানিজম ছিল। প্রবাসীরা ফরম জমা দেওয়ার পর বায়োমেট্রিক দেওয়ার পরে আমাদের এখানে তদন্তে আসত, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরে সেটি আপলোড হতো। এখন বায়োমেট্রিকটা আপলোড করে দেবেন, আমরা এখানে তদন্তে যথার্থতা পেলে এখান থেকেই অনুমোদন দিয়ে দেব। এতে একটি স্টেপ কমে যাবে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত