জাবি চিকিৎসা কেন্দ্রে ১৯ হাজার ওষুধের গরমিল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার

ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে। গত ২১ দিনে সরবরাহ করা ৯ ধরনের এসব ওষুধের নথিপত্রে কোনো হিসাব মেলেনি।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের পর উপাচার্যের নির্দেশে আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তাৎক্ষণিক এক পরিদর্শনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পরিদর্শনে স্টোরে থাকা প্রকৃত ওষুধের মজুতের সঙ্গে নথিভুক্ত হিসাবের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।

হিসাব না মেলা এসব ওষুধের বাজারমূল্য প্রায় ৭৩ হাজার ১১০ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার নথি অনুযায়ী, গত ৩০ জুন চিকিৎসা কেন্দ্রে মোট ৭৩ হাজার ৯৯৮টি ওষুধ সরবরাহ করা হয়। আর চিকিৎসা কেন্দ্রের ফার্মেসির নথি অনুযায়ী, স্টোর থেকে ফার্মেসিতে পাঠানো হয় ৫৪ হাজার ৪৩১টি ওষুধ। অর্থাৎ সরবরাহ করা ওষুধের তুলনায় ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের কোনো হিসাব মিলছে না।

পরিদর্শন শেষে জাকসুর নেতারা বলেন, গত ৩০ জুন প্রায় দুই লাখ টাকার ওষুধ কেনা হয়েছিল, যা এক মাসের বেশি সময় চলার কথা। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মাথায় প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের অভিযোগ ওঠে। পরে হিসাব যাচাই ও স্টোর পরিদর্শনে ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক বলেন, ‘স্টোরের চাবি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেই থাকার কথা। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) নুর-এ-কামাল বলেন, ‘জাকসুর করা সংখ্যাগত গরমিলের তালিকা ঠিক আছে। তবে আমি কোনোভাবেই এর সঙ্গে জড়িত নই। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। স্টোরের চাবি আমার কাছেই থাকে। আমি নিজেই ওষুধ ফার্মেসিতে পাঠাই। তবে আমি না থাকলে একজন পিয়ন চাবি নিয়ে ওষুধ বের করে।’

প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী স্টোরের দায়িত্ব ও চাবি স্টোর কর্মকর্তার কাছেই থাকে। অন্য কাউকে চাবি দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি স্টোর থেকে ওষুধ পাওয়া না যায় বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে তার দায় স্টোর কর্মকর্তার।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও চিকিৎসা কেন্দ্রের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ না থাকার অভিযোগ আমরা প্রায়ই পাই। তাই তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরিদর্শনে যে গরমিল পাওয়া গেছে, তা তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরিদর্শনে আরও ছিলেন জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক, শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আবু উবায়দা উসামা, কার্যকরী সদস্য মো. আবু তালহা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব ও ডেপুটি কম্পট্রোলার মো. ফখরুল ইসলাম।

Ad 300x250

সম্পর্কিত