স্ট্রিম সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর বাধ্যতামূলক বিমার প্রিমিয়াম দেন। বিনিময়ে অসুস্থতায় চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার কথা। কিন্তু আর্থিকভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশাসনের চুক্তির খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অন্তত ৬৯৪ শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিমার আবেদন করেও, মাসের পর মাস পাচ্ছেন না।
২০২১ সালে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০২৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছে। এরইমধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ যে ১৫টি জীবন বিমা কোম্পানিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে, তার মধ্যে যমুনা লাইফ রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা হারানো কোম্পানিটি ৩৮২ শিক্ষার্থীর বিমা দাবি নিষ্পত্তি ছাড়াই সেবা বন্ধ করে দেয়। এরপর নতুন করে ৩১২টিসহ মোট ৬৯৪ শিক্ষার্থীর বিমা দাবি আটকে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে বছরে ৩৩০ টাকা করে বিমার প্রিমিয়াম দেন। সেই হিসাবে প্রতিবছর তহবিলে জমা হয় ১ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি। বর্তমানে এই তহবিলে প্রায় ৯০ লাখ টাকা অলস পড়ে রয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা শেষে পাওনার জন্য বিমা অফিসের বারান্দায় ঘুরছেন।
ভুক্তভোগী হযরত আলী গত বছরের নভেম্বরে নাক-কান-গলার চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘সব কাগজ জমা দিয়েছি। মাসের পর মাস অপেক্ষা করছি। এখন মনে হচ্ছে, টাকাটা আর কোনো দিন পাব না।’
হযরত আলীর মতো অনেক শিক্ষার্থীর একাধিক আবেদন ঝুলে আছে। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রিমিয়াম দিলেও, বিপদের সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে পাশে পাচ্ছেন না তারা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ডাকসু নেতারা। ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ গত জুনে সিনেট অধিবেশনে প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের টাকা জমা থাকলেও কেন প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্লেইম নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না?
ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলাকে দায়ী করেন, ‘একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই চুক্তি করা হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ ও হিসাব পরিচালক চাইলে দ্রুত সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু তাদের অবহেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ মনে করেন, বিমা দাবি মূল্যায়ন একটি বিশেষায়িত কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তহবিল থেকে দ্রুত টাকাগুলো প্রো-রাটা (আনুপাতিক) ভিত্তিতে বণ্টন করে শিক্ষার্থীদের দেওয়া উচিত। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, তারাও সমাধানের পথ খুঁজছে। নতুন করে বিমা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য গত ২৫ জুন দরপত্র আহ্বান করেছে ঢাবি প্রশাসন। ১৩ জুলাই সেই দরপত্র খোলা হয়েছে।
একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই চুক্তি করা হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ ও হিসাব পরিচালকের অবহেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা লাইফ আগে ভালোভাবে সেবা দিয়েছে। পরে অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হয়েছে, যা আমাদের জানা ছিল না। আমরা এখন বেসরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদনগুলো যাচাই করে দ্রুত টাকা পরিশোধের চেষ্টা করছি।’
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সতর্কতার সঙ্গে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে। শিগগির শিক্ষার্থীদের ঝুলে থাকা আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর বাধ্যতামূলক বিমার প্রিমিয়াম দেন। বিনিময়ে অসুস্থতায় চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার কথা। কিন্তু আর্থিকভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশাসনের চুক্তির খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অন্তত ৬৯৪ শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিমার আবেদন করেও, মাসের পর মাস পাচ্ছেন না।
২০২১ সালে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০২৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছে। এরইমধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ যে ১৫টি জীবন বিমা কোম্পানিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে, তার মধ্যে যমুনা লাইফ রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা হারানো কোম্পানিটি ৩৮২ শিক্ষার্থীর বিমা দাবি নিষ্পত্তি ছাড়াই সেবা বন্ধ করে দেয়। এরপর নতুন করে ৩১২টিসহ মোট ৬৯৪ শিক্ষার্থীর বিমা দাবি আটকে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে বছরে ৩৩০ টাকা করে বিমার প্রিমিয়াম দেন। সেই হিসাবে প্রতিবছর তহবিলে জমা হয় ১ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি। বর্তমানে এই তহবিলে প্রায় ৯০ লাখ টাকা অলস পড়ে রয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা শেষে পাওনার জন্য বিমা অফিসের বারান্দায় ঘুরছেন।
ভুক্তভোগী হযরত আলী গত বছরের নভেম্বরে নাক-কান-গলার চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘সব কাগজ জমা দিয়েছি। মাসের পর মাস অপেক্ষা করছি। এখন মনে হচ্ছে, টাকাটা আর কোনো দিন পাব না।’
হযরত আলীর মতো অনেক শিক্ষার্থীর একাধিক আবেদন ঝুলে আছে। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রিমিয়াম দিলেও, বিপদের সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে পাশে পাচ্ছেন না তারা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ডাকসু নেতারা। ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ গত জুনে সিনেট অধিবেশনে প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের টাকা জমা থাকলেও কেন প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্লেইম নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না?
ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলাকে দায়ী করেন, ‘একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই চুক্তি করা হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ ও হিসাব পরিচালক চাইলে দ্রুত সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু তাদের অবহেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ মনে করেন, বিমা দাবি মূল্যায়ন একটি বিশেষায়িত কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তহবিল থেকে দ্রুত টাকাগুলো প্রো-রাটা (আনুপাতিক) ভিত্তিতে বণ্টন করে শিক্ষার্থীদের দেওয়া উচিত। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, তারাও সমাধানের পথ খুঁজছে। নতুন করে বিমা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য গত ২৫ জুন দরপত্র আহ্বান করেছে ঢাবি প্রশাসন। ১৩ জুলাই সেই দরপত্র খোলা হয়েছে।
একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই চুক্তি করা হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ ও হিসাব পরিচালকের অবহেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা লাইফ আগে ভালোভাবে সেবা দিয়েছে। পরে অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হয়েছে, যা আমাদের জানা ছিল না। আমরা এখন বেসরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদনগুলো যাচাই করে দ্রুত টাকা পরিশোধের চেষ্টা করছি।’
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সতর্কতার সঙ্গে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে। শিগগির শিক্ষার্থীদের ঝুলে থাকা আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।’
.png)

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গুরুতর অসুস্থ; তাঁর স্থানে যিনি দায়িত্ব পেয়েছেন, তিনি আবার দেখতেই পান না। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা।
১০ ঘণ্টা আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহফুজকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার ও তাঁর বরাদ্দ সিট বাতিল করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক স ম আলী রেজার সই করা নোটিশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
০৭ আগস্ট ২০২৬
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে শিক্ষকদের গোপন যোগাযোগের অভিযোগ তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি করেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)।
০৬ আগস্ট ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সময়ে জকসুর নেতারাও শোডাউন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।
০৬ আগস্ট ২০২৬