বিশ শতকের মার্কিন সাহিত্যে অন্যতম প্রভাববিস্তারকারী লেখক ছিলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। আজ তাঁর জন্মদিন। এক জীবনে বহু ঘটনা, দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন তিনি।
ফাবিহা বিনতে হক

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের নাম শুনলেই মনে পড়ে ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’র সেই নিঃসঙ্গ বুড়ো সান্তিয়াগোর কথা, ৮৪ দিন ধরে যিনি কিউবার সমুদ্রে জাল ফেলে আছেন মাছ ধরবেন বলে। তিনিই সেই মানুষ যিনি মনে করেন, ‘ম্যান ক্যান বি ডিস্ট্রয়েড বাট নট ডিফিটেড।’ অর্থাৎ একজন মানুষ ধ্বংস হতে পারে, কিন্তু পরাজিত নয়। হয়তো এ কারণেই আর্নেস্ট হেমিংওয়ের জীবনে বারবার নানান প্রতিকূলতা এলেও তিনি পরাজিত হতে চাননি। নিজেকে বারবার ভেঙেছেন অথচ ভেঙে পড়েননি।
আর্নেস্ট হেমিংওয় ১৮৯৯ সালের ২১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ওক পার্কে জন্ম নেন। শৈশব থেকেই প্রকৃতি তাঁকে টানত। বন, নদী আর সমুদ্র ছিল প্রিয় সঙ্গী। এই অভিজ্ঞতা পরে তাঁর লেখায় বারবার ফিরে আসে। হেমিংওয়ে ছিলেন দুর্দান্ত শিকারি। তবে মাছ ধরা ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় শখ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রে কাটাতে পারতেন আনন্দে। কিউবার জেলেদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন নিয়মিত। তাঁদের জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই পরে লেখায় প্রাণ পায়। ২৭,০০০ শব্দের উপন্যাস ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি তারই উদাহরণ। ১৯৫৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। আজও বইটিকে বিশ্বসাহিত্যের ক্লাসিক হিসেবে ধরা হয়।

হেমিংওয়ের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সরলতা। তিনি কম শব্দে গভীর অনুভূতি প্রকাশ করতেন সবসময়। এই লেখনশৈলী আজও অসংখ্য লেখককে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বিশ্বাস করতেন সবকিছু লিখতে হয় না। পাঠক অনেক কিছু নিজেই অনুভব করবেন স্বাভাবিকভাবে। এই ভাবনাকেই বলা হয় ‘আইসবার্গ থিওরি’। অর্থাৎ দৃশ্যমান অংশের নিচে থাকে বিশাল গভীরতা। তাঁর প্রায় সব লেখাতেই এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
হেমিংওয়ের লেখালেখির অভ্যাসও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। তিনি বেশিরভাগ সময় দাঁড়িয়ে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। টাইপরাইটার রাখা থাকত উঁচু একটি ডেস্কে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে লিখে যেতেন। হেমিংওয়ে বিশ্বাস করতেন দাঁড়িয়ে লিখলে মনোযোগ অনেক বাড়ে। এ ছাড়া শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় থাকে তখন।
আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল বেশ আলোচিত-সমালোচিত। তিনি লিখেছিলেন, ‘একজন লেখক যখন প্রেমে পড়েন, তখনই তিনি তাঁর সেরা লেখাগুলো লেখেন।’ এই কথাটি বারবার প্রয়োগ করেছেন নিজের জীবনে। বারবার প্রেমে পড়েছেন। বিয়েও করেছেন মোট চারবার, ছিল অসংখ্য প্রেমিকা। অনেকে মনে করেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁর লেখাকে সমৃদ্ধ করেছে। ভালোবাসা, বিচ্ছেদ আর একাকীত্ব লেখায় এসেছে বারবার।

রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও জীবনে কম ছিল না হেমিংওয়ের। ‘ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ প্রকাশের পর বইটি ব্যাপক প্রশংসা পায়। এরপর তিনি আফ্রিকায় সাফারি ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সেই ভ্রমণই প্রায় তাঁর জীবন কেড়ে নিচ্ছিল; একবার নয়, দুবার। ১৯৫৪ সালের জানুয়ারিতে স্ত্রী মেরি ওয়েলশকে নিয়ে উগান্ডায় যান। সাফারির সময় তাঁরা একটি ছোট বিমানে করে মারচিসন ফলসের ওপর দিয়ে উড়ছিলেন। হঠাৎ বিমানের ইঞ্জিন কেবলে ধাক্কা খায়। বিমানটি জঙ্গলের মধ্যে বিধ্বস্ত হলেও অলৌকিকভাবে পাইলটসহ সবাই বেঁচে যান। তবে ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। পরদিন আহতদের উদ্ধার করতে আরেকটি বিমান আসে। গন্তব্যে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পর সেই বিমানের ইঞ্জিনও বিস্ফোরিত হয়। আবারও দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা। পাইলট ও মেরি জানালা ভেঙে বের হতে সক্ষম হলেও এ যাত্রায় লেখক বেশ আহত হন। বিমান থেকে বের হতে গিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। ভেতরের অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবু এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান।
এক জীবনে বহু ঘটনা, দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। দুটি বিশ্বযুদ্ধেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি ইতালিতে আমেরিকান রেড ক্রসের অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর বহু লেখায় উঠে এসেছে।
হেমিংওয়ের বাড়ির বিড়ালগুলোও ছিল অন্যরকম। ফ্লোরিডার কী ওয়েস্টে ছিল তাঁর বিখ্যাত বাড়ি। সেখানে দেখা মিলত ছয় আঙুলওয়ালা বিড়াল বাড়িজুড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। এ ধরনের বিড়ালকে বলা হয় পলিড্যাকটিল বিড়াল। একজন নাবিক তাঁকে প্রথম এ ধরনের বিড়াল উপহার দেন। পরে সেই বিড়ালের বংশধরেরা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আজও সেখানে এদের অনেক বংশধর রয়েছে। পর্যটকেরা সেই বিড়াল দেখতেও সেখানে যান।
১৯৬১ সালের ২ জুলাই আর্নেস্ট হেমিংওয়ে মারা যান। কিন্তু তাঁর মৃত্যুও জন্ম দেয় প্রচুর রহস্যের। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল একষট্টি বছর। প্রথমদিকে পরিবার ঘটনাটি দুর্ঘটনা বললেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি আত্মহত্যা ছিল।
আত্মহত্যার প্রায় দেড় বছর আগে থেকেই হেমিংওয়ের আচরণে অনেক পরিবর্তন দেখতে পান স্ত্রী মেরি ওয়েলশ। তিনি আগের মতো স্বাভাবিক থাকতে পারছিলেন না। প্রচন্ড উদ্বিগ্নতা, বিষন্নতা হয়ে ওঠে জীবনের নিত্যসঙ্গী। তাঁর ওজন দ্রুত কমে যাচ্ছিল, রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকত না। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় ছিল তাঁর অমূলক ভয় ও সন্দেহ। হেমিংওয়ের বিশ্বাস ছিল, এফবিআইয়ের গোয়েন্দারা সারাক্ষণ তাঁকে অনুসরণ করছে। তিনি মনে করতেন, বাড়ি থেকে বের হলেই কিংবা গাড়িতে উঠলেই গোয়েন্দারা তাঁর পিছু নেয়। আশঙ্কা করতেন, এফবিআই তাঁকে গোপনে হত্যা করতে পারে। পরে জানা যায়, এফবিআই সত্যিই একসময় তাঁর ওপর নজরদারি চালিয়েছিল। তবে শেষ জীবনে হেমিংওয়ের ভয় ও সন্দেহ বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ছিল।

হেমিংওয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন যে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অথচ বাস্তবে তাঁর ব্যাংকে যথেষ্ট পয়সাকড়ি ছিল। স্ত্রী মেরি তাঁকে বোঝানোর জন্য একটি ব্যাংকের কর্মকর্তাকেও ডেকে আনেন। সেই কর্মকর্তা হিসাব দেখিয়ে জানান, অর্থ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু হেমিংওয়ে তা বিশ্বাস করতে পারেননি। এর মধ্যে আরেকটি ভয় তাঁকে গ্রাস করে। তিনি মনে করতে থাকেন, তাঁর লেখা আ মুভেবল ফিস্ট প্রকাশিত হলে মানহানির মামলায় জড়িয়ে পড়বেন। এই আশঙ্কারও বাস্তব কোনো ভিত্তি ছিল না। কিন্তু তাঁর অসুস্থ মানসিক অবস্থার কারণে এসব ভয় দিন দিন আরও বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শে হেমিংওয়েকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে সেখানে দুই দফা সেখানে চিকিৎসা নেন।
মৃত্যুর আগে রাতেও স্ত্রী মেরি ওয়েলশের সঙ্গে কথা বলেছিলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। পরদিন সকালে মেরি বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। পাশের ঘরে গিয়ে স্বামীর নাম ধরে ডাকলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে খুঁজতে গিয়ে দেখেন, হেমিংওয়ে আর বেঁচে নেই। বন্দুকে গুলি মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন লেখক।
জানা যায়, হেমিংওয়ের পরিবারের ইতিহাসেও এমন ট্র্যাজেডি ছিল। বাবা ক্ল্যারেন্স হেমিংওয়ে বিষণ্নতা ও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে আত্মহত্যা করেছিলেন। পরে তাঁর ছোট ভাই লেস্টারও একই পথ বেছে নেন। ছোট বোন উরসুলাও ক্যানসারের সঙ্গে মানসিক বিষণ্নতায় ভুগে আত্মহত্যা করেন। বহু বছর পরে তাঁর নাতনি মারগো হেমিংওয়ের মৃত্যু অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে হয়। অনেক গবেষক এটিকে সম্ভাব্য আত্মহত্যা বলে মনে করলেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের নাম শুনলেই মনে পড়ে ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’র সেই নিঃসঙ্গ বুড়ো সান্তিয়াগোর কথা, ৮৪ দিন ধরে যিনি কিউবার সমুদ্রে জাল ফেলে আছেন মাছ ধরবেন বলে। তিনিই সেই মানুষ যিনি মনে করেন, ‘ম্যান ক্যান বি ডিস্ট্রয়েড বাট নট ডিফিটেড।’ অর্থাৎ একজন মানুষ ধ্বংস হতে পারে, কিন্তু পরাজিত নয়। হয়তো এ কারণেই আর্নেস্ট হেমিংওয়ের জীবনে বারবার নানান প্রতিকূলতা এলেও তিনি পরাজিত হতে চাননি। নিজেকে বারবার ভেঙেছেন অথচ ভেঙে পড়েননি।
আর্নেস্ট হেমিংওয় ১৮৯৯ সালের ২১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ওক পার্কে জন্ম নেন। শৈশব থেকেই প্রকৃতি তাঁকে টানত। বন, নদী আর সমুদ্র ছিল প্রিয় সঙ্গী। এই অভিজ্ঞতা পরে তাঁর লেখায় বারবার ফিরে আসে। হেমিংওয়ে ছিলেন দুর্দান্ত শিকারি। তবে মাছ ধরা ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় শখ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রে কাটাতে পারতেন আনন্দে। কিউবার জেলেদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন নিয়মিত। তাঁদের জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই পরে লেখায় প্রাণ পায়। ২৭,০০০ শব্দের উপন্যাস ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি তারই উদাহরণ। ১৯৫৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। আজও বইটিকে বিশ্বসাহিত্যের ক্লাসিক হিসেবে ধরা হয়।

হেমিংওয়ের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সরলতা। তিনি কম শব্দে গভীর অনুভূতি প্রকাশ করতেন সবসময়। এই লেখনশৈলী আজও অসংখ্য লেখককে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বিশ্বাস করতেন সবকিছু লিখতে হয় না। পাঠক অনেক কিছু নিজেই অনুভব করবেন স্বাভাবিকভাবে। এই ভাবনাকেই বলা হয় ‘আইসবার্গ থিওরি’। অর্থাৎ দৃশ্যমান অংশের নিচে থাকে বিশাল গভীরতা। তাঁর প্রায় সব লেখাতেই এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
হেমিংওয়ের লেখালেখির অভ্যাসও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। তিনি বেশিরভাগ সময় দাঁড়িয়ে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। টাইপরাইটার রাখা থাকত উঁচু একটি ডেস্কে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে লিখে যেতেন। হেমিংওয়ে বিশ্বাস করতেন দাঁড়িয়ে লিখলে মনোযোগ অনেক বাড়ে। এ ছাড়া শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় থাকে তখন।
আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল বেশ আলোচিত-সমালোচিত। তিনি লিখেছিলেন, ‘একজন লেখক যখন প্রেমে পড়েন, তখনই তিনি তাঁর সেরা লেখাগুলো লেখেন।’ এই কথাটি বারবার প্রয়োগ করেছেন নিজের জীবনে। বারবার প্রেমে পড়েছেন। বিয়েও করেছেন মোট চারবার, ছিল অসংখ্য প্রেমিকা। অনেকে মনে করেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁর লেখাকে সমৃদ্ধ করেছে। ভালোবাসা, বিচ্ছেদ আর একাকীত্ব লেখায় এসেছে বারবার।

রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও জীবনে কম ছিল না হেমিংওয়ের। ‘ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ প্রকাশের পর বইটি ব্যাপক প্রশংসা পায়। এরপর তিনি আফ্রিকায় সাফারি ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সেই ভ্রমণই প্রায় তাঁর জীবন কেড়ে নিচ্ছিল; একবার নয়, দুবার। ১৯৫৪ সালের জানুয়ারিতে স্ত্রী মেরি ওয়েলশকে নিয়ে উগান্ডায় যান। সাফারির সময় তাঁরা একটি ছোট বিমানে করে মারচিসন ফলসের ওপর দিয়ে উড়ছিলেন। হঠাৎ বিমানের ইঞ্জিন কেবলে ধাক্কা খায়। বিমানটি জঙ্গলের মধ্যে বিধ্বস্ত হলেও অলৌকিকভাবে পাইলটসহ সবাই বেঁচে যান। তবে ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। পরদিন আহতদের উদ্ধার করতে আরেকটি বিমান আসে। গন্তব্যে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পর সেই বিমানের ইঞ্জিনও বিস্ফোরিত হয়। আবারও দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা। পাইলট ও মেরি জানালা ভেঙে বের হতে সক্ষম হলেও এ যাত্রায় লেখক বেশ আহত হন। বিমান থেকে বের হতে গিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। ভেতরের অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবু এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান।
এক জীবনে বহু ঘটনা, দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। দুটি বিশ্বযুদ্ধেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি ইতালিতে আমেরিকান রেড ক্রসের অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর বহু লেখায় উঠে এসেছে।
হেমিংওয়ের বাড়ির বিড়ালগুলোও ছিল অন্যরকম। ফ্লোরিডার কী ওয়েস্টে ছিল তাঁর বিখ্যাত বাড়ি। সেখানে দেখা মিলত ছয় আঙুলওয়ালা বিড়াল বাড়িজুড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। এ ধরনের বিড়ালকে বলা হয় পলিড্যাকটিল বিড়াল। একজন নাবিক তাঁকে প্রথম এ ধরনের বিড়াল উপহার দেন। পরে সেই বিড়ালের বংশধরেরা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আজও সেখানে এদের অনেক বংশধর রয়েছে। পর্যটকেরা সেই বিড়াল দেখতেও সেখানে যান।
১৯৬১ সালের ২ জুলাই আর্নেস্ট হেমিংওয়ে মারা যান। কিন্তু তাঁর মৃত্যুও জন্ম দেয় প্রচুর রহস্যের। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল একষট্টি বছর। প্রথমদিকে পরিবার ঘটনাটি দুর্ঘটনা বললেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি আত্মহত্যা ছিল।
আত্মহত্যার প্রায় দেড় বছর আগে থেকেই হেমিংওয়ের আচরণে অনেক পরিবর্তন দেখতে পান স্ত্রী মেরি ওয়েলশ। তিনি আগের মতো স্বাভাবিক থাকতে পারছিলেন না। প্রচন্ড উদ্বিগ্নতা, বিষন্নতা হয়ে ওঠে জীবনের নিত্যসঙ্গী। তাঁর ওজন দ্রুত কমে যাচ্ছিল, রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকত না। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় ছিল তাঁর অমূলক ভয় ও সন্দেহ। হেমিংওয়ের বিশ্বাস ছিল, এফবিআইয়ের গোয়েন্দারা সারাক্ষণ তাঁকে অনুসরণ করছে। তিনি মনে করতেন, বাড়ি থেকে বের হলেই কিংবা গাড়িতে উঠলেই গোয়েন্দারা তাঁর পিছু নেয়। আশঙ্কা করতেন, এফবিআই তাঁকে গোপনে হত্যা করতে পারে। পরে জানা যায়, এফবিআই সত্যিই একসময় তাঁর ওপর নজরদারি চালিয়েছিল। তবে শেষ জীবনে হেমিংওয়ের ভয় ও সন্দেহ বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ছিল।

হেমিংওয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন যে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অথচ বাস্তবে তাঁর ব্যাংকে যথেষ্ট পয়সাকড়ি ছিল। স্ত্রী মেরি তাঁকে বোঝানোর জন্য একটি ব্যাংকের কর্মকর্তাকেও ডেকে আনেন। সেই কর্মকর্তা হিসাব দেখিয়ে জানান, অর্থ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু হেমিংওয়ে তা বিশ্বাস করতে পারেননি। এর মধ্যে আরেকটি ভয় তাঁকে গ্রাস করে। তিনি মনে করতে থাকেন, তাঁর লেখা আ মুভেবল ফিস্ট প্রকাশিত হলে মানহানির মামলায় জড়িয়ে পড়বেন। এই আশঙ্কারও বাস্তব কোনো ভিত্তি ছিল না। কিন্তু তাঁর অসুস্থ মানসিক অবস্থার কারণে এসব ভয় দিন দিন আরও বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শে হেমিংওয়েকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে সেখানে দুই দফা সেখানে চিকিৎসা নেন।
মৃত্যুর আগে রাতেও স্ত্রী মেরি ওয়েলশের সঙ্গে কথা বলেছিলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। পরদিন সকালে মেরি বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। পাশের ঘরে গিয়ে স্বামীর নাম ধরে ডাকলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে খুঁজতে গিয়ে দেখেন, হেমিংওয়ে আর বেঁচে নেই। বন্দুকে গুলি মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন লেখক।
জানা যায়, হেমিংওয়ের পরিবারের ইতিহাসেও এমন ট্র্যাজেডি ছিল। বাবা ক্ল্যারেন্স হেমিংওয়ে বিষণ্নতা ও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে আত্মহত্যা করেছিলেন। পরে তাঁর ছোট ভাই লেস্টারও একই পথ বেছে নেন। ছোট বোন উরসুলাও ক্যানসারের সঙ্গে মানসিক বিষণ্নতায় ভুগে আত্মহত্যা করেন। বহু বছর পরে তাঁর নাতনি মারগো হেমিংওয়ের মৃত্যু অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে হয়। অনেক গবেষক এটিকে সম্ভাব্য আত্মহত্যা বলে মনে করলেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
.png)

১৯৮৬ সালের ২১শে জুলাই। আসামের করিমগঞ্জের বিক্ষোভ মিছিলে জড়ো হয়েছে প্রতিবাদী জনতা। সেই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন জগন্ময় দেব ও দিব্যেন্দু দাস।
৬ ঘণ্টা আগে
ঢাকা ও কলকাতা—ভৌগোলিক মানচিত্রে কাঁটাতারের এপারে-ওপারে থাকা দুটি শহর। ভাষা এক, আবেগের টানও এক। কিন্তু সাহিত্যের অন্দরমহলে এই দুই বাংলার লেনদেনের সমীকরণটা সব সময় সমান রেখায় চলেনি। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের আলোচনা উঠলে একটি নাম সবার আগে, সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ভেসে ওঠে। তিনি হুমায়ূন আহমেদ।
৯ ঘণ্টা আগে
কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, এটা খ্রিষ্টপূর্ব যুগের খেলা। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের ধারণা, দাবা এই উপমহাদেশেই আবিষ্কৃত হয়েছিল। আজ থেকে ১ হাজার ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ‘চতুরঙ্গ বা শতরঞ্জি’ খেলা হয়েছে, যা দাবা খেলারই অন্য নাম।
২০ জুলাই ২০২৬
আবার আয়েশা ফয়েজের মৃত্যুর পরে রয়্যালটির একটা অংশ হুমায়ূনের ভাই-বোনেরাও পেতেন, কিন্তু লেখকের ভাই-বোনেরা সেই অংশ নেন না বলে জানিয়েছেন প্রকাশকেরা।
১৯ জুলাই ২০২৬