ভিডিও ফাঁসের পরে তরুণীকে স্ত্রী দাবি জামায়াত এমপির

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি

তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আসার পরে ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছেন গাজী নজরুল।

কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য গাজী নজরুল ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর ভিডিওর বিষয়ে জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল প্রথমে জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ভিডিওটি তৈরি করা। তবে একাধিক ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠানের তথ্যে এসেছে, ভিডিওটি আসল। তবে কোথা থেকে ধারণ করা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। গাজী নজরুল আমাদের জানিয়েছেন– ‘ভিডিওতে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে এই বিয়ে হয়েছে’। তবে ভিডিওটি কীভাবে সামাজিক মাধ্যমে এসেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’

দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ তিনি (গাজী নজরুল) নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে আমাদের জানানো হয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি হয়েছে।’

এই বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। তবে তিনি মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওর একটি ব্যাখ্যা দেন। সেখানে গাজী নজরুল লিখেছেন, ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে যান। সেখানে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিস। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

মাসুম বিল্লাহর অফিসে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫-৭ অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের কক্ষে ঢুকেন। তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন বলে লিখেছেন গাজী নজরুল।

কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য গাজী নজরুল ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি অভিযোগ করেন, আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়া গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তী সময়ে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি লেখেন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

গাজী নজরুল বলেছেন, পরবর্তী সময়ে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এই ভিডিওকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করার বিষয়টি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই এমপি আরও লেখেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। যারা তাঁর সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে একটি ভিডিওতে ওই তরুণী বলেন, ‘আমরা যেটি করেছি, সেটি বৈধ। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে করা হয়েছে।’ তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহও ভিডিও বক্তব্য দিয়েছেন। আরেক ভিডিও বক্তব্যে প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম বলেছেন, ‘আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম বেগমের বিয়ে হয়েছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত