শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ কাল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ১৩: ৫০
শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় বিচার শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এ ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন তিনি।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্গজ পিটার গোমেজ জানান, অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য সকাল পৌনে ৮টার দিকে সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনায় বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে আজিজুর রহমান দুলুকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহকে নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি অ্যাপার্টমেন্টে নৃশংস ওই ঘটনা ঘটে। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের ভাড়াবাসার অন্য একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে ভাড়া থাকত সোহেল ও স্বপ্না।

ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খোঁজাখুঁজির সময় আসামিদের কক্ষের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান মা। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেলে অন্যদের সহায়তায় দরজা ভাঙা হয়। ভেতরে ঢুকে তারা রামিসার মাথা বিচ্ছিন্ন করা দেহ পান। ওই সময় স্বপ্না ঘরেই ছিলেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানিয়েছেন, রামিসাকে বাথরুমে ধর্ষণের পর হত্যা করেন ৩২ বছরের সোহেল। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ডাকাডাকির কারণে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল।

স্বপ্নাকে পরে ওই বাসা থেকেই আটক করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা।

ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। তবে ‘বিচার হবে না’ বলে আব্দুল হান্নানের একটি বক্তব্য ওই সময় দেশব্যাপী সাড়া ফেলে। এরপর সরকার থেকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসায় গিয়ে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখাও করেন।

পরবর্তীতে পাঁচ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ২৪ মে পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

সম্পর্কিত