দেশের ৩০ উপজেলায় হামের টিকাদান শুরু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৪১
হামের টিকাদান কর্মসূচি

হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুরা হাম-রুবেলার টিকা পাবে। কেউ আগে পেয়ে থাকলেও চলমান ক্যাম্পেইনে টিকা নিতে পারবে। টিকা প্রদান কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হামের পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, ‘মূলত যেসব এলাকায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে, সেসব হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।’ টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বর আছে এমন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে।’

যেসব এলাকায় চলবে টিকাদান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী যে ১৮টি জেলার ৩০ উপজেলা ও পৌরসভায় এই টিকাদান চলবে, সেগুলো হলো– রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাটোর সদর ও যশোর সদর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এসব এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে এখন টিকা দেওয়া হবে না। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাদের টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রোগের জটিলতা কমাতে হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সব রোগীকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সম্পর্কিত