leadT1ad

বিমান এমডির বাসায় শিশু নির্যাতন: দুই গৃহকর্মীকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সাফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানের উত্তরায় শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে পর্যায়ক্রমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। কারাগারে থাকা দুই গৃহকর্মী, সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তারকে আলাদাভাবে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, বিমানের এমডির বাসায় শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার তদন্তের জন্য আসামিদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করব। দীর্ঘদিন ধরে কেন এমন নির্যাতন চালিয়েছে, সে বিষয়ে প্রত্যেক আসামিকে আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আজ মঙ্গলবার প্রথমেই দুই গৃহকর্মী সুফিয়া ও রুপালি বেগমের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাফিকুর রহমান ও বিথী আক্তারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এর আগে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরায় ৯ নম্বর সেক্টরে অভিযান চালিয়ে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তার এবং তাঁদের বাসার দুই গৃহকর্মী সুফিয়া ও রুপালি বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীর বাবা গোলাম মোস্তফা উত্তরা পশ্চিম থানায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি একজন হোটেল কর্মচারী। আর্থিক দুরবস্থার কারণে তিনি তার একমাত্র কন্যাকে (১১) গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি বাসায় শিশু দেখাশোনার কাজে রাখেন। ওই বাসার মালিক বিথী ও তার স্বামী সাফিকুর রহমান ভবিষ্যতে শিশুটির ভরণপোষণ ও বিবাহের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ আশ্বাসে ২০২৫ সালের জুন মাসে তিনি তার মেয়েকে তাদের হেফাজতে রেখে যান।

প্রথমদিকে গোলাম মোস্তফা নিয়মিত মেয়ের সঙ্গে দেখা করলেও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না। সর্বশেষ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বিথী ফোন করে জানায়, শিশুটি অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় শিশুটিকে বাবার কাছে হস্তান্তর করা হলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও দগদগে পোড়া চিহ্ন দেখা যায়। সে স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না।

আঘাতের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। পরে শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সময় শিশুটি জানায়, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর থেকে বিথী, সাফিকুর রহমান এবং আরও দুইজন গৃহকর্মী বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর করে এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়।

সহিংসতার শিকার শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের কাছে আরও জানান, এক বছর বয়সেই মেয়ের মা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মেয়ের কষ্ট হবে-এই ভেবে তিনি আর বিয়ে করেননি। কিন্তু আর্থিক সংকট ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সাত মাস আগে তিনি তার একমাত্র মেয়েকে উত্তরার এক বিত্তবান পরিবারে কাজে দিয়েছিলেন। ওই পরিবার বলেছিল যে মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ দেবে তারা। অথচ এই পরিবারের সদস্যদের নির্মম নির্যাতনে সেই মেয়েই এখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী, তার শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন। সাত মাস ধরে নির্মম নির্যাতন করেছে ১১ বছর বয়সী মেয়েটিকে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত