leadT1ad

এপস্টেইন ফাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আর কী আছে

ছবি: সংগৃহীত

যৌন অপরাধ, ক্ষমতা ও গোপন আন্তর্জাতিক যোগাযোগের এক অন্ধকার অধ্যায়ের নাম—‘এপস্টেইন ফাইলস’। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দীর্ঘ তদন্তে তৈরি এই নথিগুলোতে এবার উঠে এসেছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও। গবেষণা, দাতব্য প্রকল্প, জলবায়ু উদ্বাস্তু, রাজনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক যোগাযোগ—সব মিলিয়ে জেফরি এপস্টেইনের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের উপস্থিতি ছিল বিস্ময়করভাবে বিস্তৃত। সদ্য প্রকাশিত লাখ লাখ নথি ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, এসব যোগাযোগের অনেকটাই আজও রহস্যে ঘেরা।

এপস্টেইনের অপরাধ কার্যক্রম প্রায় দুই দশক ধরে চলেছে বলে নথিতে বলা হয়েছে। এই ফাইলগুলোতে রয়েছে ৬০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা। এতে আদালতের নথি, এফবিআই রিপোর্ট, ইমেইল, ভিডিও, ছবি ও অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে।

২০২৬ সালের শুরুতে এই নথিগুলো আবার আলোচনায় আসে। কারণ কংগ্রেস এসব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। সবশেষে গত ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আরও ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা প্রকাশ করে। এটি ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নথি প্রকাশ।

কেন এই নথি বিতর্কিত

এই নতুন নথিতে উঠে আসে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের আরও তথ্য। তবে অনেক অংশ কালো করে দেওয়া হয়েছে। অনেক তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। এতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। এগুলো আইনগত, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল।

১. প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম

এই ফাইলগুলোতে বহু ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নাম এসেছে। এর মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। নতুন নথিতে তাঁর নাম এসেছে এক হাজারেরও বেশি বার।

এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বিলিয়নিয়ার বিল গেটস ও ইলন মাস্ক, ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, রিচার্ড ব্র্যানসন এবং ল্যারি সামার্সের নামও রয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রেই নামগুলো এসেছে সামাজিক যোগাযোগ বা সংবাদ প্রতিবেদনের সূত্রে। তবে কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে যাচাই না হওয়া যৌন নিপীড়নের অভিযোগ।

২০২৬ সালের নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে এফবিআই-এর নোট প্রকাশ করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে বিবেচিত হয়েছে।

নথিতে এপস্টেইনের দণ্ডের পর স্টিভ ব্যাননের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের কথাও রয়েছে। এ কারণে সমালোচকরা বলছেন, এসব নথি দেখায় কীভাবে প্রভাবশালীরা দায় এড়িয়ে গেছেন।

২. এপস্টেইনের মৃত্যু ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইন ‘আত্মহত্যা করেন’। সরকারিভাবে একে আত্মহত্যা বলা হয়েছে। তবে বহু মানুষ এটি বিশ্বাস করেন না। অনেকে দাবি করেন, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর সহযোগীদের রক্ষা করতেই নাকি এমনটি করা হয়।

ফাইলগুলোতে বলা হয়েছে, ব্ল্যাকমেইলের জন্য কোনো ‘ক্লায়েন্ট লিস্ট’ পাওয়া যায়নি। তবে নথির আংশিক প্রকাশ নতুন ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে আরও উসকে দিয়েছে।

কিউঅ্যানন ঘরানার কিছু গোষ্ঠী এসব তত্ত্ব ছড়াচ্ছে। ট্রাম্প সমর্থকদের একাংশ শুরুতে স্বচ্ছতার পক্ষে ছিল। পরে তারা দাবি করে, ডেমোক্র্যাটরা তথ্য বানিয়েছে।

কিছু তত্ত্বে এমনও বলা হয়েছে, এপস্টেইন নাকি ইসরায়েলের এজেন্ট ছিলেন। এতে বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকেও মোড় নেয়।

৩. রাজনৈতিক টানাপোড়েন

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নথি প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি বাধা দেন। তিনি একে ‘ডেমোক্র্যাটদের সাজানো কেলেঙ্কারি’ বলে দাবি করেন।

২০২৫ সালের নভেম্বরে কংগ্রেস ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাস করে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

বিচার বিভাগ জানায়, মোট ৬০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় মাত্র ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা। অনেক অংশ কেটে ফেলা হয়।

কারণ হিসেবে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা, শিশু নির্যাতনের উপাদান এবং চলমান মামলার বিষয়। এতে উভয় পক্ষই অসন্তুষ্ট হয়।

রিপাবলিকানরা বলেন, ট্রাম্পকে রক্ষা করতেই তথ্য লুকানো হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট ও ভুক্তভোগীদের পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এটি বিশ্বাসঘাতকতা।

৪. সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন

এই নথিতে উঠে এসেছে ধনী ও ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার চিত্র। হার্ভার্ড ও এমআইটির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্য রয়েছে। এতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের শোষণের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে এপস্টেইন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, বিচার পাওয়ার সুযোগ হারানো হলো কেন।

এই নথি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। বাংলাদেশে ফেসবুকেও আলোড়ন চলছে।

এপস্টেইন ফাইলে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ বাংলাদেশের নাম একাধিকবার পাওয়া গেছে। এই নথিগুলোতে কোথাও সরাসরি কোনো অপরাধ প্রমাণ হয়নি। তবে এতে এপস্টেইনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিস্তৃতি স্পষ্ট হয়েছে।

নথিতে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তারা এমন কাজ চাইত, যা দ্রুত ও প্রভাবশালীভাবে কেবল তিনিই করিয়ে দিতে পারতেন বলে মনে করা হতো।

২০১০ সালের ৪ জানুয়ারির একটি মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, জেফরি এপস্টেইনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাংলাদেশ ও ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। তবে প্রকাশিত নথিগুলোতে এই সফরের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা উল্লেখ করা হয়নি।

কার্বন ক্রেডিট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

একাধিক ইমেইলে বলা হয়েছে, এপস্টেইন কার্বন ক্রেডিট বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন। এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ওয়েস্ট কনসার্ন বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন। তাঁর সঙ্গে এপস্টেইনের ইমেইল যোগাযোগ ছিল।

আরেক ইমেইলে বলা হয়, এপস্টেইন আইআরআরসি নামের একটি প্রকল্পে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। এই প্রকল্পের সঙ্গেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয় জড়িত ছিল।

ব্র্যাক ও আইসিডিডিআরবিতে গবেষণা প্রসঙ্গ

একটি ইমেইলে উল্লেখ আছে, ব্র্যাক থেকে একজন ডকুমেন্টারিয়ান নিয়োগের কথা। তাঁকে টিকাদান প্রকল্প নিয়ে গবেষণার জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

বিভিন্ন ব্যক্তি কাছ থেকে এপস্টেইন নিয়মিত অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের বিষয়ে তথ্য পেতেন। ক্লাইমেট মাইগ্র্যান্টস বা জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত মানুষ তাঁর ও তাঁর সহযোগীদের ব্র্যাকের সঙ্গে কাজের প্রাসঙ্গিক বিষয় হওয়ায়, সেই সূত্রে বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি বারবার উঠে আসত।

আরেক জায়গায় আইসিডিডিআরবির নাম পাওয়া যায়। এক ব্যক্তি একে ‘ভালো বিনিয়োগের জায়গা’ বলে উল্লেখ করেন। ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল জেফরি এপস্টেইনকে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী একটি ইমেইল পাঠান।

ইমেইলে ঢাকার আইসিডিডিআরবিকে একটি খ্যাতনামা জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ‘অত্যন্ত বিখ্যাত স্থান’ এবং ‘সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান’ বলে বর্ণনা করা হয়।

বার্তাটিতে অন্ত্রের জীবাণুবিষয়ক (এন্টারিক মাইক্রোবায়োলজি) গবেষণাভিত্তিক একটি প্রোবায়োটিক প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, ১০ বছরের জন্য এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এতে ৩ শতাংশ নিশ্চিত মুনাফার কথাও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে এটিকে একটি দাতব্য সুযোগ হিসেবেও তুলে ধরা হয়।

একাধিক ইমেইলে একটি ব্যর্থ ‘কলেরা’ প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। একটি ইমেইল কথোপকথনে অস্পষ্টভাবে ‘স্ট্রিং থিওরি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ইমেইলটির কথোপকথনের একটি অংশে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশ, স্ট্রিং থিওরি।’ এর অর্থ কী, তা পরিষ্কার নয়।

২০১৫ সালের ১৪ জুলাইয়ের একটি আইমেসেজ কথোপকথনে একজন সহযোগী জেফ্রি এপস্টাইনকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি বাংলাদেশে কী চেষ্টা করেছিলে? আমার তো মনে পড়ছে না।’

জবাবে এপস্টাইন লেখেন, ‘আমি একবার চেষ্টা করেছিলাম, বাংলাদেশে সহায়তা করতে, কলেরা ইত্যাদি বিষয়ে। পরে এতে মিলিয়ন ডলার গেছে, ফলাফল ছিল পাগলামির মতো—সবই খারাপ।’

এই কথোপকথন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এপস্টেইন বাংলাদেশে কলেরা গবেষণা বা জনস্বাস্থ্য–সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগ বা বিনিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেটি ব্যর্থ হয় এবং এতে বিপুল অর্থ ক্ষতির পাশাপাশি নেতিবাচক ফলাফল দেখা দেয়।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ

একটি ইমেইলে বলা হয়, একটি বৈঠকের সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তখন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাত ৮টায় বৈঠকে ছিলেন।

আরেক নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইন বিকাশ নিয়ে একটি নিবন্ধ পড়েন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বহু প্রবন্ধও সংগ্রহ করতেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, একজন নরওয়েজিয়ান কূটনীতিক এপস্টেইনকে নিয়মিত বিভিন্ন প্রবন্ধ পাঠাতেন। সেগুলোর মধ্যে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক খবরও থাকত।

শ্রমিক ও মানবিক উদ্বেগ

একটি মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, এপস্টেইনের বাড়ি বা ম্যাসাজ পার্লারে বাংলাদেশি গৃহকর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সেখানে এক ‘বাংলাদেশি দম্পতি’-র কথাও উল্লেখ আছে, যারা নাকি ব্যবস্থাপনা পদে ছিলেন। তবে তাঁদের সঙ্গে যে নামটি যুক্ত করা হয়েছে, সেটি শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত বলে মনে হয়।

আছে ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম

একটি কেবল টিভির বিল বা ইনভয়েস পাওয়া গেছে, যেখানে গ্রাহকের পরিচয় গোপন (রেডাক্টেড) করা রয়েছে। যদি সেটি এপস্টেইনেরই হয়ে থাকে, তাহলে বোঝা যায় তিনি বাংলাদেশি অথবা বাংলা ভাষার টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য অর্থ পরিশোধ করছিলেন।

একটি ইমেইলে দেখা যায়, একাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে এপস্টেইন এক বাংলাদেশি গবেষককে প্রত্যাখ্যান করেন।

আরেকটি নথিতে জাতিসংঘের ৬৭তম সাধারণ অধিবেশনের একটি কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে। সেখানে লেখা আছে, ‘প্রেসিডেন্টস প্রাইভেট ডিনার ইভেন্ট—জেফরি এপস্টেইন: রাত ৮টা থেকে ১০টা ৩০।’

একটি নথিতে নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর বিল রিচার্ডসনকে অর্থদাতাদের তালিকায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম পাওয়া গেছে।

এই তালিকাগুলো ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়, কারণ বিল রিচার্ডসনের সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনের সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, আবদুল আউয়াল মিন্টু ২০০৬ সালে বিল রিচার্ডসনের নির্বাচনী প্রচারণায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেন।

এই রিচার্ডসনের নাম এপস্টেইনের দ্বীপগামী ফ্লাইট লগে পাওয়া যায় এবং এপস্টেইনের ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে তাঁর বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

তবে মিন্টু ও এপস্টেইনের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত